
সংবাদমাধ্যম *মার্স ৩০*-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে স্পেনে নিবন্ধিত ঘৃণাপ্রসূত অপরাধ ও ঘটনার সংখ্যা ২০১৪ সালে তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোট ২,৪১৭টি ঘৃণাপ্রসূত অপরাধ ও ঘটনার তদন্ত করেছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২৩.৬ শতাংশ বেশি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্ণবাদ ও বিদেশিবিদ্বেষমূলক অপরাধের সংখ্যা সর্বাধিক ছিল। এ ধরনের মোট ৯৩৪টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তবে ইসলামবিদ্বেষই ছিল এমন একটি প্রবণতা, যার বৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
তথ্য অনুযায়ী, মুসলমানদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ঘৃণাপ্রসূত অপরাধ ২০২৪ সালের তুলনায় ১৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৫টিতে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, অনলাইন বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ইসলামবিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ডের বৃদ্ধি ৪৫০ শতাংশে পৌঁছেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক ঘৃণাপ্রসূত অপরাধ ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে ইহুদিবিদ্বেষমূলক (অ্যান্টিসেমিটিক) কর্মকাণ্ডও ৮৬.৫ শতাংশ বেড়েছে।
বর্ণবাদ ও বিদেশিবিদ্বেষমূলক অপরাধের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে লিঙ্গপরিচয়-সম্পর্কিত অপরাধ, যার সংখ্যা ৫৭১টি। এর পরেই রয়েছে আদর্শিক বা মতাদর্শগত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধ, যার সংখ্যা ২৪১টি। এই শ্রেণির অপরাধে ৬৪ শতাংশ বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত ২০২৫-২০২৮ মেয়াদের ঘৃণাপ্রসূত অপরাধবিরোধী তৃতীয় জাতীয় কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় উপস্থাপন করেন।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে যে, এসব অপরাধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সম্পৃক্ততাও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক ভুক্তভোগীর সংখ্যা ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অপরাধে জড়িত অপ্রাপ্তবয়স্কদের সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।
স্পেনের কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, ঘৃণাপ্রসূত অপরাধের এই ঊর্ধ্বগতি সমাজে বর্ণবাদী ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের ক্রমবর্ধমান বিস্তারের ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে ইসলামবিদ্বেষ দ্রুত বিস্তার লাভকারী অন্যতম উদ্বেগজনক প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। 4356278