
পবিত্র মক্কা নগরীর পূর্ব দিকে পাহাড়বেষ্টিত একটি এলাকা মিনা। মক্কা ও মুজদালিফায় যাওয়ার পথে এর অবস্থান। পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে ৬ কিলোমিটার দূরত্বে এটি অবস্থিত। এর উত্তর-পূর্বে ‘জামরায়ে আকবা’ এবং দক্ষিণ-পূর্বে ‘ওয়াদিয়ে মাহসার’ রয়েছে।
শরয়িভাবে এটি ১৬.৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
মিনায় লাখ লাখ হাজির অবস্থানের জন্য বিভিন্ন কম্পানি, সংস্থা ও সরকারি সহযোগিতায় তাঁবু স্থাপন করা হয়। তাঁবু সাদা রঙের হওয়ায় চারদিক শুভ্রতায় ছেয়ে যায়। তাই অনেকে মিনাকে ‘সাদা তাঁবুর নগরী’ বলে।
‘মিনা’ নামটি নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে। অনেকের মতে, সেখানে অধিক পরিমাণে জবাই করা হয়, তাই এ স্থানকে মিনা বলা হয়।
কারো কারো মতে, আরবরা কোনো স্থানে বেশি মানুষের সমাগম হলে সেটিকে ‘মিনা’ বলে অভিহিত করে। মোট কথা হলো, যেহেতু এ স্থানে অধিক পরিমাণে কোরবানির জন্তু জবাই করা হয় এবং লাখ লাখ হাজি অবস্থান করে, তাই এটি ‘মিনা’ নামে পরিচিত।
রাসুল (সা.) ও আনসার সাহাবিদের মধ্যে প্রথম উকবা ও দ্বিতীয় উকবার বাইআত বা শপথ মিনাত প্রান্তরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
এখান থেকেই রাসুল (সা.)-এর মদিনায় হিজরতের কার্যক্রম শুরু হয়।
মিনা ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতিবিজড়িত স্থান। এখানে ইবরাহিম (আ.) নিজ পুত্র ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি দেওয়ার জন্য এনেছিলেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যখন ইসমাইল বুদ্ধিমান হলো ইবরাহিম তাকে বলল, আমি স্বপ্নে দেখেছি, আমি তোমাকে জবাই করছি, এখন তোমার কী মত? তিনি বললেন, হে পিতা, আপনার রবের আদেশ আপনি পালন করুন। আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন। তাঁরা উভয়ে আল্লাহর হুকুম পালন করেন। ইসমাইলকে তার পিতা উপুড় করে যখন শোয়ায় তখন আমি ডাক দিই, হে ইবরাহিম, তুমি স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছ...।’ (সুরা সফফাত, আয়াত : ১০৩)
মিনা হজের গুরুত্বপূর্ণ বিধি-বিধান পালনের স্থান হিসেবে সুপরিচিত। মূলত হজের কার্যক্রম মিনা থেকেই শুরু হয়। গোসল করে ইহরাম পরে জোহরের আগেই হাজিরা মিনায় আসতে থাকেন। এরপর সেখানেই রাত যাপন করেন।
এরপর পুনরায় জিলহজের ১০ তারিখ ঈদুল আজহার দিনে হাজিরা মুজদালিফা থেকে আবার মিনায় আসে। সেদিন জামরায়ে আকবায় পাথর নিক্ষেপ করে হাজিরা ‘হাদি’ কোরবানি করেন। অতঃপর চুল কেটে বা ছোট করে প্রাথমিকভাবে হালাল হন। এরপর হারাম শরিফে গিয়ে ‘তাওয়াফে ইফাজা’ আদায় করে আইয়ামুত তাশরিকের (১০, ১১, ১২ তারিখ) দিনগুলোতে মিনায় থাকেন। এ সময়ে ধারাবাহিকভাবে জামরায়ে সুগরা, উসতা ও কুবরায় সাতটি করে পাথর নিক্ষেপ করতে হয়।