
অনেক নৈতিক যোগ্যতা আছে যা ধর্মীয় সুপারিশে প্রকাশ করা হয়, কিন্তু যা কিছু নৈতিক যোগ্যতাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তা হল তাদের প্রভাব এবং পরিণতি। ধৈর্য একজন মানুষের শ্রেষ্ঠ নৈতিক গুণাবলীর মধ্যে একটি, যার প্রভাব সমাজে কারো অগোচরে নেই।
পবিত্র কুরআন ধৈর্যের গুরুত্ব তুলে ধরেছে, যেখানে বলা হয়েছে:
سَلامٌ عَلَيْكُمْ بِما صَبَرْتُمْ فَنِعْمَ عُقْبَى الدَّار
(আর বলবে,) ‘সালামুন আলাইকুম’ (তোমাদের ওপর শান্তি), যেহেতু তোমরা ধৈর্যধারণ করেছিলে; পরকালের বাসস্থান কতই না উৎকৃষ্ট!
সূরা রা’দ, আয়াত: ২৪।
এটা স্বাভাবিক যে, যে ব্যক্তি জান্নাতে যাবে সে অবশ্যই অনেক ভাল কাজ করেছে, কিন্তু এই আয়াতে ধৈর্যশীল ব্যক্তিকে এতটাই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যে তারা যখন বেহেশতে প্রবেশ করবে, তখন ফেরেশতারা তাদের ধৈর্য ও সহনশীলতার জন্য অভিনন্দন জানাবে।
একজন ব্যক্তি তা চাক কিম্বা, না চাক, সে এটি পছন্দ করুক কিম্বা না করুক, এই পৃথিবীতে প্রবেশ করার সাথে সাথেই সে অনেক সমস্যা ও ঝামেলার (বস্তুগত এবং আধ্যাত্মিক) মুখোমুখি হয়। এমনকি যারা আর্থিকভাবে নিঃস্ব তাদের নিজস্ব সমস্যা রয়েছে। এই সমস্যার বিরুদ্ধে মানুষের আত্মসমর্পণ করা উচিত না কি লড়াই করা উচিত?
আত্মসমর্পণ শুধু বেদনা উপশম করে না, মানুষের বেদনার সাথে আরেকটি বেদনা যোগ করে। আত্মসমর্পণ এবং ধৈর্যের মধ্যে পার্থক্য বোঝা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সমস্যাগুলির সাথে লড়াই করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হল ধৈর্য। অধিক ধৈর্য মানুষের সাফল্যের পথ। এ কারণেই ইমাম আলী (আ.) বলেছেন:
لا يَعْدِمُ الصَّبُورُ الظَّفَرَ وَ انْ طَال بِهِ الزَّمانُ
একজন ধৈর্যশীল ব্যক্তির বিজয় নিশ্চিত, যদিও এটি দীর্ঘ সময় নেয়।
ধৈর্যের উপ-শাখা রয়েছে:
১. আনুগত্যের পথে ধৈর্য: এটা সুস্পষ্ট যে, আল্লাহ আমাদের জন্য যে কাজগুলো ফরয করেছেন সেগুলো করা কখনো কখনো ক্লান্তিকর ও কঠিন হয়ে পড়ে। আল্লাহর আনুগত্যের ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরার অর্থ হল আল্লাহর আনুগত্যের পথে অসুবিধার সম্মুখীন হওয়া যেমন রোযা, জিহাদ, খুমস ইত্যাদির ক্ষত্রে অনেক সমস্য দেখা দেয়। কিন্তু মু’মিন ব্যক্তি এসকল সমস্যার ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ করেন এবং ফরজ কাজ সমূহ নিয়মিত আদায় করেন।
২. গুনাহের ক্ষেত্রে ধৈর্য: এখানে গুনাহ মানে অবাধ্যতা ও পাপ, আর গুনাহের মুখে ধৈর্য ধরা মানে পাপের উত্তেজনা ও আকর্ষণের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো। ধৈর্যের ধরনগুলোর মধ্যে এ ধরনের ধৈর্য সবচেয়ে বেশি।
৩. বিপর্যয় ক্ষেত্রে ধৈর্য: আগেই বলা হয়েছে, পৃথিবীর একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে প্রতিটি মানুষ এতে প্রবেশ করে, তার কাছে সমস্যা ও কষ্ট আসে। পার্থিব ক্ষতির বিরুদ্ধে ধৈর্য সমূহ: জানমালের ক্ষতি, প্রিয়জন হারানোর মতো বিপদ-আপদে ধৈর্য ধরাকে বলে।
আমরা যদি এই ৩ ধরনের ধৈর্যের দিকে গভীরভাবে লক্ষ্য করি তবে আমরা বুঝতে পারব যে এই সমস্ত কিছুর ফল হল জীবনে সাফল্য।