
সৌদি আরবের জেদ্দায় চলছে পঞ্চম লাল সাগর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (Red Sea International Film Festival)। ৪ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই উৎসব চলবে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আয়োজকরা বলছেন, এটি সৌদি ও আরব সিনেমার বিকাশের মঞ্চ, কিন্তু সমালোচকরা বলছেন — এটা মূলত সৌদি শাসকগোষ্ঠীর “রেপুটেশন লন্ডারিং” বা “সাদা ধোয়া” প্রকল্পের” অংশ।
উৎসবের দাবি
সমালোচকদের কঠোর প্রশ্ন বিশ্লেষক ও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এই উৎসবের আড়ালে লুকিয়ে আছে বড় ধরনের দ্বৈত নীতি:
১. মানবাধিকারের কালো রেকর্ড ধোয়া-মোছা সৌদি আরব এখনো সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যা, রাজনৈতিক বন্দি, নারী অধিকারকর্মীদের কারাবাসের জন্য বিশ্বব্যাপী সমালোচিত। সমালোচকরা বলছেন, বিলিয়ন ডলার খরচ করে তারকা-ভর্তি উৎসবের মাধ্যমে সৌদি শাসকগোষ্ঠী তাদের “আধুনিক ও উদার” ইমেজ তৈরি করতে চাইছে।
২. “নো সেন্সরশিপ” স্লোগান বনাম বাস্তবতা অনেক চলচ্চিত্রকার জানিয়েছেন, রাজতন্ত্র, ধর্মীয় নীতি বা সামাজিক সমস্যার সরাসরি সমালোচনা করা ছবি এখনো নিষিদ্ধ বা কাটছাঁট করা হয়। অফিসিয়ালি না হলেও অনানুষ্ঠানিকভাবে।
৩. ইসলামী পরিচয় বনাম পশ্চিমা লাইফস্টাইল প্রদর্শনী কা’বা শরীফের দেশে একই উৎসবে খোলামেলা পোশাক, অ্যালকোহল পার্টি, এবং পশ্চিমা জীবনধারার প্রকাশ্য প্রদর্শনী দেখে অনেকে বলছেন — এটা ইসলামী মূল্যবোধের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
৪. নারী ক্ষমতায়নের দ্বৈত চেহারা উৎসবে “নারী নেতৃত্ব” প্যানেল হলেও বাস্তবে নারী অধিকারকর্মী লুজাইন আল-হাথলুল এখনো কারাগারে বা নজরবন্দি। সৌদি মানবাধিকারকর্মী ড. হালা আদ-দৌসারি বলেছেন: “যে সংস্কার দেখানো হচ্ছে তা বেশিরভাগই ক্যামেরার জন্য। বাস্তবে নারীরা এখনো পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া ভ্রমণ, চাকরি বা বিয়ে করতে পারেন না।”
উৎসব নাকি প্রোপাগান্ডা? বিশ্লেষকরা বলছেন, লাল সাগর উৎসব হলো সৌদি আরবের বৃহত্তর “সফট পাওয়ার” কৌশলের অংশ — যার মাধ্যমে খেলাধুলা, বিনোদন ও সংস্কৃতির নামে দেশের কালো অধ্যায়গুলোকে ঢেকে ফেলা হচ্ছে।
অনেকে প্রশ্ন তুলছেন: যে দেশে এখনো স্বাধীন সাংবাদিকতা ও শৈল্পিক স্বাধীনতা নেই, সেখানে আন্তর্জাতিক তারকাদের লাল গালিচায় হাঁটিয়ে কি সত্যিই সিনেমার বিকাশ হবে, নাকি শুধু রাজপরিবারের ইমেজ উজ্জ্বল করা হচ্ছে?
উৎসব চলবে আরও ছয় দিন। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে — এই লাল গালিচা কি সত্যিই আরব সিনেমার জন্য, নাকি সৌদি শাসকদের “নতুন মুখোশ”? 4321205#