
হজের আহবান জানিয়ে এবং কাবা তাওয়াফ করার মাধ্যমে, আল্লাহ পরীক্ষা করেন এবং পদক দেন। হজে সকলে একই পোশাক পরিধান করে, একটি সাদা পোশাক যা স্বাস্থ্যবিধি, পরিচ্ছন্নতা, শালীনতা, আলো, সংস্কৃতি এবং ভদ্রতার লক্ষণ এবং শৈশব এবং মৃত্যুর পরের পোশাকের রঙও সাদা
এটি এমন একটি পোষাক যা ঠান্ডা থেকে রক্ষা এবং গরম থেকে রক্ষা এবং নিজেকে প্রদর্শন করার জন্য নয়। এই পোষাকটি লম্বাো নয় বা খাটোও নয়, এতে দেশ, বয়স, শ্রেণি বা মর্যাদার কোনো চিহ্ন নেই। এটা সাম্য ও বান্দেগীর পোশাক, শালীনতা ও আন্তরিকতার পোশাক, নম্রতা বা বিনয় ও অভিন্নতার পোশাক।
প্রতি বছর হজ অনুষ্ঠানের পুনরাবৃত্তি করা হয়, যাতে মানুষ অনুপ্রাণিত হয়, ইসলামী বিশ্বের সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত হয়, যাতে শত্রুরা জানতে পারে যে আমরা জাগ্রত আছি।
মহান আল্লাহর ঘর: «طهّرا بیتى للطّائفین» তাওয়াফকারীদের জন্য পবিত্র গৃহ।
আমাদের পিতামহের গৃহ: «ملّة أبیكم ابراهیم» "তোমাদের পিতা ইবরাহীমের ধর্ম"
এটি নিরাপতদ গৃহ: «من دخله كان آمنا» এই গৃহে যে প্রবেশ করবে সে নিরাপদে থাকবে।
মুক্ত গৃহ: «بیتٌ عتیق» “মুক্তদের গৃহ”
বরকতময় গৃহ: «ببكّة مباركاً» এটা হল কল্যাণকর ও প্রাচুর্যময় গৃহ।
আমাদের দৈনন্দিন ঘর, আমাদের কিবলা, এমন একটি ঘর যেখানে পশু হালাল পন্থায় জবাই করা না হলে আমরা তার গোশত খাই না এবং মৃতকেও দাফন করা হয়।
আমরা যারা হজের সত্যতা বুঝি না, কিন্তু আমরা এতটুকু জানি যে, আমাদের মাসুম ইমামগণ পায়ে হেঁটে এর দিকে ছুটে গিয়েছিলেন। আর তারা এই সফরের জন্য কয়েক মাস আগে থেকেই নিজেদের প্রস্তুত করে নিয়েছিল এবং রমজান মাসের নামাজে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা তারা ক্রন্দন করে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করতেন: «اللّهم ارزقنى حجّ بیتك الحرام» “হে আল্লাহ! আমাকে বাইতুল্লাহিল হারামে হজ করার তৌফিক দান করুন”। আর মক্কায় পৌঁছার সাথে সাথে জুতা খুলে কাঁদতেন। তারা হজের জন্য তহবিল ব্যয় করেছেন এবং এমনকি বিভিন্ন কাফেলায় উপস্থিত হয়ে নিজেরে পরিচয় গোপনকরে অন্যান্য হাজিদের সেবা করেছেন।
অতএব, এই ভ্রমণের হিসাব সমস্ত ভ্রমণ থেকে পৃথক। এই সফরে হাজীদের তিন ধরনের দায়িত্ব রয়েছে:
১. তার সম্পত্তির প্রতি কর্তব্য: তার সম্পত্তির খুমস এবং যাকাত প্রদান করা, যাতে লোকেরা তার সম্পত্তিতে কোন প্রকার অধিকার না রাখে এবং এর মাধ্যমে সে তার সর্বোত্তম সম্পত্তি ব্যয় করতে পারে।
২. নিজের প্রতি কর্তব্য: তওবা করা এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, নিজের উদ্দেশ্য ও নিয়্যাত সংশোধন করা।
৩. জনগণের প্রতি কর্তব্য: মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া, বঞ্চিত-নিপীড়িত ও স্বজনদের দেখভাল করা, হজ যাত্রারপূর্বে সকলকে তার যাত্রা সম্পর্কে অবগত করা।
যাই হোক, হজ কোনো স্বাভাবিক ও সাধারণ সফর নয়, এটি ইসলামের বহিঃপ্রকাশ।