IQNA

মার্চ মাস হতে শুরু হতে যাচ্ছে ৩৩তম আন্তর্জাতিক কুরআন প্রদর্শনী

13:56 - January 21, 2026
সংবাদ: 3478777
ইকনা- ইরানের সংস্কৃতি ও ইসলামী নির্দেশনা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ উচ্চ কুরআন ও আহলে বাইত কেন্দ্রের প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন হামিদরেজা আরবাব-সুলাইমানী জানিয়েছেন, আগামী মার্চ মাসের শুরুতে (এসফান্দ মাসের প্রথম দিকে) ৩৩তম আন্তর্জাতিক কুরআন প্রদর্শনী শুরু হবে। এবারের প্রদর্শনীতে নাহজুল বালাগা ও সহিফায়ে সাজ্জাদিয়ার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং এই দুটি গ্রন্থের সবচেয়ে সাবলীল ও সহজবোধ্য ফার্সি অনুবাদগুলো প্রদর্শিত ও পুরস্কৃত হবে। এছাড়া কিশোর-কিশোরীদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি রাখা হয়েছে।

ইকনার সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন হামিদরেজা আরবাব-সুলাইমানী এবারের প্রদর্শনীর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ও পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় পার্থক্য তুলে ধরেছেন। সাক্ষাৎকারের মূল অংশ নিম্নরূপ:

ইকনা: আন্তর্জাতিক কুরআন প্রদর্শনীর জন্য মাত্র এক মাস বাকি। এবারের প্রদর্শনীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ও পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় পার্থক্য কী?

হুজ্জাতুল ইসলাম আরবাব-সুলাইমানী: পরিকল্পনা অনুসারে, আগামী এসফান্দ মাসের শুরুতে (যা পবিত্র রমজান মাসের সাথে মিলে যাবে) ৩৩তম আন্তর্জাতিক কুরআন প্রদর্শনী শুরু হবে। এবারের প্রদর্শনীর অন্যতম প্রধান দিক হলো কুরআন, নাহজুল বালাগা ও সহিফায়ে সাজ্জাদিয়ার উপর যুগপৎ গুরুত্ব আরোপ। নাহজুল বালাগাকে “কুরআনের ভাই” এবং সহিফায়ে সাজ্জাদিয়াকে “কুরআনের বোন” হিসেবে বিবেচনা করে এই তিনটি মূল্যবান উৎসকে একসাথে উপস্থাপন করা হবে। এতে দর্শকরা ধর্মীয় জ্ঞানের একটি সম্পূর্ণ ও সুসংহত চিত্র পাবেন। এই তিনটি উৎসের উপর বিশেষ মনোযোগ এবারের প্রদর্শনীর অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য।

ইকনা: আন্তর্জাতিক অংশে কী কী কর্মসূচি রাখা হয়েছে?

হুজ্জাতুল ইসলাম আরবাব-সুলাইমানী: আন্তর্জাতিক অংশে দেশের ভিতরে ও বাইরে উপলব্ধ সব ধরনের সক্ষমতা কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো বিশেষজ্ঞ ও এই ক্ষেত্রের কর্মীদের সাথে পরামর্শ করে আন্তর্জাতিক অংশের জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। এতে কুরআনী বুদ্ধিজীবী ও বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় একটি সুসংগঠিত, প্রভাবশালী ও প্রদর্শনীর মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি প্রস্তুত করা সম্ভব হয়েছে।

ইকনা: শিশু-কিশোর ও যুবকদের জন্য এবারের প্রদর্শনীতে কী স্থান রাখা হয়েছে?

হুজ্জাতুল ইসলাম আরবাব-সুলাইমানী: এবারের প্রদর্শনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অক্ষ হলো শিশু, কিশোর ও যুবকদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ। তাদের জন্য স্বতন্ত্র বিভাগ রাখা হয়েছে, যাতে তাদের রুচি ও বয়সের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভাষা ও উপকরণের মাধ্যমে কুরআনের সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা যায়। এছাড়া দেশের বিখ্যাত ও শীর্ষস্থানীয় ক্বারীদের উপস্থিতিতে কুরআনী মাহফিল, তিলাওয়াতের আসর এবং বিভিন্ন প্রচারমূলক কর্মসূচিও রাখা হয়েছে।

ইকনা: কুরআনী অনুবাদ ও গবেষণার ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে?

হুজ্জাতুল ইসলাম আরবাব-সুলাইমানী: অনুবাদের ক্ষেত্রে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে ইসলামী বিপ্লবের পর গত চার দশকেরও বেশি সময়ে প্রকাশিত অনুবাদগুলোর উপর। এসব অনুবাদ পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করা হবে এবং সেরা অনুবাদগুলো—কুরআন, নাহজুল বালাগা ও সহিফায়ে সাজ্জাদিয়ার—প্রকাশকদের সম্মানিত করা হবে যাতে এসব কাজ সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য হয়।

ইকনা: সাম্প্রতিক ঘটনা ও কুরআন ও মসজিদের অবমাননার প্রেক্ষাপটে এবারের প্রদর্শনীর ভূমিকা কী হতে পারে?

হুজ্জাতুল ইসলাম আরবাব-সুলাইমানী: নিঃসন্দেহে কুরআন প্রদর্শনী মানুষের কুরআনের সাথে গভীর সম্পর্কের একটি উজ্জ্বল প্রতিফলন হতে পারে। গত বছরের মতো এবারও জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের আশা করছি। সাম্প্রতিক সংবেদনশীলতার কারণে মানুষের উপস্থিতি আরও বেশি অর্থবহ ও প্রভাবশালী হবে বলে আশা করি। এই উপস্থিতি সমাজের সর্বস্তরে কুরআনের অবস্থানকে আরও মজবুত করতে সহায়ক হবে।

captcha