তেহরান (ইকনা): মহান আল্লাহ নবী-রাসুলদের অসংখ্য মুজিজা বা অলৌকিকত্ব দান করেছেন। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাদের দাবির সত্যতা প্রমাণ করেছেন। আল্লাহর নবী মুসা (আ.)-এর কাছ থেকে প্রকাশিত একটি মুজিজা বা অলৌকিক ঘটনা হলো পাথর ফুরে ১২টি ঝরনা সৃষ্টি হওয়া। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘স্মরণ কোরো, যখন মুসা তার সম্প্রদায়ের জন্য পানি প্রার্থনা করল, আমি বললাম, তোমার লাঠি দ্বারা পাথরে আঘাত কোরো।

ফলে তা থেকে দ্বাদশ প্রস্রবণ প্রবাহিত হলো। প্রত্যেক গোত্র নিজ নিজ পানস্থান চিনে নিল।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ৬০)
তাফসির গবেষকরা বলেন, নবী ইয়াকুব (আ.)-এর বংশধরদের বনি ইসরাঈল বলা হয়। তাঁর ১২ সন্তান থেকে বনি ইসরাঈলের ১২ শাখার সৃষ্টি হয়।
এই ১২ শাখার জন্য আল্লাহ ঝরনার ১২টি ধারা প্রস্ফুটিত করেন। যেন সবগুলো গোত্রের লোকেরা একত্রে পানি সংগ্রহ করতে পারে।
মিসরের প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষকরা দাবি করছেন, তারা ঝরনা প্রবাহিত হওয়ার স্থানটি শনাক্ত করতে পেরেছেন। দেশটির সিনা প্রদেশের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রধান ও খ্যাতিমান প্রত্নতত্ত্ববিদ ড. আবদুর রহিম রায়হান বলেন, মুসা (আ.)-এর ঝরনার অবস্থান সিনা অঞ্চলে এবং অঞ্চলটি ‘উয়ুনে মুসা’ নামে পরিচিত।
ঐতিহাসিক বিবরণে পাওয়া যায়, মুসা (আ.)-এর সম্প্রদায় সফর করে প্রথমে ‘বিরে মুর’ (মুর কূপ) এলাকায় আসেন। সেখান থেকে ‘ইলিম’ পর্যন্ত যায়। সেখানে ১২টি ঝরনা ও ৭০টি খেজুরগাছ ছিল। পানির সন্ধান পেয়ে তারা সেখানেই বসতি স্থাপন করে।
তিনি আরো বলেন, ‘বিরে মুর’-এর অবস্থান ‘উয়ুনে মুসা’ থেকে ১১ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।
মুর কূপের অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও এর পানি পানযোগ্য নয়। ‘ইলিম’ এলাকাটি উয়ুনে মুসা এলাকায় অবস্থিত। এখানেই আল্লাহ বনি ইসরাঈলের জন্য ১২টি ঝরনা সৃষ্টি করেছিলেন।
ড. আবদুর রহিম ভূতত্ত্ববিদ ফিলিপ মায়ারসনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, সুয়েজ খাল থেকে উয়ুনে মুসা পর্যন্ত অঞ্চলটি অত্যন্ত অনুর্বর ও শুষ্ক। বনি ইসরাঈলের লোকেরা এই অঞ্চল অতিক্রম করার সময় তৃষ্ণার্ত হয়ে যায় এবং তারা মুসা (আ.)-কে পানির জন্য দোয়া করতে বলেন। মুসা (আ.) আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তাদের জন্য ঝরনা সৃষ্টি হয়। এই এলাকায় এখন পর্যন্ত চারটি ঝরনার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। যার মধ্যে দুটি পানির প্রবাহ আছে, তবে তা খাওয়ার অনুপযোগী। এগুলো সংস্কার করা প্রয়োজন। চারটি ঝরনার প্রতিটির আয়তন চার মিটার। তিনি দাবি করেন, অবশিষ্ট ঝরনাগুলো মাটিতে ঢাকা পড়েছে। ভূতাত্ত্বিক জরিপ সম্পন্ন করে খনন করলে ঝরনাগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
আল আরাবিয়া ডটনেট (উর্দু)