ইকনা জানায়, সোমবার (৮ জুলাই) ইসলামি প্রচার সংস্থায় আয়োজিত “ইসলামে রক্তের প্রতিশোধের ফিকহি, কুরআনি ও কালামি ভিত্তি” শীর্ষক আলোচনায় আয়াতুল্লাহ রেশাদ বলেন:
জাহেলি যুগ থেকে ইসলামি যুগে «ছার»-এর ধারণাগত পরিবর্তন তিনি বলেন, জাহেলি যুগে «ছার» ছিল একটি পৌত্তলিক ও গোত্রীয় প্রথা, যেখানে একজনের হত্যার প্রতিশোধে পুরো গোত্রকে নির্মূল করা হতো। ইসলাম এসে এই বর্বর প্রথাকে সংশোধন করে «কিসাস»-এর সুনির্দিষ্ট বিধান প্রবর্তন করে।
কুরআনে «ছার» শব্দ সরাসরি আসেনি, কিন্তু হাদিস, নাহজুল বালাগা, দোয়া ও যিয়ারতে এটি ব্যবহৃত হয়েছে। বিশেষ করে যিয়ারতে আশুরায় «ইয়া ছারুল্লাহ» শব্দটি এসেছে।
«ইয়া ছারুল্লাহ»-এর অর্থ ও তাৎপর্য আয়াতুল্লাহ রেশাদ বলেন, «ছারুল্লাহ» অর্থ «আল্লাহর রক্তের প্রতিশোধকারী»। ইমাম হুসাইন (আ.)-এর রক্ত এত মূল্যবান যে, এর প্রতিশোধ শুধু আল্লাহই নিতে পারেন। আর আল্লাহ তাঁর অভিপ্রায় বাস্তবায়ন করেন তাঁর অলিদের মাধ্যমে। সুতরাং ইমাম মাহদী (আ.) হলেন আল্লাহর পক্ষ থেকে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর রক্তের প্রতিশোধকারী।
তিনি বলেন, এই রক্তের প্রতিশোধ কোনো ব্যক্তিগত কাজ নয়, বরং ইতিহাসজুড়ে চলমান একটি সংগ্রাম — ইয়াজিদি মতবাদ ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে। আজকের যুগে এটি সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই।
ইমাম মাহদী (আ.)-এর ভূমিকা আয়াতুল্লাহ রেশাদ জোর দিয়ে বলেন, ইমাম হুসাইন (আ.)-এর রক্তের প্রতিশোধ চূড়ান্তভাবে ইমাম মাহদী (আ.)-এর হাতেই হবে। তিনি ইতিহাসের সকল ইয়াজিদি শক্তির বিরুদ্ধে বিপ্লব ঘটাবেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন।
তিনি বলেন, “আমরা ইমাম মাহদী (আ.)-এর যুগের অপেক্ষায় আছি, যেখানে তাঁর সঙ্গে থেকে শাহাদাত লাভ করব।”4361038#