
প্রাপ্ত তথ্যমতে, রাসুলুল্লাহ (সা.) এক হাদিসে ইস্তিগফারকে “সেরা ইবাদত” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি কুরআনের আয়াত «فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ» (মুহাম্মাদ: ১৯) উদ্ধৃত করে বলেন, আল্লাহর একত্ব ঘোষণা এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা—ইবাদতের সর্বোচ্চ স্তর।
অন্য একটি বর্ণনায় উল্লেখ আছে—“সেরা দোয়া হচ্ছে ইস্তিগফার, আর সেরা ইবাদত হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা।”
ইস্তিগফার সম্পর্কে ইমাম আলী (আ.)–এর বক্তব্যও অত্যন্ত গুরুত্ববহ। তিনি নাহজুল বালাগা–র হিকমা ৪১৭–এ বলেন, “ইস্তিগফার আল্লাহর নিকট সম্মানিত ও উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন একটি অবস্থান।”
এছাড়া তিনি ইস্তিগফারকে গুনাহগারদের সর্বোত্তম অস্ত্র ও নাজাতের সুপারিশকারী হিসেবে পরিচিত করেছেন।
এদিকে ইমাম জাফর সাদিক (আ.) একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিসে ব্যাখ্যা করেন, যদি আল্লাহ তাঁর বান্দার জন্য কল্যাণ চান, তবে বান্দা পাপ করলে আল্লাহ তাকে তাৎক্ষণিকভাবে সতর্ক করেন এবং ইস্তিগফার স্মরণ করিয়ে দেন।
কিন্তু যদি কোনো বান্দার জন্য অকল্যাণ নির্ধারিত থাকে, তবে সে গুনাহ করলেও আল্লাহ তাকে নানান নিয়ামত দিয়ে দেন, যাতে সে ইস্তিগফার ভুলে যায় ও গাফেল হয়ে পড়ে।
ইমাম (আ.) এ বক্তব্যকে কুরআনের আয়াত—«سَنَسْتَدْرِجُهُم مِّنْ حَيْثُ لَا يَعْلَمُونَ» (আ'রাফ: ১৮২)—এর ব্যাখ্যা হিসেবে উপস্থাপন করেন।
ইসলামি চিন্তাবিদরা মনে করেন, এসব বর্ণনা ইঙ্গিত করে যে ইস্তিগফার কেবল গুনাহ মাফের মাধ্যম নয়, বরং আধ্যাত্মিক উন্নয়ন, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর রহমত লাভের গুরুত্বপূর্ণ পথ। 3495191#