
ইকনা সংবাদদাতার প্রতিবেদন অনুযায়ী: সংবাদ মাধ্যম আল-মায়াদিন জানিয়েছে, ইরানের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যিদ মুজতবা খামেনেয়ীর প্রথম বার্তার পর আজ তেহরান ও অন্যান্য প্রদেশে লাখ লাখ মানুষের ঢল নামে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিছিল চলাকালীন তেহরানের বিপ্লব চত্বরের (এঙ্কোলাব স্কয়ার) কাছাকাছি মার্কিন-জায়নবাদী বিমান হামলা চালানো হয়। কিন্তু বোমা হামলার শব্দকে ছাপিয়ে ইরানিদের ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি ও গর্জনে রাজপথ প্রকম্পিত হতে থাকে।
আল-মায়াদিন আরও উল্লেখ করেছে যে, হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটলেও মিছিল থামেনি। সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানিসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে সাধারণ মানুষ নতুন নেতৃত্ব ও সশস্ত্র বাহিনীর সমর্থনে স্লোগান দিতে থাকেন। এটি নতুন নেতৃত্বের সাথে জনগণের গভীর সংহতির বহিঃপ্রকাশ।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া:
রাশিয়া টুডে (RT): রুশ এই মাধ্যমটি বেশ কিছু ভিডিও প্রকাশ করে দেখিয়েছে যে, আকাশে শত্রু বিমানের গর্জন ও বোমাবর্ষণের মধ্যেও ইরানি নাগরিকরা কতটা সাহসিকতার সাথে রাজপথে অবস্থান করছেন।
সিএনএন (CNN): মার্কিন এই সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তেহরানসহ ইসফাহান ও অন্যান্য স্থানে ‘ব্যাপক হামলা’ শুরুর ঘোষণা দিলেও ইরানের শহরগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
রয়টার্স (Reuters): ব্রিটিশ বার্তা সংস্থাটি জানিয়েছে, তেহরানের মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কুশপুত্তলিকা দাহ করে আমেরিকা ও ইসরায়েল বিরোধী স্লোগান দেয়।
ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ‘শাহাব’: তারা জানিয়েছে, হামলার কারণে সৃষ্ট বিস্ফোরণের শব্দ উপেক্ষা করে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও আলী লারিজানির নেতৃত্বে লাখ লাখ ইরানি কুদস দিবসে অংশ নিয়েছেন।
লেবাননের সংবাদমাধ্যম আল-মানার ও আল-আহদ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যিদ আব্বাস আরাগচির একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করেছে। তিনি বলেছেন, "হামলার মুখেও এই অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, ইরান ও ফিলিস্তিন রক্ষায় ইরানি জনগণের সংকল্প কতটা অটুট।"
এবারের কুদস দিবস কেবল ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি নয়, বরং সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে দাঁড়িয়ে ইরানের জাতীয় ঐক্যের এক অনন্য প্রদর্শনীতে পরিণত হয়েছে।
4340480#