IQNA

শেখ নঈম কাসেম: আত্মসমর্পণের লাঞ্ছনা আমরা মেনে নেব না

21:53 - June 19, 2026
সংবাদ: 3479328
শেখ নঈম কাসেম: আত্মসমর্পণের লাঞ্ছনা আমরা মেনে নেব না
হিজবুল্লার–এর মহাসচিব শেখ নাঈম কাশেম বৈরুতের দক্ষিণ উপশহর দাহিয়ায় মুহররমের প্রথম দশকের কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, শত্রুদের নানা ষড়যন্ত্র—বিশেষত সিরিয়াকে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ানোর পরিকল্পনা—ব্যর্থ হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিরোধের প্রকল্প ইমাম হুসাইন (আ.)–এর আন্দোলনের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, আর দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান ও মৃত্যুভয়হীনতা প্রতিরোধের চিরস্থায়ী বিজয়ের নিশ্চয়তা বহন করে।

আশুরা উপলক্ষে আয়োজিত কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে, যা বৈরুতের দাহিয়ায় শহীদ হাসান নাসরুল্লাহ –এর মাজারে অনুষ্ঠিত হয়, শেখ নঈম কাসেম বলেন, হিজবুল্লাহর সমগ্র আন্দোলন “হুসাইন (আ.) আমাদের পথ ও আদর্শ”—এই মূলনীতির ছায়াতলে পরিচালিত হচ্ছে। এর অর্থ হলো, জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে তারা নিজেদের বিজয়ী ও সমর্থিত মনে করেন।

তিনি বলেন, “আমরা স্বাধীনভাবে সৃষ্টি হয়েছি। তাই আমরা অত্যাচার, দখলদারিত্ব এবং বিদেশি প্রভুত্বকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা সকল প্রকার নির্ভরশীলতা ও আধিপত্যের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করি। শত্রু যদি অস্ত্র নিয়ে আমাদের মোকাবিলা করে, আমরাও অস্ত্র দিয়েই তার জবাব দেব।”

শেখ কাসেম বলেন, শত্রুরা এখনো তাদের বিশ্বাস, দৃঢ়তা ও উপস্থিতি ভাঙতে সক্ষম হয়নি। তিনি জানান, প্রতিরোধের শক্তি এখনও ময়দানে সক্রিয় রয়েছে এবং সকল অবরোধ, নিষেধাজ্ঞা ও কষ্ট সহ্য করে যাচ্ছে।

আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আজ Lebanon তার ইতিহাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক সময় অতিক্রম করছে। তার ভাষায়, এটি যুক্তরাষ্ট্র, Israel এবং আন্তর্জাতিক শক্তির যৌথ ষড়যন্ত্র, যার মূল লক্ষ্য লেবাননের প্রতিরোধশক্তি এবং তার সামাজিক ভিত্তিকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা।

তিনি অভিযোগ করেন, শত্রুরা প্রথমে নির্বিচার যুদ্ধ, বেসামরিক হত্যাকাণ্ড ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে প্রতিরোধকে দুর্বল করার চেষ্টা করে। পরে সিরিয়ার সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল পূর্ববর্তী সমঝোতাগুলো ভঙ্গ করে নিজেদের পক্ষে শক্তির ভারসাম্য বদলানোর চেষ্টা করে।

শেখ কাসেম বলেন, শত্রুরা লেবাননের সরকারকে ব্যবহার করে একটি “অবৈধ আইনি কাঠামো” তৈরি করতে চেয়েছিল, যাতে প্রতিরোধ ধ্বংসের পথ প্রশস্ত হয়। এ ছাড়া স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথ বন্ধ করে প্রতিরোধের কাছে অস্ত্র পৌঁছানো ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, পুনর্গঠন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে জনগণকে বাস্তুচ্যুত রাখার মাধ্যমে প্রতিরোধের সামাজিক ভিত্তিকে দুর্বল করার পরিকল্পনাও ছিল। পাশাপাশি আর্থিক অবরোধ এবং সেনাবাহিনীকে উসকে দিয়ে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা তৈরির প্রচেষ্টা চালানো হয়, যা সেনা নেতৃত্বের সতর্কতার কারণে ব্যর্থ হয়।

শেখ কাসেমের ভাষায়, সামরিকভাবে ব্যর্থ হওয়ার পর শত্রুরা সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির পথে এগোয়—প্রথমে সুন্নিদের হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা এবং পরে শিয়া ও খ্রিস্টানদের মধ্যে বিরোধ তৈরির চেষ্টা করা হয়।

তিনি বলেন, “এই পুরো ষড়যন্ত্রের প্রধান পরিচালক ছিল যুক্তরাষ্ট্র। তারা গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক, আন্তর্জাতিক, আরব ও গণমাধ্যমের সব উপায় ব্যবহার করেছে লেবাননের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং প্রতিরোধকে অবরুদ্ধ করতে।”

কারবালা ও আশুরার চেতনাকে সামনে রেখে শেখ নঈম কাসেম স্পষ্টভাবে বলেন, “আত্মসমর্পণ বলে কোনো বিকল্প নেই।” তিনি জানান, ১৫ মাসের কৌশলগত ধৈর্যের পর গত ২ মার্চ থেকে প্রতিরোধ নতুন সামরিক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং আর আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না।

ভাষণের শেষাংশে তিনি বলেন, “তারা যা চায়, আমরা তা মেনে নেব না। প্রকৃত বিজয় হলো দখলদার ইসরাইলকে আমাদের ভূমি থেকে সম্পূর্ণভাবে বিতাড়িত করা, এবং আমরা শেষ মানুষ পর্যন্ত এই সংগ্রাম চালিয়ে যাব।” 4359235#

 
 
 
captcha