
ইকনা নিউজরুমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রী ওসামা আল-আজহারি এক শোকবার্তায় মরহুমের পরিবার ও আত্মীয়দের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন— “আমি মহান আল্লাহর কাছে এই বিশিষ্ট ক্বারির জন্য রহমত ও জান্নাতে সর্বোচ্চ মর্যাদা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর পরিবারের জন্য ধৈর্য ও শান্তি কামনা করছি।”
এদিকে মিশরে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত সালেহ মুতলু শেনও শোক প্রকাশ করে বলেন, “ক্বারি ইসাম আবদুল বাসিতের পিতা শায়খ আবদুল বাসিত তুরস্কের বহু তরুণের হৃদয়ে এক অমর প্রভাব রেখে গেছেন, যারা তাঁর তেলাওয়াত শুনে বড় হয়েছে।”
তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, “অত্যন্ত দুঃখ ও বেদনার সঙ্গে আমরা জেনেছি শায়খ ইসাম আবদুল বাসিত আবদুস সামাদের ইন্তেকালের খবর। মহান আল্লাহর কাছে তাঁর জন্য অপরিসীম রহমত এবং তাঁর পরিবারের জন্য ধৈর্য কামনা করছি।”
মিশরে অবস্থানরত আজারবাইজানি মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতা সেমুর নাসিরভও ফেসবুকে এক পোস্টে শোক জানিয়ে বলেন, “গভীর দুঃখ ও আল্লাহর ফয়সালায় বিশ্বাস রেখে আমরা শায়খ ইসাম আবদুল বাসিত আবদুস সামাদের ইন্তেকালের খবর পেয়েছি। তাঁর পিতা, মহান ক্বারি শায়খ আবদুল বাসিতই ছিলেন আমার মিশর আগমনের অন্যতম প্রেরণা। আজও আজারবাইজানের ক্বারিদের মধ্যে শায়খ আবদুল বাসিতের তেলাওয়াত ও খ্যাতি অপরিসীম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।”
শায়খ ইয়াসের আবদুল বাসিত আবদুস সামাদ, মরহুম ইসামের ভাই, গতকাল (৯ আাবান / ৩১ অক্টোবর ২০২৫) ফেসবুকে ভাইয়ের মৃত্যুসংবাদ জানিয়ে লেখেন:
“إِنَّا لِلّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ — আল্লাহর হুকুম ও তাকদিরে বিশ্বাস রেখে জানাচ্ছি যে, আমার ভাই, ক্বারি ইসাম আবদুল বাসিত আবদুস সামাদ আজ শুক্রবার (৩১ অক্টোবর ২০২৫) ইন্তেকাল করেছেন।”
তিনি আরও জানান, “মরহুমের জানাজা নামাজ আজ জুমার নামাজের পর গিজার ‘ড. মুস্তাফা মাহমুদ মসজিদে’ অনুষ্ঠিত হবে। আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, রহম করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন।”
উল্লেখ্য, কিংবদন্তি ক্বারি শায়খ আবদুল বাসিত মুহাম্মাদ আবদুস সামাদ সলিম দাউদ ১৯ বছর বয়সে তাঁর চাচাতো বোন ফাতহিয়া আবদুল আজিজ আবদুস সামাদ-কে বিয়ে করেন। তাঁদের দাম্পত্য জীবনে ১১ সন্তান ছিল — ৭ পুত্র ও ৪ কন্যা। পুত্রদের নাম: মুহাম্মদ, জামাল (যমজ), খালিদ, তারিক, ইসাম, হিশাম ও ইয়াসের; আর কন্যারা: সু’আদ (মরহুমা), ফায়িজা, সাদিয়া ও সাহর।
শায়খ আবদুল বাসিত তাঁদের ভালোবেসে “আহাদ আশারা কাওকাবান” (অর্থাৎ “এগারোটি নক্ষত্র”) বলে ডাকতেন। তাঁর সন্তানদের মধ্যে তারিক, হিশাম ও ইয়াসের পিতার পথ অনুসরণ করে ক্বারির দায়িত্ব পালন করছেন এবং আবদুল বাসিতের ধ্বনিমধুর তেলাওয়াতের ধারাকে জীবিত রেখেছেন। 4313962#