IQNA

ট্রাম্পের নেতৃত্বে ফিতনার শক্তি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের নীতি পরিবর্তনে সক্ষম হবে না: শায়খ নাঈম কাসেম

14:30 - January 18, 2026
সংবাদ: 3478765
ইকনা- লেবাননের হিজবুল্লাহর মহাসচিব শায়খ নাঈম কাসেম বলেছেন, মোসাদের এজেন্ট ও ফিতনাকারীরা ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে; তবে ট্রাম্পের নেতৃত্বে সব ধরনের সমর্থন ও তৎপরতা সত্ত্বেও তারা ইরানের চরিত্র ও নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন করতে সক্ষম হবে না।

ইকনা (IQNA)–এর প্রতিবেদনে আল-মানার টেলিভিশনের বরাতে জানানো হয়েছে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর মাবআস (নবুয়ত প্রাপ্তি) উপলক্ষে এবং লেবাননের ৩৩৫ জন পূর্ণ কোরআন হাফেজের সনদপ্রদান অনুষ্ঠানে আজ ২৭ দেই শায়খ নাঈম কাসেম এ বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, “আজ আমরা মহানবী (সা.)–এর মাবআসের বার্ষিকী উদযাপন এবং একদল কোরআন হাফেজের স্নাতকোত্তর সমাপনী অনুষ্ঠানে একত্রিত হয়েছি। মাবআস মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ দিন—যেদিন আল্লাহ তাআলা তাঁর পূর্ণাঙ্গ ও সার্বজনীন বার্তা ইসলাম নবীর হাতে অর্পণ করেন, যেন তা সমগ্র মানবজাতির কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। নবুয়তের মূল লক্ষ্য হলো এমন এক কিতাবের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা, যা মানব জীবনের সব বিধান স্পষ্ট করে। নবীদের রিসালত মানুষের পূর্ণতা ও কল্যাণের পথ নির্দেশ করে। ইসলামই মানবতাকে সত্যের পথে পরিচালিত করে; যেখানে আল্লাহর বিধান রয়েছে, সেখানেই সত্য বিদ্যমান।”
তিনি আরও বলেন, “ট্রাম্প বিশ্বের প্রতিটি অঞ্চলে হস্তক্ষেপ করতে চায়, যাতে গণতান্ত্রিক, ইসলামী ও স্বাধীন জীবনধারা গড়ে উঠতে না পারে। তারা বাজেট, সম্পদ ও তেল দখল করতে এবং জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। ১৯৭৯ সাল থেকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, যা নিজের জনগণের সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল এবং সম্মানজনক প্রতিরোধ—বিশেষ করে দখলদার ইসরায়েলি শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ—সমর্থন করে আসছে। তারা ইরানকে শাস্তি দিতে ও দুর্বল করতে চায় এবং উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, মোসাদ ও আমেরিকার এজেন্ট ব্যবহার এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অপব্যবহারের পথ বেছে নিয়েছে। কিন্তু ট্রাম্পের নেতৃত্বে সব ধরনের সমর্থন ও তৎপরতা সত্ত্বেও তারা ইরানের চেহারা ও নীতিগত অবস্থান বদলাতে পারবে না।”
হিজবুল্লাহ মহাসচিব বলেন, “ইরানের মহান জনগণ লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে। ইরানে সংঘটিত বিক্ষোভ জনগণের দাবি স্পষ্ট করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানে একটি স্বাধীন ব্যবস্থা চায় না; বরং তারা জনগণ, তাদের পছন্দ ও সক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং দখলদারিত্বকে সমর্থন দিয়ে তা পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে চায়। আমরা ইরান, তার জনগণ, নেতৃত্ব ও বিপ্লবের পাশে আছি এবং এটিকে দৃঢ় ও শক্তিশালী মনে করি। আল্লাহর ইচ্ছায়, ইরান আগামীতেও জিহাদ, প্রতিরোধ ও স্বাধীনতার দুর্গ এবং সারা বিশ্বের মজলুমদের আশ্রয়স্থল হয়ে থাকবে।”
ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি ও বিশ্বজুড়ে ট্রাম্পের আগ্রাসী উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভেনেজুয়েলায় শতাব্দীর এক অপরাধ সংঘটিত হয়েছে—সেখানে দেশটির প্রেসিডেন্টকে অপহরণ করা হয়েছে। তারা ভেনেজুয়েলার সম্পদ ও তেল দখল করতে চায় এবং দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে চায়। ট্রাম্প ভেনেজুয়েলাতেই থেমে নেই; সে গ্রিনল্যান্ড, কিউবা, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও চায়। ট্রাম্পের সব কর্মকাণ্ডই আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে।”
লেবাননের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে শায়খ নাঈম কাসেম বলেন, “‘উলিল বাস’ যুদ্ধের সমাপ্তির পর আমরা দুটি বিষয়ের মুখোমুখি—সংঘাতের একটি নতুন পর্যায় এবং লেবাননের একটি নতুন অধ্যায়। হিজবুল্লাহ হিসেবে আমরা প্রতিটি পর্যায়ে রাষ্ট্র ও দেশ গঠনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছি; কিন্তু ইসরায়েলি-আমেরিকান আগ্রাসন, দখলদারিত্বের ধারাবাহিকতা এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সেবায় নিয়োজিত কিছু গোষ্ঠীর বিষপ্রচার লেবাননে স্থিতিশীলতা অর্জনে বাধা সৃষ্টি করেছে। ‘উলিল বাস’ যুদ্ধের পর জনগণের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের ওপর ন্যস্ত হয়েছে। নতুন পর্যায়ের অন্যতম শর্ত হলো যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়ন, এবং লেবানন তার অঙ্গীকার পূরণ করেছে। প্রতিরোধ আন্দোলন এমনভাবে সহযোগিতা করেছে যে লেবাননের পক্ষ থেকে একটি লঙ্ঘনও ঘটেনি। এই চুক্তিতে কোনো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয় নেই—হয় সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হবে, নয় হবে না। জাতিসংঘের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব পুরোপুরি একটি লেবাননি বিষয়; যেমন অস্ত্রের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ও জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলও সম্পূর্ণ লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়। দেশ ও রাষ্ট্র গঠনে ব্যর্থতার কারণ হলো আমেরিকান-ইসরায়েলি আগ্রাসন, আর্থিক ও রাজনৈতিক কার্টেল এবং এমন একটি গোষ্ঠী, যারা যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়।”
তিনি আরও বলেন, “পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতি লেবাননের কূটনীতিকে অচল করে দিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী কে? তিনি রাষ্ট্র ও বর্তমান সরকারের নীতির বাইরে গিয়ে কাজ করছেন। তিনি অভ্যন্তরীণ শান্তিকে জিম্মি করে বিভেদ সৃষ্টি করছেন। তিনি সরকার, লেবাননের জনগণ ও প্রতিরোধের বিরোধিতা করছেন। এই অকার্যকারিতার দায়িত্ব লেবানন সরকারের—হোক তা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পরিবর্তন করা, তাকে নীরব করা অথবা তাকে লেবাননের নীতির প্রতি বাধ্য করা। আজ লেবানন দুর্নীতি, তোষামোদ ও আগ্রাসনের মুখোমুখি।”

captcha