ইত্তেফাক পত্রিকার এ খবর নিয়ে কিছু কথা:
আসলে ইরানের বিরুদ্ধে মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) ও ইতরাইলের (ইসরাইল) ৪০ দিনের যুদ্ধ ছিল জঙ্গে আহযাব তুল্য। জঙ্গে আহযাব ইসলাম ও মুসলমানদের সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে আরবের সকল গোত্র কুরাইশদের সাথে সম্মিলিত জোট করে যে যুদ্ধের সূচনা করে তা ইসলামের ইতিহাসে জঙ্গে আহযাব (দলসমূহের যুদ্ধ) বা খন্দকের যুদ্ধ বা পরিখার যুদ্ধ বলে খ্যাতি লাভ করেছে।আর এই সম্মিলিত জোটের সাথে যোগ দিয়েছিল মদীনা ও এর আশপাশের ইয়াহূদী গোত্র গুলো এবং মুনাফিক চক্র। কিন্তু এই যুদ্ধ কুরাইশদের নেতৃত্বে সম্মিলিত জোট বাহিনী মদীনা নগরী সম্পূর্ণ অবরোধ করেও ব্যর্থ হয় এবং মহাবীর আমর ইবনে আব্দে ওয়ুদ্দ্ (عمرو بن عبد ودّ ) যে ছিল একাই এক হাজার বীর যোদ্ধার প্রতিপক্ষ সে হযরত আলীর হাতে দ্বৈত যুদ্ধে নিহত হলে কুরাইশদের নেতৃত্বাধীন এই জোট বাহিনী মদীনার অবরোধ উঠিয়ে রাতের আঁধারে পলায়ন করে!!! ইতিহাসে প্রমাণিত হয় মহান আল্লাহর অনুমতি ক্রমে ক্ষুদ্র গোষ্ঠী (মহানবীর সাঃ নেতৃত্বে মুসলমান গণ) বৃহৎ গোষ্ঠীর (কুরাইশদের নেতৃত্বে আরবের গোত্র সমূহ এবং ইয়াহূদীদের সম্মিলিত জোট বাহিনী) ওপর বিজয়ী হয়েছিল।আর অতীত জাতিসমূহের ইতিহাসে বনী ইসরাইলের নবী হযরত সামুঈল (আ) কর্তৃক নিযুক্ত রাজা তালূত ও তাঁর অতি ক্ষুদ্র সেনাদল যারা ছিল ক্ষুদ্র গোষ্ঠী মাত্র ৬৫০ জন এবং হযরত দাউদ আ. ছিলেন যাদের একজন তারা বৃহৎ গোষ্ঠীর (অত্যাচারী যালেম জালূত ও তার বিশাল সেনাবাহিনী প্রায় ৬৫০০০০) ওপর মহান আল্লাহর অনুমতি ক্রমে বিজয়ী হয়েছিল যা পবিত্র কুরআনে উল্লেখিত হয়েছে:রাজা তালূতের সেনাবাহিনীর মধ্যে যারা মহান আল্লাহর দীদার ও মুলাকাতের (সাক্ষাত) ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন তারা বললেন ((ঐ সমস্ত ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে যারা জালূত ও তার বিশাল সেনাবাহিনীকে দেখতে পেয়ে ভীত হয়ে বলেছিল:এ বিশাল সুসজ্জিত সেনাবাহিনীর মুকাবেলা করার সামর্থ্য ও শক্তি আজ আমাদের নেই!)):"কত ক্ষুদ্র গোষ্ঠী (ক্ষুদ্র সেনাবাহিনী) মহান আল্লাহর অনুমতিতে কত বৃহৎ গোষ্ঠীর (বড় বিশাল সেনাবাহিনী) ওপর জয়যুক্ত ও বিজয়ী হয়েছে (কাম্ মিন্ ফিআতিং ক্বলীলাতিং ঘলাবাত্ ফিআতাং কাথ়ীরাতাম্ বিইযনিল্লাহ্)।"
کم من فئة قلیلة غلبت فئة کثیرة بإذن الله
