
শনিবার (২৬ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাটি কবে ঘটেছে, তা এখনো জানা যায়নি। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভারতীয় মানবাধিকার সংগঠন, রাজনৈতিক ও মুসলিম নেতারা।
সর্বভারতীয় মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন দলের প্রেসিডেন্ট আসাদউদ্দিন ওয়াইসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, “শিশুটির সঙ্গে যা ঘটেছে তার জন্য দায়ী আদিত্যনাথ (উত্তরপ্রদেশের বিজিপির মুখ্যমন্ত্রী)। সম্ভবত এরপর তিনি এই অপরাধীকে লখনউতে আমন্ত্রণ জানাবেন এবং তাকে পুরস্কৃত করবেন। কত মুসলিম শিশু নিরবে এমন অপমান সহ্য করতে বাধ্য হয়েছে তার হিসেব নেই। স্কুলে মুসলিম শিশুদের ‘জিহাদি’ বা ‘পাকিস্তানি’ বলাটা প্রচলন হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
বিজেপি শাসিত ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদ বৈষম্য নতুন কিছু নয়। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। গত জুনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন। সেসময় অবশ্য তিনি তা অস্বীকার করেন।
ভারতের প্রখ্যাত রাজনৈতিক শশী থারুর ঘটনাটিকে ভারতীয়দের লজ্জা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, “এটা অবিশ্বাস্য। আমি বিশ্বাস করতে পারি না যে এটি আমাদের দেশে ঘটছে। আর যে এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। এই ঘটনায় ভারতীয়দের মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছে লজ্জায়। এই ধরনের ঘটনা আমাদের সমস্ত সাংবিধানিক অধিকার ও স্বাধীনতাকে কেড়ে নিতে পারে।”
শ্রেণিকক্ষে মুসলিম শিশুকে মারধরের বিষয়টি আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ভারতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা সংস্থা।
সংস্থাটির প্রধান প্রিয়াঙ্ক কানুনগো আবেদ বলেছেন, “উত্তরপ্রদেশের মুজাফফরনগরে এক শিক্ষিকার নির্দেশে ক্লাসের একাধিক পড়ুয়াকে দিয়ে একটি শিশুকে মারধর করার ঘটনা জানা গেছে। বিষয়টি আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।”
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার না করার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রিয়াঙ্ক কানুনগো।
মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ২০১৪ সাল থেকে ভারতের ক্ষমতায় আছে। এই সময়ে ধর্মান্তর বিরোধী আইন, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করা, অবৈধ স্থাপনা সরানোর নামে মুসলিমদের সম্পত্তি ধ্বংস করা ও কর্নাটকে শ্রেণিকক্ষে হিজাব পরা নিয়ে বড় ধরনের গণ্ডগোল তৈরি হয়।
মোদির শাসনামলে সংখ্যালঘু নির্যাতনকে “কৃষ্ণগহ্বরের” সঙ্গে তুলনা করেছেন ভারতের সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার পর্যবেক্ষণকারী গোষ্ঠী “হিন্দুত্ব ওয়াচ”র প্রতিষ্ঠাতা রাকিব হামিদ নায়িক। তিনি বলেছেন, “ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য ভারত একটি কৃষ্ণগহ্বরে পরিণত হয়েছে।”