
ইমাম সাদিক (আ.)-কে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেছিলেন, সাকিফায় আমিরুল মুমিনিন (আ.) কেন যুদ্ধ করেননি? ইমাম (আ.) উপরোক্ত আয়াতের দিকে ইশারা করে বলেন: “আমানতসমূহ (মুমিনদের বংশধর) এখনও কাফিরদের পিঠে (সন্তানের আকারে) রয়েছে। যতক্ষণ তারা বের না হয়, হজরত কাইম (আ.)-এর যুহুর হবে না। তারা বের হওয়ার পর তিনি যুহুর করবেন এবং শত্রুদের ওপর বিজয়ী হবেন।”
অর্থাৎ সাকিফার সময় যদি যুদ্ধ শুরু হতো, তাহলে সীমিত সংখ্যক লোকের সঙ্গে লড়াই হতো। কিন্তু খিলাফতকালে হাজার হাজারের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয়েছে। রহস্য এই যে, এই বিলম্বের মধ্যে আল্লাহর আমানতসমূহ (যারা পরবর্তীতে মুমিন হবে) বেড়ে উঠার সুযোগ পেয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-ও ফতহে মক্কার সময় মক্কাবাসীদের ওপর প্রতিশোধ নিতে দেননি—কারণ তাদের পিঠে এখনও অনেক মুমিনের বীজ ছিল।
এই ধর্মীয় ছাঁকনি (غربالگری) সময়সাপেক্ষ। অনেক সময় রিজাল (পতন) আমাদের পাশে ঘটে, কিন্তু রিশাল (উত্থান) পৃথিবীর অন্য প্রান্তে। যেমন—আজ পশ্চিমের অনেক স্বাধীনচেতা মানুষ ইরানে ইসরায়েলের নির্মম হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে রাস্তায় নামছেন, অথচ কিছু লোক ইসরায়েলের পতাকা উড়িয়ে আনন্দ করছে।
এই দৃশ্যই আখেরি জমানার ছাঁকনির জীবন্ত প্রমাণ।