IQNA

কুরআনে ইহুদিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিশ্লেষণ/18

কেন আহলে কিতাবের সাথে ‘ওলায়াত’ বা কর্তৃত্বমূলক সম্পর্ক নিষিদ্ধ?

12:41 - March 30, 2026
সংবাদ: 3479038
ইকনা- পবিত্র কুরআন ‘মুমিনদের পারস্পরিক ওলায়াত’ এবং ‘আহলে কিতাবের সাথে ওলায়াত নিষিদ্ধ’—এই দুই নীতির মাধ্যমে বিশ্বাসীদের জন্য ভালোবাসা ও বিরাগের সঠিক পথ নির্ধারণ করেছে, যাতে কাফিরদের প্রতি ভালোবাসা ও সহায়তা শেষ পর্যন্ত তাদের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব মেনে নেওয়ার দিকে না গড়ায়।

কুরআনে ‘ওলায়াত’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বহুল ব্যবহৃত শব্দ। আল্লাহ তাআলাই একমাত্র প্রকৃত অভিভাবক: «فَاللَّهُ هُوَ الْوَلِيُّ» “আল্লাহই হলেন প্রকৃত অভিভাবক” (সূরা শূরা: ৯)। অর্থাৎ প্রকৃত অভিভাবকত্ব ও কর্তৃত্ব কেবল আল্লাহর জন্যই নির্ধারিত। কেউ যদি এই দিক থেকে বঞ্চিত হয়, তবে তার ওপর তাগুতের (অন্যায় শক্তির) কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়—যা এক ধরনের শাস্তি (সূরা বাকারা: ২৫৭)।

অন্যদিকে, কুরআন মুমিনদের পারস্পরিক ওলায়াতের কথাও উল্লেখ করেছে। তারা পরস্পরের ভাই (সূরা হুজুরাত: ১০) এবং তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বজায় রাখা উচিত (সূরা তাওবা: ৭১)। একজন মানুষ একইসঙ্গে মুমিন ও অমুমিন উভয়ের সাথে ওলায়াত রাখতে পারে না। তাই কুরআন একদিকে বন্ধুত্ব ও আনুগত্যের পথ দেখিয়েছে, অন্যদিকে বিরাগ প্রকাশের পথও নির্ধারণ করেছে।

কুরআন স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছে—কাফিরদের সাথে (সূরা নিসা: ১৪৪), আল্লাহর শত্রুদের সাথে (সূরা মুমতাহিনা: ১) এবং বিশেষভাবে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের সাথে «لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى أَوْلِيَاءَ»  “তোমরা তাদেরকে বন্ধু ও অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করো না” (সূরা মায়েদা: ৫১)—এ ধরনের সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে না। এমনকি যদি পিতা-মাতা বা সন্তানও দ্বীনের পথে না থাকে, তাদের সাথেও এই ধরনের ওলায়াত স্থাপন না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (সূরা তাওবা: ২৩)। অর্থাৎ, প্রথমে কার প্রতি বিরাগ তা নির্ধারণ করতে হবে, এরপর নিজের আনুগত্যের দিক নির্ধারণ করতে হবে।

তাহলে এই নিষেধাজ্ঞার কারণ কী? সূরা আলে ইমরানের ২৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: «وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَلَيْسَ مِنَ اللَّهِ فِي شَيْءٍ  “যে এমন করবে, তার সাথে আল্লাহর কোনো সম্পর্ক থাকবে না।” কারণ, ওলায়াতের প্রাথমিক ধাপ হলো ভালোবাসা ও সহায়তা; কিন্তু এর উচ্চতর ধাপ গিয়ে পৌঁছাতে পারে নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব গ্রহণে।

সূরা মায়েদার ৫১ নম্বর আয়াতেও বলা হয়েছে: : «وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ “তোমাদের মধ্যে যে তাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।” সুতরাং, মানুষকে এই বড় বিপদ থেকে রক্ষা করার জন্যই আল্লাহ তাআলা শুরুতেই ঘনিষ্ঠতা ও ভালোবাসাভিত্তিক ওলায়াত থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তা শেষ পর্যন্ত তাদের কর্তৃত্ব মেনে নেওয়ার দিকে না পৌঁছে।

captcha