
বোমাবর্ষণ ও উত্তেজনা বৃদ্ধির কয়েক ঘণ্টা আগে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো আল-মাহমুদিয়া ও আল-জারমাক শহরগুলোতে একাধিক দফা বিমান হামলা চালায়।
ইসরায়েলি কূটনীতিকদের সতর্কবার্তা
টেলআভিভের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের কূটনীতিক ও কর্মীদের সতর্ক করেছে, জানিয়ে যে, তাদের ফোন নম্বরগুলো ইরান ও পাকিস্তানভিত্তিক কিছু ওয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করা হয়েছে।
একজন ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের শত্রুরা বিদেশি ফোন নম্বর ব্যবহার করে এসব গ্রুপ তৈরি করছে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং সেটিংস পরিবর্তন করতে হবে, যেন কেবল পরিচিতরা গ্রুপে যুক্ত করতে পারে।”
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, সাইবার নিরাপত্তা বিভাগ একাধিক রিপোর্ট পেয়েছে যেখানে দেখা গেছে, ইরান থেকে হিব্রু ভাষায় ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে ইসরায়েলিদের ভয় দেখানো বা গুপ্তচর হিসেবে নিয়োগের চেষ্টা চলছে।
এমনকি গত জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে, ইসরায়েলের কয়েকজন রাজনীতিককেও ইরান থেকে হুমকিসূচক কল দেওয়া হয়েছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।
নেতানিয়াহুর বোমাবর্ষণের স্বীকারোক্তি
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সংসদে (কনেসেট) বক্তৃতায় স্বীকার করেছেন যে, “ইসরায়েলি সেনারা একদিনে গাজায় ১৫৩ টন বোমা ফেলেছে।”
তিনি বলেন, “আমরা আমাদের বন্দিদের মুক্ত করতে বদ্ধপরিকর, ইতোমধ্যে ২৩৯ জনকে ফিরিয়ে এনেছি।”
নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, “আমরা ইরান-সমর্থিত সকল গোষ্ঠীর ওপর আঘাত হেনেছি এবং গাজায় হামাসকে ঘিরে ফেলেছি।”
যদিও বাস্তবে, হামাসের বিরুদ্ধে ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে ইসরায়েল শেষ পর্যন্ত আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়।
দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতিতে বাধা
আল-কুদস আল-আরবি পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা ইসরায়েলের ‘শর্তারোপের’ কারণে বিলম্বিত হচ্ছে।
ইসরায়েল জানিয়েছে, “গাজায় নিহত তাদের বন্দিদের মৃতদেহগুলো ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত তারা দ্বিতীয় দফার আলোচনায় অংশ নেবে না।”
ফিলিস্তিনি পক্ষ এই শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের প্রতিশ্রুতিতে অবিচল থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
মিশরের শারম আল-শেখ শহরে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও প্রতিরোধ সংগঠনগুলোর অস্ত্র ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।
হামাস প্রতিনিধি দল মানবিক সহায়তা, খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানি ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
লেবাননের অবস্থান: কোনো রাজনৈতিক আলোচনায় সম্মতি নয়
লেবাননের উপপ্রধানমন্ত্রী তারিক মাতরি ঘোষণা করেন, “লেবানন ইসরায়েলের রাজনৈতিক আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।”
তিনি বলেন, “ইসরায়েল মার্চ মাসে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে রাজনৈতিক আলোচনার অনুরোধ জানায়, কিন্তু লেবানন তা প্রত্যাখ্যান করে।”
তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত মধ্যস্থতা ইসরায়েলের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি। “ইসরায়েল এখনো প্রতিদিন যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে,” তিনি বলেন।
মাতরি আরও জানান, “লেবানন কেবল সামরিক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সীমান্ত ইস্যুতে পরোক্ষ আলোচনা করবে, কোনো শান্তিচুক্তির বিষয় আলোচনায় আসেনি।”
তিনি যোগ করেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ১৯৪৯ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন।”
শেষে তিনি বলেন, “লেবানন রাজনৈতিক আলোচনায় রাজি নয়; আমাদের আলোচনার উদ্দেশ্য কেবল বাস্তবায়ন, নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নয়। ইসরায়েলের ঔদ্ধত্যই এসব অস্থিরতার কারণ।”
বৈরুত ও গাজা আকাশে যুদ্ধবিমান ও ড্রোনের গর্জন, যুদ্ধবিরতির আলোচনায় স্থবিরতা এবং নেতানিয়াহুর যুদ্ধবাজ বক্তৃতা—সবকিছুই ইঙ্গিত দেয় যে পশ্চিম এশিয়ার শান্তির পথ এখনো দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ। 4311896#