এখন আমরা দেখব যে সামরিক বাজেট এবং সামরিক অর্থনৈতিক শক্তি ও প্রভাবের দিক থেকে বর্তমান কালে ইরান ও অত্র অঞ্চলের প্রতিরোধকারী দল সমূহ (হামাস, ফিলিস্তিনের ইসলামী জিহাদ, লেবাননের হিজবুল্লাহ,ইরাকের আল-হাশদুশ শাবী সহ বিভিন্ন প্রতিরোধকারী দল,ইয়ামানের আনসারুল্লাহ) হচ্ছে ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর নমূনা এবং মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র),ইতরাইল (ইসরাইল),আরবদেশগুলো এবং ন্যাটো জোট হচ্ছে বৃহৎ গোষ্ঠীর নমূনা।ইরানের সামরিক বাজেট মাত্র ১১ বিলিয়ন ডলার আর হয়তো অতিরিক্ত বাজেট ৪ বা ৫ বিলিয়ন যোগ করলে দাঁড়ায় ১৫ বা ১৬ বিলিয়ন ডলার এবং প্রতিরোধকারী দলগুলোর সম্মিলিত সামরিক বাজেট বড় জোর দুই বিলিয়ন ডলার! সর্বসাকুল্যে ধরে নেই ইরানের নেতৃত্বে ক্ষুদ্র গোষ্ঠী বা ফিআতুং ক্বলীলার সম্মিলিত সামরিক বাজেট ১৮ বিলিয়ন ডলার।আর মাযুরা-ইতরাইলের নেতৃত্বাধীন বৃহৎ গোষ্ঠীর সামরিক বাজেট প্রায় তিন ট্রিলিয়ন (৩০০০ বিলিয়ন) ডলার:খোদ মাযুরার ১ ট্রিলিয়ন বা ১০০০ বিলিয়ন ডলার,ন্যাটো জোটের সম্মিলিত সামরিক বাজেট ১•৫ ট্রিলিয়ন (১৫০০ বিলিয়ন) ডলার, ইসরাইল ও আরব দেশগুলোর সম্মিলিত সামরিক বাজেট প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার আর এর সাথে এদের বাড়তি সামরিক বাজেট এক ট্রিলিয়ন বা ১০০০ বিলিয়ন ডলার যোগ করলে প্রায় ৪০০০ বিলিয়ন বা চার ট্রিলিয়ন ডলার দাঁড়ায়।মাত্র ১৮ বিলিয়ন ডলার সামরিক বাজেটের ক্ষুদ্র গোষ্ঠী মুকাবেলা করছে ৪ ট্রিলিয়ন বা ৪০০০ বিলিয়ন ডলারের সামরিক বাজেটের বৃহৎ গোষ্ঠীকে।আর ন্যাটো প্রধানের বক্তব্য থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে ন্যাটো জোট অর্থাৎ পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা পশ্চিমা দেশগুলোও ইরানের বিরুদ্ধে ৪০ দিনের যুদ্ধে মাযুরা-ইতরাইলের সাথে ছিল। এই যুদ্ধ আবারও প্রমাণ করল ঈমান ও সবর (ধৈর্য ও প্রতিরোধ) পূর্ণ মাত্রায় থাকলে মহান আল্লাহ ঈমানদার মযলূম ক্ষুদ্র গোষ্ঠীকে কাফির যালিম বৃহৎ গোষ্ঠীর ওপর বিজয়ী করেন।ইরান ও প্রতিরোধ কারী দলগুলো পূর্ণ ঈমানদার ,সাবির(ধৈর্যশীল) ও প্রতিরোধ সংগ্রামী হওয়ার
জন্য মহান আল্লাহ তাদেরকে এ যুদ্ধে বৃহৎ কাফির যালেম গোষ্ঠীর (মাযুরা,ইতরাইল, ন্যাটো ও আরবদের) ওপর বিজয়ী করেছেন। এটাই মহান আল্লাহর সুন্নাত বা রীতি এবং সুন্নাতুল্লাহ (আল্লাহর রীতি) কখনো পরিবর্তিত ও রূপান্তরিত হয় না।
سُنَّةَ اللَّهِ الَّتِي قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلُ ۖ وَلَنْ تَجِدَ لِسُنَّةِ اللَّهِ تَبْدِيلًا
خدا روشی ثابت و قطعی مقرّر کرده است که از پیش [بر پیروزی مؤمنان و شکست کافران] جاری بوده است، و هرگز برای روش خدا تغییر و تبدیلی نخواهی یافت.

