
পবিত্র হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রোকন ‘জামারায় পাথর নিক্ষেপ’ করেছেন সারাবিশ্ব থেকে মক্কায় হজ করতে আসা লাখো হাজি। ১০ জিলহজ, ঈদুল আজহার প্রথম দিন, মিনায় অবস্থিত বড় জামারা (জামারাতুল উকবা)-তে হাজিরা সাতটি করে কঙ্কর নিক্ষেপ করেন। এ সময় উচ্চারিত হচ্ছিল ‘আল্লাহু আকবার’, যা আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও শয়তানের প্রতীকের বিরুদ্ধে অবস্থানের প্রতীক।
পবিত্র দুই মসজিদের সংবাদমাধ্যম ইনসাইড দ্য হারামাই এ বিষয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে হাজিদের শৃঙ্খলিত অংশগ্রহণ, আধুনিক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার চিত্র উঠে এসেছে।
দলে দলে হাজিরা জামারায় পাথর নিক্ষেপ করছেন। প্রত্যেকে সাতটি করে পাথর ছুড়ছেন প্রতীকী শয়তানের (বড় জামারা) দিকে। প্রতিটি নিক্ষেপের সময় উচ্চারণ ভেসে আসছে ‘আল্লাহু আকবার’।
সৌদি হজ মন্ত্রণালয় ও নিরাপত্তা বাহিনী জামারায় হাজিদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বহুতল জামারা ব্রিজ ও আলাদা প্রবেশ-প্রস্থান পথ চালু রেখেছে। বিশেষ গাইডলাইন অনুযায়ী, প্রত্যেক হাজিকে নির্ধারিত সময়ে পাথর নিক্ষেপ করতে বলা হয়েছে যাতে ভিড় ও দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
জামারাতে পাথর নিক্ষেপ শুধুই একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি মনের ভেতরকার ‘শয়তান’কে প্রতিহত করার দৃঢ় সংকল্প। ইনসাইড দ্য হারামইনে প্রকাশিত ভিডিও হাজিদের সে আত্মিক ও শারীরিক সাধনার একটি জীবন্ত দলিল। আজ পবিত্র হজের তৃতীয় দিন। শুক্রবার (৬ জুন) স্থানীয় সময় ভোরেই মিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন হাজিরা। সেখানে ফিরে জামারায় শয়তানের প্রতীক লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়া শেষে হাজিরা পশু কোরবানি করে ফিরবেন মক্কায়। সেই সাথে তাওয়াফ করবেন কাবাঘর। পরের দুদিন ১১ ও ১২ জিলহজ পালন করবেন হজের বাকি আনুষ্ঠানিকতা।
জামরা (বহুবচন: জামারাত এবং জামার) একটি আরবি শব্দ যার অর্থ আগুন এবং নুড়ি পাথরের জ্বলন্ত টুকরো। ধর্মীয় পরিভাষায়, জামারাত বা জামারাত-এ-সালাস হল মিনা ভূমিতে অবস্থিত তিনটি বিশেষ স্থানের নাম যা পাথরের স্তম্ভ দ্বারা চিহ্নিত এবং তাই জামারাত বলা হয়, যেগুলি হল তীর্থযাত্রীদের দ্বারা নিক্ষেপ করা নুড়িপাথরের সমাবেশস্থল, হয় নুড়িপাথরের স্তূপ (জামার) তাদের দিকে নিক্ষেপ করা হয় অথবা লোকেরা তাদের চারপাশে জড়ো হয় বলে। "রামি" অর্থ নিক্ষেপ করা। 4286783