
ইকনা রিপোর্ট: আস্তানে মুকাদ্দাসে আলবীর ওয়েবসাইটের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ‘সপ্তাহে গদীর বিশ্বব্যাপী কর্মসূচি’র প্রস্তুতির অংশ হিসেবে হজরত ইমাম আলী (আ.)-এর পবিত্র হরমের জনসংযোগ বিভাগের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন পবিত্র মাজার ও ঐতিহাসিক মসজিদ পরিদর্শন করে গদীরের পতাকা সেসব স্থানের দায়িত্বশীলদের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
হজরত ইমাম আলী (আ.)-এর পবিত্র হরম থেকে আগত প্রতিনিধি দলকে কুফা ও সাহলার দুই বড় মসজিদের দায়িত্বশীল এবং হজরত মায়সামে তাম্মার (রা.)-এর মাজারের প্রতিনিধিরা উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
মাজার ও মসজিদের দায়িত্বশীলরা এই মোবারক উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ঈদে গদীরকে জীবিত করতে সাধারণ সমন্বয়ের মাধ্যমে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা উচিত, যা আমিরুল মুমিনিন (আ.)-এর সাথে বাইয়াত ও তাঁর পথ অনুসরণের ধারণাকে আরও মজবুত করবে।
ঈদে গদীরের কর্মসূচি আজ সোমবার (১১ জুন) হজরত আমিরুল মুমিনিন (আ.)-এর হরমে বিশাল গদীর পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। একই সাথে ইরাকের পবিত্র স্থানসমূহ, বিভিন্ন প্রদেশ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই পতাকা উত্তোলিত হবে। এটি আমিরুল মুমিনিন (আ.)-এর সাথে পুনরায় বাইয়াত ও আনুগত্যের উৎসবের সূচনা করবে।
গদীরের দিনে কবিতা আবৃত্তি, তওয়াশীহ, পতাকা উত্তোলনসহ নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে, যা প্রতি বছর জনসাধারণের ব্যাপক অংশগ্রহণে উদযাপিত হয়।

১৫০ স্থানে গদীরের পতাকা উত্তোলন
আস্তানে আলবী জানিয়েছে, ইরাকের প্রদেশসমূহ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গদীরের পতাকা উত্তোলনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এই কর্মসূচি عیدالله الاکبر-এর মর্যাদা বৃদ্ধি এবং গদীরের সংস্কৃতি ও আহলে বাইত (আ.)-এর মারেফাত ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে আয়োজিত হচ্ছে।
আস্তানে আলবীর মিডিয়া প্রধান হায়দার রহীম এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এবার ১৫০টি স্থানে গদীরের পতাকা উত্তোলিত হবে। এর মধ্যে ৮৭টি আন্তর্জাতিক স্থান (২৮টি দেশে), ২১টি ইরাকের ১৫টি প্রদেশে, ৮টি পবিত্র ওযারাতে, ২৬টি মাজারে এবং নজফ আশরাফ ও আশপাশের ৮টি স্থানে পতাকা উত্তোলন করা হবে।

তিনি জানান, ইউরোপীয় দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি স্থানে পতাকা উত্তোলিত হবে। এছাড়া ইরানের ২০টি প্রদেশ, পাকিস্তান (১০), ভারত (১০), লেবানন (৩), তুরস্ক (২), অস্ট্রেলিয়া (৩) এবং থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, চীন, সৌদি আরব, মিসরসহ কয়েকটি আফ্রিকান দেশেও (যেমন: আইভরি কোস্ট, নাইজেরিয়া, কেনিয়া) এই কর্মসূচি পালিত হবে।
হায়দার রহীম আরও বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার দেশ ও স্থানের সংখ্যা বেড়েছে। আস্তানে আলবী গদীরের মর্যাদা বৃদ্ধি এবং এর মানবিক ও ঈমানী বার্তাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে। 4355449#