IQNA

বার্মা হিউম্যান রাইটস নেটওয়ার্ক:

মিয়ানমারের মুসলিমরা ক্রমবর্ধমান দমন-পীড়ন ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার

0:02 - December 17, 2025
সংবাদ: 3478623
ইকনা- যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের মুসলিমরা ক্রমাগত বাড়তে থাকা দমন-পীড়ন এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সম্মুখীন হচ্ছেন।

বিশ্ব মুসলিম আলেম ইউনিয়নের ওয়েবসাইটের বরাত দিয়ে ইকনা জানায়, বার্মা হিউম্যান রাইটস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে যে, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে সেনাবাহিনীর আধিপত্য অব্যাহত থাকায় মিয়ানমারের মুসলিমরা ক্রমবর্ধমান দমন গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছেন।

জাতিসংঘের সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের ৭৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই যুক্তরাজ্যভিত্তিক নেটওয়ার্ক আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি মিয়ানমারের সামরিক শাসকদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে: সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের ৭৭ বছর পরওযা প্রত্যেক ব্যক্তির নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং আইনের সামনে সমানাধিকারের নিশ্চয়তা দিয়েছেএই নীতিগুলো মিয়ানমারে দশকের পর দশক ধরে সেনাবাহিনীর দ্বারা শাস্তিমুক্তভাবে নিয়মতান্ত্রিকভাবে লঙ্ঘিত হয়ে আসছে; যার মধ্যে রয়েছে নির্যাতন, বাস্তুচ্যুতি এবং সহিংসতা।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী মুসলিমদেরবিশেষ করে রোহিঙ্গাদেরএবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ব্যাপক লঙ্ঘন করে চলেছে। এর মধ্যে রয়েছে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, নাগরিকত্ব বৈধ বসবাসের অধিকার অস্বীকার, গণহত্যা এবং আবাসিক এলাকা উপাসনালয় ধ্বংস।

বিবৃতির এক অংশে জোর দেওয়া হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ২০২১-এর অভ্যুত্থানের পর থেকে সামরিক জান্তার সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সামরিক অভিযানের কারণে বিপুল সংখ্যক বেসামরিক নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছে। নির্বিচারে গ্রেপ্তার, চাঁদাবাজি, নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু কোনো আইনি তদারকি ছাড়াই চলছে, যখন বেসামরিকরা খাদ্য, আশ্রয় চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে: মুসলিমদের প্রতি ক্রমবর্ধমান দমন আন্তর্জাতিক মনোযোগ যথেষ্ট আকর্ষণ করেনি। বৈষম্যমূলক আইন নীতি লক্ষ লক্ষ মুসলিমকে মানবেতর পরিস্থিতিতে জীবনযাপনে বাধ্য করেছে। বিভিন্ন সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যা মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অস্ত্র, জেট ফুয়েল এবং আর্থিক সংস্থান প্রাপ্তিতে বাধা সৃষ্টি করে।

বিবৃতিতে সামরিক কর্তৃপক্ষের পরিকল্পিত নির্বাচন (ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে) প্রত্যাখ্যানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি মিয়ানমারের পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে প্রেরণের আহ্বান জানানো হয়েছে এবং আসিয়ানের প্রতি মিয়ানমারকে সব বৈঠক থেকে বহিষ্কার করতে এবং নিষেধাজ্ঞা সমর্থন করতে অনুরোধ করা হয়েছে।4323338#

captcha