[48–23] (مشاهده آیه در سوره)
এটাই আল্লাহর সুন্নাত (রীতি ও বিধান) যা প্রাচীন কাল হতে চলে এসেছে; তুমি আল্লাহর সুন্নাতে (রীতি ও বিধানে) কখনোই কোন পরিবর্তন পাবে না। (সূরা-ই ফাতহ ৪৮:২৩)
سوره ۳۵: فاطر - جزء ۲۲ - ترجمه فولادوند
اسْتِكْبَارًا فِي الْأَرْضِ وَمَكْرَ السَّيِّئِ وَلَا يَحِيقُ الْمَكْرُ السَّيِّئُ إِلَّا بِأَهْلِهِ فَهَلْ يَنْظُرُونَ إِلَّا سُنَّتَ الْأَوَّلِينَ فَلَنْ تَجِدَ لِسُنَّتِ اللَّهِ تَبْدِيلًا وَلَنْ تَجِدَ لِسُنَّتِ اللَّهِ تَحْوِيلًا ﴿۴۳﴾
পৃথিবীতে ইস্তিকবার (ঔদ্ধত্য) প্রকাশ এবং নিকৃষ্ট মন্দ মাকরের (কূট ষড়যন্ত্র) কারণে; কূট ষড়যন্ত্র ও মাকর কেবল এর উদ্যোক্তাদেরকেই পরিবেষ্টন (ইহাতা) করে।তবে কি এরা ইন্তিযার (প্রতীক্ষা) করছে পূর্ববর্তীদের (প্রতি প্রযুক্ত) সুন্নাত,বিধান ও রীতির? কিন্তু তুমি আল্লাহর সুন্নাতের (অর্থাৎ বিধান ও রীতির) কখনোই কোনো পরিবর্তন (তাবদীল) দেখতে পাবে না এবং তুমি আল্লাহর সুন্নাতের (বিধান ও রীতির) কখনোই কোনো ব্যতিক্রমও (তাহভীল) দেখতে পাবে না (সূরা-ই ফাতির ৩৫:৪৩)।
ঈমান,সবর, ধৈর্য ও প্রতিরোধ সংগ্রামের চূড়ান্ত বা যত উচ্চ পর্যায়ে থাকবে মুসলিম মুজাহিদরা ততগুণ ও হারে শক্তি শালী শত্রু পক্ষের ওপর তাদেরকে মহান আল্লাহ বিজয়ী ও জয়যুক্ত (ফাতিহ ও ঘালিব) করবেন। আল্লাহ ১০গুণ,২০গুণ বা তদুর্ধে (যেমন ১০০ গুণ,শত শত গুণ বা সহস্র গুণ) বেশি শক্তিশালী বৃহৎ কুফরী গোষ্ঠীর ওপর মুমিন ক্ষুদ্র গোষ্ঠীকে বিজয় দেবেন তাদের (মুমিনদের) ঈমান,সবর, ধৈর্য, জিহাদ ও প্রতিরোধ সংগ্রামের স্তর,পর্যায়ের ভিত্তিতে।আর ঈমান,সবর, ধৈর্য ও প্রতিরোধ সংগ্রামের সর্বনিম্ন পর্যায়ে এক জন মুমিন মুজাহিদ দুজন কফির যোদ্ধার ওপর বিজয়ী হবে।আর ঈমানের ন্যূনতম এ পর্যায়ের নীচে থাকলে কাফির পক্ষ বিজয়ী হবে এবং মুমিনদের ভাগ্যে তখন যিল্লত (অপদস্থতা,অপমান ও দুর্গতি) ছাড়া আর কিছুই জুটবে না।