ইকনা’র বরাত দিয়ে নবা জানিয়েছে, সৌদি সরকারের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় বিধিনিষেধ সত্ত্বেও কাতিফ অঞ্চলের জনগণ মুহররমের প্রথম রাতে কমপক্ষে ৬০০টি হুসাইনি মজলিস আয়োজন করে আশুরার আচার-অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। এই মজলিসগুলো এই অঞ্চলের শিয়া সমাজের ধর্মীয় অনুশাসন ও ধর্মীয় পরিচয়ের প্রতি তাদের অবিচল দৃঢ়তার প্রতীক।
মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ এবং ‘মাসওয়ারাত’ প্ল্যাটফর্মের প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, এসব মজলিস কাতিফের বিভিন্ন শহর, গ্রাম ও মহল্লায় মসজিদ, হুসাইনিয়া, বাসগৃহ ও ব্যক্তিগত মাহফিলে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
যদিও এই সংখ্যা সব মজলিসকে অন্তর্ভুক্ত করে না, তবুও এটি মুহররমের আজাদারি অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে জনগণের অটল সংকল্প ও দৃঢ়তার প্রমাণ। প্রথম রাতের মজলিসে বক্তারা খরচ ও কষ্ট সত্ত্বেও আশুরার স্মৃতি ও বার্তা জীবন্ত রাখার গুরুত্ব এবং সমাজজীবনে এই আন্দোলনের শিক্ষা প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে দেখা যায়, জনগণের মধ্যে আজাদারির অনুষ্ঠানের প্রতি ব্যাপক উৎসাহ রয়েছে। এতটাই যে, অনেক ছোট মজলিসেও প্রথম রাত থেকেই ব্যাপক সংখ্যক আজাদারকারী উপস্থিত হয়েছেন, যেখানে আগের বছরগুলোতে এমন ভিড় সাধারণত চতুর্থ রাতের পর দেখা যেত।
কাতিফ অঞ্চলের শিয়ারা মুহররমের অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন, যেখানে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, সৌদি নিরাপত্তা সংস্থাগুলো মুহররমের আচার-অনুষ্ঠানের উপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে চেকপোস্ট স্থাপন, কিছু নাগরিকের চলাচল সীমিত করা, কিছু কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান বন্ধ করা, রাস্তায় আজাদারির প্রতীক ও পতাকা সরিয়ে ফেলা এবং কিছু পানির স্টল বন্ধ করা।
এসব বিধিনিষেধ ও চ্যালেঞ্জের মুখে অনুষ্ঠান আয়োজক ও ধর্মীয় কর্মীরা বিকল্প পন্থা অবলম্বন করেছেন। তাঁরা ব্যক্তিগত স্থানে মজলিস আয়োজন, অভ্যন্তরীণ রাস্তায় পতাকা টানানো এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মুহররমের আচার চালিয়ে যাচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে অনলাইনে ১০০টিরও বেশি মজলিস লাইভ সম্প্রচার করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, কাতিফের শিয়াদের আয়োজিত হুসাইনি মজলিসের সংখ্যা আগের বছরগুলোর তুলনায় কমেছে। সাম্প্রতিক বিধিনিষেধ আরোপের আগে এই সংখ্যা প্রায় এক হাজারের কাছাকাছি ছিল। স্থানীয় কর্মীরা এই হ্রাসকে অঞ্চলে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের উপর আরোপিত বিধিনিষেধের প্রভাব হিসেবে দেখছেন।
কাতিফ ও সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল দেশটিতে শিয়াদের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এবং প্রতি বছর মুহররমে এখানে আশুরার আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যাপক আজাদারি ও সাংস্কৃতিক-ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 4359031