IQNA

কুরআন কি বলে? / ৫৩

জীবনের জয়-পরাজয়ে আমাদের সুযোগ

19:46 - June 10, 2023
সংবাদ: 3473859
তেহরান (ইকনা): জীবনে, ব্যর্থতা থাকে তেমনি এর পাশে বিজয়ও থাকে। আমরা ব্যর্থ হলে যে প্রশ্নটি আমাদের মাথায় আসে তা হল, কেন আমরা ব্যর্থ হলাম? কেন আমরা সফল হয়নি? এই প্রশ্নগুলির আড়ালে আমরা দুঃখ প্রকাশ করে থাকি।
এরূপ অবস্থায় কুরআন আমাদেরকে জিজ্ঞেস করে, তোমাদের এক দুঃখ-কষ্ট কিসের জন্য?!
إِنْ يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِثْلُهُ وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَتَّخِذَ مِنْكُمْ شُهَدَاءَ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ؛ 
যদি (কর্মক্ষেত্রে) কোন আঘাত তোমাদের পীড়া দিয়ে থাকে তবে তার সমান আঘাত পীড়া দিয়েছে দলকে। আর এইসব দিনগুলো আমরা লোকদের কাছে পালাক্রমে এনে থাকি যাতে আল্লাহ অবধারণ করতে পারেন তাদের যারা ঈমান এনেছে, আর যাতে তোমাদের মধ্যে থেকে সাক্ষী মনোনীত করতে পারেন। আর আল্লাহ অন্যায়কারীদের ভালোবাসে না। (সূরা আলে ইমরান: ১৪০)
তাফসীরে নেমুনের আলোকে, এই আয়াতটি ঐশী সুন্নতসমূহের একটি; যা মানব জীবনে তিক্ত ও মিষ্টি ঘটনা ঘটার বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে এবং যার কোন অবস্থাটিই স্থায়ী নয়। আল্লাহ ক্রমাগত মানুষের জীবনে এই দিনগুলি আনতে থাকে, যাতে এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে আল্লাহ তার সুন্নত প্রকাশ করতে পারেন। وَ تِلْکَ الْأَیَّامُ نُداوِلُها بَیْنَ النَّاسِ
 
অতঃপর, এসকল দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার ফলাফলের প্রতি ইশারা করে বলেন: এর কারণ হল বিশ্বাসীদেরকে ঈমানের দাবিদারদের হতে পৃথক করা। وَ لِیَعْلَمَ اللَّهُ الَّذِینَ آمَنُوا এই বেদনাদায়ক ঘটনার অপর একটি ফলাফল হল, ইসলামের পথে ত্যাগ স্বীকার করা وَ یَتَّخِذَ مِنْکُمْ شُهَداءَ
মূলত, যে জাতি তার পবিত্র লক্ষ্যের পথে ত্যাগ স্বীকার না করে, তারা সর্বদা নিজেদেরকে ছোট মনে করে, কিন্তু যখন তারা ত্যাগ স্বীকার করে, তখন নিজেদেরকে এবং তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মহত্ত্বের সাথে দেখে।
এই আয়াতের শেষাংশে একটি মজার বিষয় রয়েছে, তা হল "আল্লাহ অত্যাচারীদের পছন্দ করেন না।" وَ اللَّهُ لا یُحِبُّ الظَّالِمِینَ আর তাই তিনি সকল মুমিন ও অবিশ্বাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, কোন অবস্থাতেই আল্লাহ অত্যাচারীদের সমর্থন করেন না।
পয়েন্টসমূহ: 
তাফসীরে নেমুনেতে দেখতে পাই, এই আয়াত এমন একটি বাস্তবতাকে বর্ণনা করে যে, যদি আপনি সত্যের জন্য এবং আল্লাহর রাস্তায় জীবনের ক্ষতির সম্মুখীন হন, তবে জেনে রাখুন আপনার শত্রুরাও এরূপ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। যদি আপনি বিজয়ী নাও হন তবে জেনে রাখুন আপনার শত্রুও কোন না কোন স্থানে পরাজিত হয়েছে। অতএব কষ্টের সময় ধৈর্যশীল হও।
যদিও সাধারণত «شهداء»، «شهيد» এবং «شاهد»শব্দগুলি কুরআনে সাক্ষী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, কিন্তু শানে নুযূল, যুদ্ধ, আহত ও নিহত হবার মত বিষয় থেকে অনুমেয় যে এই আয়াতে شهداء বলতে আল্লাহর পথে মৃত্যুবরণকারীকে বুঝানো ভুল হয়নি।  নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি মুসলমানদের সুদৃঢ় মনোভাব থাকতে হবে:
ক) أَنْتُمُ الْأَعْلَوْنَতোমরা উচ্চ মর্যাদার।
খ) فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌতোমাদের শত্রুরাও আহত হয়েছে।
গ) تِلْكَ الْأَيَّامُ نُداوِلُها এই দুর্দিনের অবসান ঘটবে।
ঘ) وَ لِيَعْلَمَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا আল্লাহ মুনাফিকদেরকে মুমিনদের মধ্য থেকে পৃথক করেন।
ঙ) وَ يَتَّخِذَ مِنْكُمْ شُهَداءَ আল্লাহ তোমাদের মধ্য হতে একটি দলকে ভবিষ্যতের জন্য নির্বাচন করেন।
চ) وَ اللَّهُ لا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ আল্লাহ তোমাদের শত্রুদেরকে পছন্দ করেন না।
ইমাম সাদিক (আ.) এই আয়াত সম্পর্কে বলেছেন: যেদিন থেকে আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করেছেন, সেদিন থেকেই আল্লাহ ও শয়তানের ক্ষমতা একে অপরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। আল্লাহর পূর্ণ ক্ষমতা ও বিচারব্যবস্থা ইমাম মাহদী (আ.)-এর আবির্ভাবের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।
বার্তাসমূহ:
১- মুসলমানদের কাফেরদের চেয়ে কম ধৈর্যশীল হওয়া উচিত নয়। فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِثْلُهُ
২- তিক্ত এবং মিষ্ট ঘটনা স্থায়ী হয় না। تِلْكَ الْأَيَّامُ نُداوِلُها بَيْنَ النَّاسِ
৩- যুদ্ধ ও জীবনের উত্থান-পতনে বিশ্বাসী মানুষ মুক্ত বিশ্বাসের দাবিদার হিসেবে পরিচিত।  لِيَعْلَمَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا
৪- আল্লাহ স্বয়ং তোমাদের নিকট থেকে সাক্ষ্য নিয়েছেন যে, তার অবাধ্যতা তোমাদেরকে ব্যর্থতার দিকে নিয়ে যাবে। وَ يَتَّخِذَ مِنْكُمْ شُهَداءَ
৫- কাফেরদের সাময়িক বিজয় তাদের প্রতি আল্লাহর ভালোবাসার লক্ষণ নয়। اللَّهُ لا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ
৬- ঐতিহাসিক ঘটনা এবং ধারা আল্লাহর ইচ্ছার মাধ্যমে অর্জন করা যায়। نُداوِلُها
captcha