IQNA

মিসরের মুফতি: কুরআনের তাফসীরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার শরিয়তসম্মত নয়

16:30 - January 29, 2026
সংবাদ: 3478804
ইকনা- মিসরের মুফতি নাজির আইয়াদ বলেছেন, কুরআনের আয়াতের তাফসীর বা ব্যাখ্যার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রোগ্রামের উপর নির্ভর করা শরিয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ নয়।

সিদ্দি আল-বালাদের বরাত দিয়ে ইকনা জানায়, মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি নাজির আইয়াদ দারুল ইফতা ওয়েবসাইটে এক প্রশ্নের জবাবে কুরআনের তাফসীরে এআই (বিশেষ করে চ্যাটজিপিটি)-এর ব্যবহারের শরিয়তসম্মত অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।

তিনি বলেন, কুরআন কারিমের তাফসীরে সম্পূর্ণভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রোগ্রামের উপর নির্ভর করা শরিয়তের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ। এআই-এর স্বাধীনভাবে কুরআনের অর্থ ব্যাখ্যা করা জায়েজ নয়।

মুফতি জোর দিয়ে বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা আল্লাহর কিতাবকে অনুমান-কল্পনা ও অজ্ঞতার ভিত্তিতে ব্যাখ্যা থেকে রক্ষা করার জন্য। এতে কুরআনের উপর এমন অর্থ আরোপ করা থেকে সুরক্ষা হয় যা বিশেষজ্ঞদের দ্বারা প্রমাণিত নয়।

তিনি বলেন, কুরআনের অর্থ অনুসন্ধান ও তাফসীরের অধিকার শুধুমাত্র তাদের জন্য যাদের কাছে তাফসীরের সরঞ্জাম, প্রমাণিত নিয়ম-কানুন এবং বিশ্বস্ত উলামা ও ফকিহদের স্বীকৃত পদ্ধতি রয়েছে।

নাজির আইয়াদ জোর দিয়ে বলেন, কুরআনের আয়াত বোঝা ও তাফসীরের জন্য বিশ্বস্ত তাফসীর গ্রন্থের সাহায্য নিতে হবে অথবা বিশেষজ্ঞ ওলামা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রশ্ন করতে হবে। এতে কুরআনের সঠিক অর্থ জ্ঞান, সত্যতা ও নির্ভুলতার ভিত্তিতে নিশ্চিত হয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আধুনিক যুগের অন্যতম বড় প্রযুক্তিগত অগ্রগতি। এটি ধর্মীয় গ্রন্থের প্রসেসিংয়েও ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু এআই কুরআনের সূরা-আয়াত নিয়ে বড় ভুল করেছে। সম্প্রতি ফেসবুক ব্যবহারকারীরা চ্যাটজিপিটির সাথে সূরা ফালাক নিয়ে আলোচনার স্ক্রিনশট প্রকাশ করেছেন। সেখানে এআই কুরআনের অংশ নয় এমন কথা দিয়ে উত্তর দিয়েছে। পরে যখন বলা হয় সূরাটি ভুল, তখন সঠিক সূরা উল্লেখ করেছে।

বহু আলেম, দাঈ ও ফকিহ ইন্টারনেটভিত্তিক প্রোগ্রাম ও প্ল্যাটফর্মবিশেষ করে এআই-এর কারণে কুরআনের আয়াত বিকৃত হওয়ার আশঙ্কায় সতর্ক করেছেন। তারা মুসলিমদের অজানা বা অপ্রমাণিত প্রোগ্রাম ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন। কুরআনের হিফজ ও পাঠ সংরক্ষণ প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর দায়িত্ব বলে তারা জোর দিয়েছেন। 4330826#

captcha