
তিনি সম্প্রতি প্রকাশিত বই “Gender and Succession in Medieval and Early Modern Islam: Bilateral Descent and the Legacy of Fatima”তে হযরত ফাতিমা (সা.)-এর মাধ্যমে ইসলামের মধ্যযুগীয় ও প্রারম্ভিক আধুনিক যুগে দ্বিপাক্ষিক বংশধারা (পিতা ও মাতার উভয় লাইন থেকে বংশগত অধিকার) এবং নারীর পরিচয়, উত্তরাধিকার ও নেতৃত্বের বিষয়টি বিশ্লেষণ করেছেন।
ইকনা নিউজ এজেন্সি হযরত ফাতিমা (সা.)-এর পবিত্র জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই আমেরিকান গবেষকের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকার নিয়েছে। সাক্ষাৎকারের প্রধান অংশ নিম্নরূপ:
প্রশ্ন: সকল মুসলিম সম্প্রদায় হযরত ফাতিমা (সা.)-কে নবীকন্যা হিসেবে ভালোবাসেন এবং ঈমান, বিনয় ও শক্তির আদর্শ মনে করেন। আপনার গবেষণায় তাঁর জীবনের কোন দিকগুলো সবচেয়ে উজ্জ্বল মনে হয়েছে?
অ্যালিসা গ্যাবে: তাঁর জীবনের অনেক দিকই আমাকে মুগ্ধ করেছে। রাসূল (সা.)-এর প্রতি তাঁর আত্মত্যাগ ও অটল সমর্থন অতুলনীয়। তিনি নূরে মুহাম্মদী থেকে আলোকিত ছিলেন, যা ঐশী জ্ঞান ও মারেফাতের প্রতীক। ফদকের ঘটনায় তিনি যে খুতবা দিয়েছিলেন, তা তাঁর আধ্যাত্মিক কর্তৃত্বের অসাধারণ প্রমাণ। এছাড়া জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে তিনি মুসহাফ গ্রহণ করেছিলেন—এটি তাঁকে ইমাম বা নবীর অতি নিকটবর্তী স্তরে স্থান দেয়।
প্রশ্ন: হযরত ফাতিমা (সা.)-এর আদর্শ কি পরবর্তী মুসলিম সমাজে নারীর ধর্মীয় ও নৈতিক পরিচয় গঠনে প্রভাব ফেলেছে?
উত্তর: অবশ্যই। শিয়া আলেমগণ যেমন শেখ সাদুক ও আল্লামা মাজলিসী তাঁর ফদকের খুতবা হাদিস সংকলনে উল্লেখ করেছেন। তিনি নামাজ-রোজার হেকমত ব্যাখ্যা করতে পারতেন, যা তাঁকে আচরণের মহান আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
প্রশ্ন: কেউ কেউ বলেন, তিনি মাতৃত্বের করুণা ও সামাজিক সক্রিয়তার প্রতীক। আধুনিক ইসলামী আলোচনায় এই দিকগুলো কতটা স্বীকৃত?
উত্তর: আধুনিক গবেষকরা ক্রমশ তাঁর সক্রিয় নেতৃত্ব ও আধ্যাত্মিক-দুনিয়াবী ভূমিকাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। এটি মাতৃত্বের ভূমিকার সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়, বরং পরিপূরক।
প্রশ্ন: কেউ কেউ মনে করেন, তাঁর আধ্যাত্মিক মর্যাদা সামাজিক বংশধারার ঊর্ধ্বে। ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ কি পবিত্রতাকে অস্বীকার করে?
উত্তর: একদম না। তাঁর আধ্যাত্মিক মর্যাদা অনেক বেশি বিশাল। আমার বই শুধু একটি দিক (বংশধারা) তুলে ধরেছে যা অবহেলিত ছিল। অন্যান্য গ্রন্থ তাঁর পূর্ণ আধ্যাত্মিকতা বর্ণনা করে, সেগুলো পড়ার পরামর্শ দিই। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক হিসেবে আমি বৈজ্ঞানিক নিরপেক্ষতা ও পবিত্রতার প্রতি সম্মানের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করি।
প্রশ্ন: আজকের মুসলিম নারী ও সকল মুমিন কী শিক্ষা নিতে পারেন?
উত্তর: আমি অমুসলিম হিসেবে নিজের শিক্ষার কথা বলতে পারি—কষ্টে ধৈর্য, অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব না থাকা, দুনিয়ার খ্যাতি-সম্পদের চেয়ে আধ্যাত্মিক মর্যাদা ও বিনয়ের মূল্য, এবং পরিবারের জন্য আত্মোৎসর্গের শ্রেষ্ঠত্ব।
প্রশ্ন: ফদকের খুতবার গুরুত্ব কী?
উত্তর: এটি প্রাথমিক ইসলামে নারীর কণ্ঠস্বরের অনন্য দৃষ্টান্ত। একজন নারী পুরো সমাজকে সম্বোধন করে সাহসী মত প্রকাশ করেছেন। মধ্যযুগীয় ও আধুনিক আলেমরা (যেমন আয়াতুল্লাহ বাকের সদর) এটিকে নারীর ক্ষমতা ও শাসনব্যবস্থার সমালোচনার প্রথম উদাহরণ মনে করেন।
প্রশ্ন: সুন্নি-শিয়া উভয় সূত্রে গবেষণা করে আপনি কোন সাধারণ মূল্যবোধ দেখেছেন?
উত্তর: সকল মুসলিম তাঁর ত্যাগ, তাকওয়া, প্রজ্ঞা ও আত্মোৎসর্গকে সম্মান করেন। সুন্নিরাও তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন—যেমন উসমানীয় যুগে মসজিদের ওয়াকফনামায় তাঁর নামে দোয়া পড়ার নির্দেশ। আমার বইয়ের অনুপ্রেরণা ছিল সুন্নি কবি আমির খসরু দেহলভির ফাতিমা (সা.)-বন্দনা। 4318446#