IQNA

বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি অপসারণের দাবি জোরালো

11:53 - April 01, 2026
সংবাদ: 3479044
বাহরাইনে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি অপসারণের দাবি নতুন করে জোরালো হয়ে উঠেছে। দেশটির মানবাধিকার সংস্থার সভাপতি বাকি’র দারবিশ এক বিশ্লেষণধর্মী লেখায় বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক উপস্থিতির সমালোচকদের দমন করে এই বিষয়টি আর আড়াল করা সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, একসময় যেসব বিষয় জনসমক্ষে আলোচনার বাইরে ছিল, এখন তা স্থানীয়, আরব ও মুসলিম জনমতের কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেন: বিদেশি সামরিক উপস্থিতি কি একটি দেশের পূর্ণ সার্বভৌমত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? এর প্রভাব জাতীয় পরিচয়ের ওপর কী? নাগরিকদের কি এ ধরনের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার রয়েছে? একটি দেশ যদি পরাশক্তির সামরিক ঘাঁটি ধারণ করে, তবে কি সে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করতে পারে?

প্রবন্ধে আরও বলা হয়, কেবল আনুষ্ঠানিক চুক্তি থাকলেই তা জনসমর্থনের বৈধতা নিশ্চিত করে না। প্রকৃত বৈধতা আসে জনগণের সম্মতি থেকে, যা শক্তিশালী নির্বাচিত সংসদ বা গণভোটের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

লেখক দাবি করেন, বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের উপস্থিতি এমন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তিনি দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, যেখানে বিরোধীদের জন্য কারাগারের দরজা এখনও খোলা, সেখানে এ ধরনের সামরিক উপস্থিতি জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন নয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাহরাইনকে আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে ফেলছে, বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে। তার মতে, এই উপস্থিতি দেশের জন্য অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত ঝুঁকি তৈরি করছে এবং এর ফলে জনগণের ওপর করের চাপ বাড়তে পারে।

প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ স্থাপনার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বাহরাইনে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি গড়ে ওঠে এবং ১৯৯৫ সাল থেকে এটি যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের স্থায়ী ঘাঁটিতে পরিণত হয়। বর্তমানে এটি অঞ্চলে মার্কিন প্রভাবের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।

একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে ৫১টি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ১২৮টিরও বেশি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। লেখক মনে করেন, বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা—এই সামরিক উপস্থিতি পুনর্বিবেচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

তিনি উদাহরণ হিসেবে ফিলিপাইনের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে ১৯৯২ সালে জনমতের চাপে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নবায়ন করা হয়নি। এছাড়া স্পেন, ইকুয়েডর ও উজবেকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে মার্কিন উপস্থিতি কমানোর অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরা হয়।

শেষে লেখক জোর দিয়ে বলেন, বাহরাইনসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে বিদেশি সামরিক ঘাঁটি অপসারণের সময় এসেছে এবং এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য জরুরি।

captcha