ইকনা’র প্রতিবেদনে আনাদোলু সংবাদ সংস্থার বরাতে জানানো হয়েছে, ইব্রাহিমী মসজিদের পরিচালক মু‘তাজ আবু সিনিনা বলেন, ইসরাইলি দখলদার কর্তৃপক্ষ দশ দিন ধরে মসজিদে আজান প্রচার বন্ধ করে রেখেছে। তারা এর কারণ হিসেবে মসজিদের উঠানে ছাদ নির্মাণের কাজ চলছে বলে উল্লেখ করেছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, আজ দশম দিন যে এই মসজিদে আজান প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মসজিদটি অধিকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আল-খলিলে অবস্থিত।
আবু সিনিনা বলেন, ইহুদিবাদী কর্তৃপক্ষ ইব্রাহিমী মসজিদের ছাদ নির্মাণ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে মুয়াজ্জিনকে আজান কক্ষে প্রবেশ করতে বাধা দিচ্ছে। সেখানে ইহুদিবাদী যন্ত্রপাতি ও শ্রমিকরা কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, দখলদাররা লোহার খুঁটি ও রড নিয়ে এসেছে এবং মসজিদের ছাদে সেগুলো স্থাপন করছে।
আবু সিনিনা উল্লেখ করেন, এসব কর্মকাণ্ড ইহুদিবাদী দখলদারদের আল-খলিল পৌরসভার ইব্রাহিমী মসজিদের উপর নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের অংশ।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইব্রাহিমী মসজিদ একটি একান্তভাবে ইসলামী মসজিদ। তথাপি দখলদাররা পর্যায়ক্রমে এই স্থানকে ইহুদিকরণ করার চেষ্টা করছে, এর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে চাইছে এবং এই আক্রমণ ও হামলার মাধ্যমে মসজিদের বাস্তবতা ও বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করতে চাইছে।
সম্প্রতি, ইহুদিবাদী কর্তৃপক্ষ আল-খলিল পৌরসভার ইব্রাহিমী মসজিদের ব্যবস্থাপনা ও কিছু কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের অধিকার কেড়ে নিয়ে তা কিরিয়াত আরবা বসতির ধর্মীয় কাউন্সিলের হাতে তুলে দিয়েছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এটিকে ইব্রাহিমী মসজিদের ঐতিহাসিক ও আইনি অবস্থানের উপর আগ্রাসন বলে অভিহিত করেছে। মসজিদটি আল-খলিলের পুরনো শহরে অবস্থিত, যেখানে প্রায় ৪০০ ইহুদি বসতি স্থাপনকারী বাস করে এবং প্রায় ১৫০০ ইসরাইলি সৈন্য এর নিরাপত্তা প্রদান করে।
১৯৯৪ সালে এক ইহুদি বসতি স্থাপনকারীর গণহত্যায় ২৯ জন ফিলিস্তিনি নামাজি শহীদ হওয়ার পর এই মসজিদকে ভাগ করে দেওয়া হয়। এর ৬৩ শতাংশ ইহুদিদের এবং ৩৭ শতাংশ মুসলিমদের জন্য বরাদ্দ করা হয়।
যদিও এর আগে বিশেষ ধর্মীয় উৎসব যেমন ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় মসজিদটি সম্পূর্ণরূপে মুসলিমদের জন্য উন্মুক্ত ছিল, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই প্রবেশাধিকার ক্রমশ সীমিত হয়ে পড়েছে।
ফিলিস্তিনিরা সতর্ক করে বলছেন যে, এই পদক্ষেপগুলো পশ্চিম তীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরাইলের সাথে যুক্ত করার পথ প্রশস্ত করছে এবং জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবে বর্ণিত স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নস্যাৎ করে দিচ্ছে। 4361331#