মেনাফনের বরাত দিয়ে ইকনা জানায়, এই চুক্তির মাধ্যমে ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপির ডকুমেন্টেশন ও আর্কাইভিং সংক্রান্ত নীতি ও নিয়মাবলী একীভূত করা, শিক্ষামূলক কর্মসূচি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।
শারজাহ কুরআন মজলিসের চেয়ারম্যান খলিফা মুসাব্বিহ আল-তানিজি এবং শারজাহ মিরাস সেন্টারের চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ আল-মুসলিম এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও বিভাগীয় প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।
শারজাহ কুরআন মজলিসের চেয়ারম্যান আল-তানিজি এই সহযোগিতার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, এই চুক্তি মজলিসের নতুন প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে কুরআনের সেবা, পাণ্ডুলিপির মেরামত ও আর্কাইভিংয়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার অংশ। এসব পাণ্ডুলিপি কুরআন লিপিকরণের ইতিহাস ও কুরআনী বিজ্ঞানের বিকাশের জীবন্ত সাক্ষী।
তিনি আরও বলেন, ইউনেস্কোর স্বীকৃতি প্রাপ্ত শারজাহ মিরাস সেন্টারের সাথে এই সহযোগিতা ঐতিহাসিক ও দুর্লভ পাণ্ডুলিপি ও নিদর্শনসমূহের আর্কাইভিংয়ে সহায়তা করবে, যাতে এগুলো ক্ষতি বা হারিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পায় এবং গবেষক ও আগ্রহীদের জন্য সহজলভ্য হয়।
আল-তানিজি জোর দিয়ে বলেন, এই চুক্তি শারজাহ কুরআন মজলিসকে আন্তর্জাতিক মহলে পরিচিত করতে সহায়ক হবে, যেখানে মিরাস সেন্টার নিয়মিত অংশগ্রহণ করে।
শারজাহ কুরআন ক্রিম মজলিস ৪ জানুয়ারি ২০২১ সালে শারজাহ আমির ও শাসকের উদ্বোধন করেন। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় কুরআন মজলিস, যেখানে সাতটি বৈজ্ঞানিক ও ঐতিহাসিক মিউজিয়াম রয়েছে। এছাড়া এটি কুরআন সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচি ও আগ্রহীদের সমাবেশের কেন্দ্র। মজলিসের ১৪০টি দেশে শাখা রয়েছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হয়।
বর্তমানে মজলিসে কুরআনের ঐতিহাসিক সংস্করণ, চামড়ায় লিখিত কুরআনসহ বিরল কুরআনী নিদর্শন রয়েছে, যার কিছু ১৩০০ বছর পুরোনো এবং দ্বিতীয় হিজরী শতাব্দী থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত।
শারজাহ মিরাস সেন্টার একটি সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান এবং ইউনেস্কোর অধীনে দ্বিতীয় স্তরের আন্তর্জাতিক কেন্দ্র, যা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করে। এটি ঐতিহ্য সংরক্ষণ, অধ্যয়ন ও ডকুমেন্টেশনে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে এবং এ ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি।
https://iqna.ir/fa/news/4329202