
আল-ওয়াতান পত্রিকার বরাত দিয়ে ইকনা জানায়, গত শুক্রবার ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ (৫ জানুয়ারি) রাত ৯টায় (স্থানীয় সময়) আল-হায়াত, সি.বি.সি এবং আন-নাস চ্যানেলে প্রচারিত ত্রয়োদশ পর্বে ফাইনাল পর্ব শুরু হয়। এই পর্বে ১৬ জন প্রতিযোগী ৪টি গ্রুপে (প্রতি গ্রুপে ৪ জন) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই পর্বে কিছু প্রতিযোগী যৌথ তিলাওয়াতে অংশ নেন এবং শেষে একজন প্রতিযোগী প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়েন।
দুই বছরের গণহত্যা যুদ্ধের পর এই পর্বে চারজন অসাধারণ কণ্ঠের কারি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিচারক প্যানেলের জন্য এটি ছিল একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ।
পর্বে শেষে মোহাম্মদ আবুল আলা প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়েন। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন: “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। আজ আমার দাওলাত তিলাওয়াতে অংশগ্রহণ শেষ হলো। কিন্তু এটি শেষ নয়—বরং একটি অভিজ্ঞতার সম্পূর্ণতা। এই অভিজ্ঞতায় আমি দেখেছি কুরআন কীভাবে তার প্রকৃত প্রেমিকদের দ্বারা সংরক্ষিত হয় এবং কারি যখন তার যোগ্য স্থানে পৌঁছায় তখন কতটা সম্মানিত হয়।”
তিনি মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে বলেন: “এই সাক্ষাতে আমি কোনো আনুষ্ঠানিক পদাধিকারী নয়—একজন মানুষ ও পিতাকে দেখেছি যিনি বুঝতে পারেন কুরআন কারির সহায়তা প্রয়োজন, প্রতিযোগিতা নয়। আত্মাগুলো খাঁটি হয় না যতক্ষণ না তারা করুণা ও দয়ায় সিক্ত হয়।”
তিনি বিচারক প্যানেল, ওয়াকফ মন্ত্রণালয় ও মিডিয়া কোম্পানি আল-মুত্তাহিদার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন: “আমি দাওলাত তিলাওয়াত ছেড়েছি এই নিশ্চয়তা নিয়ে যে, মিসরের তিলাওয়াত শুধু একটি কণ্ঠের স্কুল নয়—এটি বোঝাপড়া, আদব ও বর্তমানের একটি ঐতিহ্য; এটি বিজ্ঞানভিত্তিক তিলাওয়াত, যা সততা ও আন্তরিকতায় সজ্জিত এবং খুশু দিয়ে শেষ হয়।”

মিসরের দারুল কুরআনের পরিচিতি অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকা আয়া আব্দুর রহমান নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে অবস্থিত মিসরের দারুল কুরআনের পরিচয় দিয়ে বলেন: এটি একটি অনন্য ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ভবন, যা আল্লাহর কিতাবের মহিমা ফুটিয়ে তুলেছে।
তিনি বলেন: দারুল কুরআনে কুরআনের প্রতিটি অক্ষর খোদাই করা হয়েছে। এতে ৩০টি হল রয়েছে—প্রতিটি হল একটি পারা ও কুরআন তিলাওয়াতের বিভিন্ন যুগের ইতিহাস বর্ণনা করে।
আয়া আব্দুর রহমান জানান: এই দারুল কুরআনে মিসরের শীর্ষস্থানীয় কারিদের বিশেষ মিউজিয়াম রয়েছে, যা দর্শনার্থীদের তাদের কণ্ঠ শোনার সুযোগ দেয়—যেন তারা জীবিত ও উপস্থিত।
তিনি আরও বলেন: দারুল কুরআনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হলো বিশাল উসমানি মুসহাফ—কুফি লিপিতে লেখা, যার ওজন ৮০ কিলোগ্রাম। এটি ইসলামী শিল্পকলা ও আরবি হস্তাক্ষরের নিখুঁত সৌন্দর্য প্রতিফলিত করে।

মন্ত্রীর সঙ্গে চার প্রতিযোগীর সাক্ষাৎ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিসরের ওয়াকফ মন্ত্রী ড. উসামা আল-আযহারি গত শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর ২০২৫) প্রোগ্রামের চার প্রতিযোগী—মোহাম্মদ হাসান, মোহাম্মদ আবুল আলা, উমর আলী ও মোহাম্মদ মাহিরকে সাক্ষাৎকারের জন্য গ্রহণ করেন। এই সাক্ষাৎ তাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ছিল।
সাক্ষাৎ মিসরের সুপ্রিম কাউন্সিল ফর ইসলামিক অ্যাফেয়ার্সে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগীরা মন্ত্রীর সঙ্গে এই পর্বটি আল-মুত্তাহিদা মিডিয়া সার্ভিস কোম্পানির স্ক্রিনে অত্যন্ত আন্তরিক ও ভালোবাসাপূর্ণ পরিবেশে দেখেন।
উসামা আল-আযহারি বলেন: দাওলাত তিলাওয়াতের তারকাদের মধ্যে নির্বাচন করা কঠিন, কিন্তু অনিবার্য—কারণ এটাই প্রতিযোগিতার স্বভাব।
তিনি আরও বলেন: এরা সবাই আমার সন্তান। তাদের সঙ্গে দেখা করে আমি খুব খুশি। আমাদের সবাইকে এই দলকে সমর্থন করতে হবে।
উল্লেখ্য, মিসরের ওয়াকফ মন্ত্রণালয় আল-মুত্তাহিদা মিডিয়া সার্ভিস কোম্পানির সহযোগিতায় দেশের সবচেয়ে বড় টিভি প্রতিযোগিতা «দাওলাত তিলাওয়াত» আয়োজন করেছে।
এই প্রতিযোগিতা নতুন প্রজন্মের মিশরীয় কারিদের আবিষ্কার ও পরিচিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে—যারা আব্দুল বাসিত, মিনশাভি, মুস্তফা ইসমাইলের মতো মহান কারিদের ধারাবাহিকতায় তিলাওয়াত করেন।
প্রতিযোগিতার মোট পুরস্কারের মূল্য ৩.৫ মিলিয়ন মিশরীয় পাউন্ড। ত্রিতিল ও কিরাআত শাখার প্রথম স্থান অধিকারী প্রত্যেকে ১ মিলিয়ন পাউন্ড পাবেন। তাদের পূর্ণ কুরআন তিলাওয়াত রেকর্ড করে মিসরের কুরআন চ্যানেলে সম্প্রচার করা হবে।
এছাড়া আগামী রমাদানে এই দুজন কায়রোর ইমাম হুসাইন (আ.) মসজিদে জামাতের ইমামতি করবেন।#4325263