
আল-মিসরাভির বরাত দিয়ে ইকনা জানায়, ইতামার বেন-গভিরের নেতৃত্বাধীন চরম ডানপন্থী দল “ওতসমা ইয়েহুদিত” (ইহুদি শক্তি) কেনেসেটে এই বিল উত্থাপন করেছে। বিল অনুসারে, ফিলিস্তিনি মসজিদগুলোতে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার মূলত নিষিদ্ধ থাকবে এবং শুধুমাত্র সরকারি অনুমতি নিয়েই ব্যবহার করা যাবে। অনুমতিতে শব্দের তীব্রতা এবং আবাসিক এলাকার সান্নিধ্য কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে।
প্রস্তাবিত আইনে অনুমতি ছাড়া লাউডস্পিকার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং পুলিশকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে – যার মধ্যে রয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা, সরঞ্জাম জব্দ করা এবং লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কয়েক দশ হাজার শেকেল পর্যন্ত জরিমানা আরোপ।
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এবং কেনেসেটের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের চেয়ারম্যান জভিকা ফোগেল দাবি করেছেন, এই বিল “অনুমতি প্রদান ও তদারকির জন্য একটি সুসংগত ব্যবস্থা” চালু করবে এবং এর উদ্দেশ্য শান্তি প্রতিষ্ঠা ও জীবনমান উন্নয়ন।
অধিকৃত ফিলিস্তিনে আযান সীমিত বা নিষিদ্ধ করার প্রচেষ্টা নতুন নয়। গত বছরও বেন-গভির পুলিশকে মসজিদ থেকে আযান প্রচারে বাধা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং দাবি করেছিলেন যে, এই শব্দ ইহুদি বাসিন্দাদের জন্য “উপদ্রব” সৃষ্টি করে।
এছাড়া ২০১৭ সালেও আযান প্রচারের জন্য লাউডস্পিকার নিষিদ্ধ করার অনুরূপ একটি বিল কেনেসেটে প্রথম পাঠ অতিক্রম করেছিল, কিন্তু কখনো আইনে পরিণত হয়নি।
এদিকে, অধিকৃত ভূখণ্ডে বসবাসকারী ফিলিস্তিনি নাগরিকরা বেন-গভিরের এই প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং আযানকে “শব্দদূষণ” বলে উল্লেখ করার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। সমালোচকরা বলছেন, এই আইন ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর ফিলিস্তিনিদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় মুছে ফেলার আরেকটি প্রচেষ্টা। 4325688#