IQNA

কানাডায় এক মসজিদের ইমামের উপর হামলা

16:43 - June 24, 2026
সংবাদ: 3479352
কানাডায় এক মসজিদের ইমামের উপর হামলা
কানাডায় এক মসজিদের ইমামের উপর হামলার ঘটনা মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণাজনিত অপরাধ নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

ইকনা’র প্রতিবেদনে ‘আল-উম্মাহ’ ইলেকট্রনিক দৈনিকের বরাতে জানানো হয়েছে, কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের ভিক্টোরিয়া শহরে অবস্থিত এক মসজিদের ইমাম ইবরাহীম আলী-এর উপর হামলার ঘটনা ব্যাপক নিন্দার ঝড় তুলেছে। ইসলামী সংগঠনগুলো বলেছে, এই হামলা সম্ভবত ইসলামবিরোধী উগ্রতা থেকে উদ্ভূত। পুলিশ একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের কথা নিশ্চিত করেছে।

ব্রিটিশ কলাম্বিয়া ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নামাজ শেষে ইমাম ইবরাহীম আলী যখন তাঁর বাড়ির কাছে গাড়িতে ছিলেন, তখন এই হামলা হয়। এক ব্যক্তি গাড়ির কাছে এসে দরজা খোলার চেষ্টা করে এবং পরিস্থিতি শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়।

অ্যাসোসিয়েশন কানাডিয়ান গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেছে, ইমাম ইবরাহীম আলী সংঘর্ষের সময় নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন। সন্দেহভাজন ব্যক্তি সংঘর্ষ শেষে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়, কিন্তু পুলিশ পরে তাকে গ্রেপ্তার করে তদন্ত শুরু করেছে।

ইসলামী নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, হামলাকারী ইসলামবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে। এ ঘটনায় মানবাধিকার ও ইসলামী সংগঠনগুলো দাবি করেছে, আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল না আসা পর্যন্ত এটিকে ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হোক।

অ্যাসোসিয়েশন নিশ্চিত করেছে যে, ইমামের মাথায় সামান্য আঘাত লেগেছে, তবে পরদিন তিনি জুমার নামাজে অংশ নিতে পেরেছেন এবং তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।

এই ঘটনায় কানাডায় আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কানাডার সংস্কৃতি ও পরিচয় বিষয়ক মন্ত্রী মার্ক মিলার এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন এবং একে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও ঘৃণার কোনো স্থান কানাডার সমাজে নেই।

কানাডার ইসলামী সংগঠনগুলো ধর্মীয় ঘৃণাজনিত ঘটনার বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ঘৃণা-প্রচারের বিরুদ্ধে আরও জোরালো পদক্ষেপ ও বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে।

এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন কানাডায় ঘৃণাজনিত অপরাধ ও বৈষম্য নিয়ে চলমান বিতর্ক রয়েছে, বিশেষ করে বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উপর সাম্প্রতিক হামলার পর।

ইসলামী সংগঠনগুলো এই হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে নিন্দা করলেও, পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে যে, এর পেছনে কোনো ঘৃণাজনিত উদ্দেশ্য ছিল কি না এবং এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হবে কি না। 4360131#

captcha