
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলিতে, ভেনেজুয়েলার প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টের আচরণ অস্পষ্ট বরং অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই নীতির ফলে, ট্রাম্প শুধু যে ব্যাপক ক্ষমতা ব্যবহার করবেন তাই নয় একইসাথে এর মাধ্যমে তিনি এমন নজির স্থাপন করতে চান যাতে ওই অঞ্চলের সব দেশের জন্য শিক্ষা হয়ে থাকে এবং ট্রাম্পের লক্ষ্য সম্পর্কে আগাম ধারণা কেউ করতে না পারে।
IRNA-এর উদ্ধৃতি দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই নীতির নিদর্শন হচ্ছে তিনি যা প্রকাশ্যে ঘোষণা করছেন বাস্তবে ততটা নয়। যেমন, "ভেনিজুয়েলার আকাশসীমার ওপর লোক দেখানো নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আবার দেশটিতে গোপন অভিযানের অনুমোদনও দিয়েছেন। আসলে সব কিছু অস্পষ্ট রাখার কৌশল হচ্ছে ট্রাম্পের তুরুপের তাস যার মাধ্যমে তিনি দেখাতে চান অপ্রত্যাশিত এবং যেকোনো নীতি পুনর্বিবেচনা করতে সক্ষম।
প্রকাশ্য হুমকি ও কাজের ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা
এই প্রেক্ষাপটে, ভেনেজুয়েলার ব্যাপারে ট্রাম্পের আচরণের ধরণ প্রকাশ্য হুমকি ও বাস্তব কাজের ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ এমন একটি পদ্ধতি যা তার বক্তৃতায় বহুবার পুনরাবৃত্তি হয়েছে। এই রিপাবলিকান রাজনীতিবিদ আক্রমণাত্মক ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে "ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা এবং এর আশেপাশের এলাকা সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ" এবং বিমান সংস্থা ও পাইলটদের এই এলাকাটিকে এড়িয়ে যতে বলা হয়েছে। এই ক্ষমতা প্রদর্শনের পাশাপাশি, ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে সিআইএ-এর গোপন অভিযানের অনুমোদন দিয়েছেন এবং বলেছেন যে এই পদক্ষেপের মূল কারণ হল "ভেনেজুয়েলার কারাগার খালি করা এবং লোকদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো"।
তবে এই সামরিক অভিযানের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর পরিধি, কৌশলগত বা এটি কতদূর যাবে সে সম্পর্কে কিছুই বলেননি। এই ধরণের নিয়ন্ত্রিত তথ্য অর্থাৎ সামরিক অভিযান নিশ্চিত করা হয়েছে কিন্তু এর প্রকৃতি কেমন হবে তা গোপন রাখা হয়েছে তার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানসিক চাপ তৈরি করা এবং নিকোলাস মাদুরোর সরকার ও ভেনেজুয়েলার জনগণকে ক্রমাগত প্রত্যাশা, নিরাপত্তাহীনতা এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা।
হত্যার হুমকি দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি
এটা এখন বেশ স্পষ্ট যে ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে ভেনেজুয়েলার ভাগ্য চিরতরে নির্ধারণ করতে চান। তিনি কোনও নির্দিষ্ট পথ ঘোষণা করছেন বলে মনে হচ্ছে না, তবে হুমকি, সব কিছু অস্পষ্টতার মধ্যে রাখা, গোপন অভিযানের কথা প্রচার করা, আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া এবং এমনকি কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে তার সাম্প্রতিক সতর্কতাবার্তার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোকেও হুমকির মধ্যে রাখা। এই প্রেক্ষাপটে, ট্রাম্পের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল দুটি রূপ নিতে পারে: হয় মাদুরো সরকারের কাঠামোগত আচরণ পরিবর্তন করে ওয়াশিংটনের পক্ষে রাখা, অথবা আরও চরম পরিস্থিতিতে, মাদুরোকে সম্পূর্ণরূপে অপসারণ করা এবং কারাকাসে ক্ষমতা পুনর্বিন্যাস করা।
এখানেই ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি পূর্ববর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্টদের থেকে আলাদা। তিনি সমস্ত বিকল্প টেবিলে রেখে সর্বাধিক চাপ প্রয়োগ করতে চান, তবে এ কাজ করতে তিনি সর্বনিম্ন মূল্য দিতে চান। তার চূড়ান্ত লক্ষ্য হল ভেনেজুয়েলাসহ সমগ্র ল্যাটিন আমেরিকায় অর্থনৈতিক, রাজনৈতিকসহ সর্বাধিক ভূ-রাজনৈতিক সুবিধা অর্জন করা।
তাই প্রশ্ন উঠেছে কোনো চড়া মূল্য পরিশোধ না করেই কি ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় তার কাঙ্ক্ষিত সুবিধা অর্জন করতে পারবেন?#পার্সটুডে