IQNA

ইউসুফ (আ.)-এর স্বপ্ন ও গোপন রাখার হিকমত

12:05 - December 28, 2025
সংবাদ: 3478689
ইকনা- কিছু জিনিস এমন আছে, যেগুলো গোপন রাখা মুমিনের জন্য দূষণীয় নয়। বরং হিংসুক ও শত্রুদের কুদৃষ্টি থেকে নিজেকে ও নিজের ভবিষ্যৎ অর্জনকে নিরাপদ রাখতে কখনো কখনো পরিকল্পনা বা অর্জনগুলো গোপন রাখতে হয়, যাতে তা অর্জনের আগেই বেহাত হয়ে না যায়। আশপাশের মুখোশধারী শত্রুরা তা বানচাল করে দিতে না পারে। পবিত্র কোরআনেও এমন জিনিসগুলো গোপন রাখার ব্যাপারে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
ইরশাদ হয়েছে, (এটা সেই সময়ের কথা) যখন ইউসুফ নিজ পিতাকে (ইয়াকুব আলাইহিস সালাম) বলেছিল, পিতাজি! আমি (স্বপ্নযোগে) এগারোটি নক্ষত্র এবং সূর্য ও চন্দ্রকে দেখেছি। আমি দেখেছি, তারা সকলে আমাকে সিজদা করছে। সে বলল, বাছা! নিজের এই স্বপ্ন তোমার ভাইদের কাছে বর্ণনা কোরো না, পাছে তারা তোমার বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র করে। কেননা শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।
 
 
(সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৪-৫)
তাফসিরের কিতাবে পাওয়া যায়, ইয়াকুব (আ.) স্বীয় পুত্র ইউসুফ (আ.)-এর স্বপ্নের ব্যাখ্যা সামনে রেখে পুত্র ইউসুফকে সতর্ক করতে গিয়ে বলেন—হে আমার প্রিয় পুত্র! তোমার এই স্বপ্নের কথা তুমি তোমার ভাইদের সামনে বর্ণনা কোরো না। কেননা এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা এই যে, তোমার ভ্রাতাগণ তোমার সামনে খাটো হয়ে যাবে। এমনকি তারা তোমার সম্মানার্থে তোমার সামনে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে মাথা নত করবে। সুতরাং খুব সম্ভব যে তোমার এই স্বপ্নের বৃত্তান্ত শুনে এর ব্যাখ্যা সামনে রেখে তারা শয়তানের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে যাবে এবং এখন থেকেই তোমার সঙ্গে শত্রুতা শুরু করে দেবে।
 
 
আর হিংসার বশবর্তী হয়ে ছলনা ও কৌশল করে তোমাকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করবে। এ কারণেই নিয়ামত বা পরিকল্পনা গোপন রাখা উচিত, যে পর্যন্ত না ওটা উত্তমরূপে লাভ করা যায় এবং প্রকাশিত হয়ে পড়ে। অন্যথায় প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য শত্রুরা তা বানচাল করার জন্য বিভিন্ন রকম ষড়যন্ত্র করবে। হাদিস শরিফে এসেছে, প্রয়োজনসমূহ পুরো করার ব্যাপারে ওগুলো গোপন করার মাধ্যমে সাহায্য নাও, কেননা যে ব্যক্তি কোনো নিয়ামত লাভ করে তার প্রতি হিংসা করা হয়ে থাকে।’ (তাবরানি)
 
তবে যখন এ রকম হিংসার শিকার হওয়ার আশঙ্কা কেটে যায় বা নিয়ামত অর্জিত হয়ে যায়, তখন আল্লাহর শুকরিয়াস্বরূপ তা বলা যেতে পারে।
 
 
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘এবং তোমার প্রতিপালকের যে নিয়ামত (পেয়েছ), তার চর্চা করতে থাকো।’ (সুরা : দুহা, আয়াত : ১১)
 
তবে কোনো অবস্থায়ই এই প্রচার অহংকার কিংবা অন্যের ওপর প্রাধান্য লাভের উদ্দেশ্যে হতে পারবে না।  ইবনুল আরাবি তাঁর তাফসিরে বলেন, ‘যদি তুমি কোনো ভালো নিয়ামত লাভ করো, তাহলে বিশ্বাসযোগ্য ভাইদের সঙ্গে কৃতজ্ঞতার উদ্দেশ্যে তা প্রকাশ করো; অহংকার বা প্রাধান্য অর্জনের উদ্দেশ্যে নয়।’ এমনকি কাউকে নীরবে ঠকানো বা নিয়ামত থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যেও গোপনীয়তা অর্জন করা উচিত নয়। কারণ মুমিন অপর মুমিনের অকল্যাণ চাইতে পারে না। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ নিজের জন্য যা পছন্দ করো, তা অপর মুমিন ভাইয়ের জন্য পছন্দ করবে না। (মুসলিম, হাদিস : ৭৪)
captcha