IQNA

আল-আকসা মসজিদে আগ্রাসনের নিন্দায় আট মুসলিম দেশের যৌথ বিবৃতি

22:14 - June 03, 2026
সংবাদ: 3479256
আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অনুপ্রবেশ ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে আটটি মুসলিম দেশ।

সৌদি আরবের সরকারি বার্তা সংস্থার বরাতে জানা গেছে, সৌদি আরব, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এ যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেন।

 

বিবৃতিতে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর সুরক্ষায় চরমপন্থী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বারবার আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ এবং সেখানে ইসরায়েলের পতাকা উত্তোলনের ঘটনাকে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানানো হয়। এতে বলা হয়, এসব উসকানিমূলক ও অগ্রহণযোগ্য কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবনা এবং পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র স্থানগুলোর ঐতিহাসিক ও আইনি মর্যাদার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

 

পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আরও বলেন, দখলদার শক্তি হিসেবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ পূর্ব জেরুজালেমের ঐতিহাসিক, আইনি ও জনসংখ্যাগত চরিত্র পরিবর্তনের লক্ষ্যে যে ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত অবৈধ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, তা নিন্দনীয়। একই সঙ্গে ইসলামী ও খ্রিস্টান পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা ক্ষুণ্ন ও পবিত্রতা বিনষ্টের প্রচেষ্টারও তারা তীব্র সমালোচনা করেন।

 

যৌথ বিবৃতিতে জেরুজালেম এবং এর ইসলামী ও খ্রিস্টান পবিত্র স্থানগুলোর বিদ্যমান ঐতিহাসিক ও আইনি অবস্থান পরিবর্তনের যেকোনো প্রচেষ্টার প্রতি দৃঢ় বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করা হয় এবং তা সংরক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়।

 

এতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ১৪৪ দোনম আয়তনের পুরো আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ কেবল মুসলমানদের জন্য নির্ধারিত একটি পবিত্র স্থান। জর্ডানের ওয়াক্‌ফ, ইসলামিক বিষয়ক ও পবিত্র স্থানবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন জেরুজালেম ওয়াক্‌ফ প্রশাসনই আল-আকসা মসজিদের সব বিষয় পরিচালনা ও সেখানে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের একমাত্র বৈধ কর্তৃপক্ষ।

 

বিবৃতিদাতা দেশগুলো এসব উত্তেজনাপূর্ণ কর্মকাণ্ড বন্ধ করার দায় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তায় বলে উল্লেখ করে সতর্ক করে দেয় যে, এ ধরনের পুনরাবৃত্ত লঙ্ঘন পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, এসব কর্মকাণ্ড উত্তেজনা বৃদ্ধি, অস্থিতিশীলতা ও চরমপন্থা উসকে দিচ্ছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে। পাশাপাশি এগুলো আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ইসরায়েলের দায়বদ্ধতারও স্পষ্ট লঙ্ঘন।

 

আট দেশ অবিলম্বে এসব অবৈধ ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আল-আকসা মসজিদের ঐতিহাসিক ও আইনি মর্যাদা রক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর পুনরায় গুরুত্বারোপ করে। একই সঙ্গে তারা ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি তাদের অটল সংহতি প্রকাশ করে এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারসহ তাদের বৈধ ও অবিচ্ছেদ্য জাতীয় অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে।

 

বিবৃতিতে ১৯৬৭ সালের ৪ জুনের সীমান্তের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।4356166#

captcha