দু:খজনক হলেও বাস্তব সত্য ব্যাপার এই যে বর্তমান কালে মুসলিম বিশ্বের অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে যে তারা (মুসলমানরা) আসলে ঈমান,সবর, ধৈর্য, জিহাদ ও প্রতিরোধ সংগ্রামের ন্যূনতম পর্যায়ের বহু নীচেই অবস্থান করছে!!!!এর প্রমাণ হচ্ছে গাযার ওপর দুই বছর ধরে ইসরাইলের লাগাতার অবৈধ আগ্রাসন,যুদ্ধ,গণহত্যা,প্রজন্ম হত্যা,যুদ্ধাপরাধ,জবরদখল ও ধ্বংসযজ্ঞ যা এখনও অব্যাহত রেখেছে যদিও ভঙ্গুর যুদ্ধ বিরতি হয়েছে, লেবাননে ইসরাইলের আক্রমণ, আগ্রাসন,যুদ্ধ ও গণহত্যা এবং ইরানের ওপর মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) ও ইতরাইলের চাপিয়ে দেওয়া অমানবিক, অযৌক্তিক অন্যায় আগ্রাসন,আক্রমণ ও যুদ্ধে মুসলিম বিশ্বের নীরব ও নিশ্চুপ থাকা। বরং বেশ কিছু মুসলিম নামধারী দেশ এবং আরবদেশগুলো মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) এবং বিশেষকরে ইতরাইলকে এ ক্ষেত্রে গোপনে প্রকাশ্যে সহায়তা ও সাহায্য করেছে।আর ন্যাটো জোট তো মাযুরা ও ইতরাইলকে সাহায্য করবেই।কারণ ন্যাটোজোট ভুক্ত দেশগুলো হচ্ছে মাযুরার জাতভাই মুখে নিরপেক্ষতার বুলি আওড়ালেও।তাই ইরানের বিরুদ্ধে মাযুরা ও ইতরাইলের নাহক অন্যায় যুদ্ধে মাযুরাকে সহায়তা প্রদান সংক্রান্ত ন্যাটো প্রধানের স্বীকারোক্তি মাযুরার যুদ্ধাপরাধে ন্যাটো জোট ভুক্ত দেশগুলোও এক সমান ভাগীদার।আর কথায় আছে না চোরে চোরে মাসতুতো ভাই।এ সব অপরাধী পশ্চিমা,ইউরোপীয় ও মার্কিনীদের আসল স্বরূপ ও চেহারা সমগ্র বিশ্ববাসীর সামনে উন্মুক্ত হয়ে গেছে।এদের তথাকথিত মার্জিত ভদ্র,সভ্য চেহারা ও ভাবসাব বিবর্তিত হয়ে ভয়ঙ্কর রক্তপিপাসু রক্তচোষা পৈশাচিক খবীস ড্রাকুলা চেহারা ও চরিত্র স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।আসলে পশ্চিমা ইউরোপীয় ও মার্কিনীরা হচ্ছে প্রকৃত পক্ষে রক্তচোষা ভয়ঙ্কর ড্রাকুলা পিশাচ বা ভয়ঙ্কর যান্বী অর্থাৎ চলমান জিন্দা লাশের মতো। এদের থেকে সবাইকে সাবধান থাকতে হবে এবং এদের অনিষ্ট বাঁচার জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা বিধান একান্ত বাঞ্ছনীয়।