
লেবাননের দৈনিক আল-আখবার-এর বরাতে জানা যায়, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে যে, শাইখ আল-ফাওযান দীর্ঘদিন ধরে শিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক ভাষা ব্যবহার করেছেন, যা ধর্মীয় ঘৃণা ও বৈষম্যকে উসকে দিয়েছে।
সংস্থাটি বলেছে, সৌদি সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে নিয়োজিত কিছু আলেম ও প্রচারককে দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে (বিশেষ করে শিয়া মুসলমানদের প্রতি) ঘৃণাত্মক বক্তব্য প্রদানের অনুমতি দিয়েছে, যা পদ্ধতিগত বৈষম্য ও সহিংসতার অংশ হয়ে উঠেছে।
মানবাধিকার সংস্থাটি আরও বলেছে, এসব ধর্মীয় নেতার বিরোধী বক্তব্য ও ফতোয়া সরাসরি সৌদি আরবে শিয়া নাগরিকদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক নীতি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সৌদি গবেষক জয় শিয়া বলেন, “যদিও শাইখ ফাওযান অতীতে শিয়াদের বিরুদ্ধে ঘৃণা উস্কে দিয়েছেন, তবুও তাঁর নতুন দায়িত্বে থেকে তিনি আচরণ পরিবর্তনের ও সহনশীলতা প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ পেয়েছেন।”
তিনি সৌদি কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান যে, সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে তারা যেসব সংস্কার কার্যক্রমের দাবি করছে, তা বাস্তবে প্রমাণ করুক।
সংস্থাটি কিছু নথি প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যায় শাইখ ফাওযান শিয়া মুসলমানদের ‘রাফেজি’ বলে অভিহিত করতে উৎসাহ দিয়েছেন এবং তাঁদের মুসলিম সমাজ থেকে পৃথক বলে ঘোষণা করেছেন।
একটি আলোচিত ঘটনায়, যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয় — “শিয়াদের ‘রাফেজি’ বলা বৈধ, না তাঁদের ‘আমাদের ভাই’ বলা উচিত?”
তিনি উত্তর দেন: “তারা আমাদের ভাই নয়… তারা শয়তানের ভাই… এবং যে কেউ তাদের ‘আমাদের ভাই’ বলে, তাকে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে।”
সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসেও ফাওযান এক বক্তব্যে বলেন —
“ইহুদি, খ্রিস্টান, শিয়া ও রাফেজিরা— সবাই মুসলমানদের শত্রু।”
মানবাধিকার সংস্থার গবেষক জয় শিয়া নতুন গ্র্যান্ড মুফতিকে আহ্বান জানান যে, “তিনি যেন অতীতের বৈষম্যমূলক মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চান এবং সৌদি আরবে শিয়া মুসলমানদের প্রতি ধর্মীয় সহনশীলতার এক নতুন অধ্যায় শুরু করেন।” 4313675