
ইবনুল বায়তার সেভিলের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে লতাগুল্ম সংগ্রহ করতেন। ১২০০ সালে তিনি ভ্রমণে বের হন। মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিশিয়া ভ্রমণের পর সিরিয়া ও এশিয়া মাইনর ভ্রমণ করেন। মিসর ভ্রমণকালে তখনকার আইয়ুবি সুলতান মালিকুল কামিল তাঁকে মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের প্রধান নিযুক্ত করেন।
কায়রোতে বসে তিনি তাঁর বৈজ্ঞানিক গবেষণা অব্যাহত রাখেন। পরে তিনি দামেস্কে স্থিত হন এবং ১২৪৮ সালে এখানেই মৃত্যুবরণ করেন। ইবনুল বায়তার রচিত গ্রন্থাবলিতে তাঁর ওষুধবিষয়ক গবেষণা পরস্ফুিটিত হয়েছে। ‘আল মুগনি ফিল আদরিয়াতিল মুফরাদা’ গ্রন্থে তিনি প্রতিটি রোগের সঠিক ওষুধের বর্ণনা দিয়েছেন।
তাঁর সর্ববিখ্যাত ও বহু ভাষায় অনূদিত ‘আল জামি লি মুফরাদাতিল আদরিয়া ওয়াল আগযিয়া’ গ্রন্থটিতে নিজস্ব পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে ১৪০০টি ঔষধি, প্রাণী, শাক-সবজি এবং খণিজদ্রব্যের বর্ণনাক্রমিক তালিকা প্রদান করেছেন। এ ছাড়া উক্ত গ্রন্থে তিনি প্রখ্যাত বিজ্ঞানী আর রাজি, ইবনে সিনা, আল ইদরিসি, আল গাফিকিসহ প্রায় ১৫০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞের পর্যবেক্ষণের বিবরণ দিয়েছেন। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে এই গ্রন্থটির বিশেষ প্রভাব ছিল।
চিকিৎসা, ওষুধ এবং উদ্ভিদ বিষয়ে ইবনুল বায়তারের অন্যান্য রচনার মধ্যে রয়েছে ‘মীযানুত তাবীব’, ‘রিসালা ফিল আগযিয়া ওয়াল আদরিয়া’, ‘মাকালা ফিল লিমুন’ প্রভৃতি। এ ছাড়া ডায়োস্কোরাইডসের ভাষ্যেও তাঁর একটি মূল্যবান পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেছে, যাতে ৫৫০টি ঔষধি গাছের তালিকা রয়েছে।
প্রখ্যাত ঐতিহাসিক, চিকিৎসা ও উদ্ভিদবিদ ইবনে আবি ওসাইবিয়া ছিলেন তাঁর সুযোগ্য ছাত্র। ইবনুল বায়তারের একাধিক গ্রন্থ ইউরোপে অনূদিত হয়। পাশ্চাত্য পণ্ডিত গুইল্লায়ামে পোস্টাল (১৫১০-১৫৮১) প্রথম ইবনুল বায়তারের সম্পূর্ণ রচনাবলি নিয়ে গবেষণায় মনোনিবেশ করেন। এর পূর্বে এবং পরে অবশ্য তাঁর বিভিন্ন রচনা অনূদিত ও প্রকাশিত হয়। তাঁর লিখিত ৯টি গ্রন্থের নাম জানা যায়।
সুত্র : বিশ্বসেরা মুসলিম বিজ্ঞানী, পৃষ্ঠা ৯২