অনুষ্ঠান শুরুর অনেক আগে থেকেই তাশিয়ার পথে যাওয়ার রাস্তাগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হয়। জনতা ইরানের পতাকা, শহীদ নেতার ছবি হাতে নিয়ে নির্ধারিত পথে উপস্থিত হয়ে তাঁকে শেষ বিদায় জানান। এটি শুধু একটি বিশাল শোক ও দুঃখের অনুষ্ঠান নয়, বরং “ইরানের সর্বাধিক প্রিয়” নেতার তাশিয়ায় মিলিয়ন মিলিয়ন ইরানির মুষ্টিবদ্ধ হাতের হামাসী গর্জন।
ইকনার সংবাদদাতা জানিয়েছেন, শহীদ নেতা ও তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যদের পবিত্র পার্থিব দেহের তাশিয়া সকাল ৬টা থেকে ঘোষিত পথ ধরে শুরু হয়। ভোর থেকেই আশপাশের রাস্তাগুলো দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা জনতার উপস্থিতিতে ভরে যায়।
পুরুষ-নারী, যুবক-বৃদ্ধ, পরিবার ও বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠী ইরানের পতাকা, শহীদ নেতার ছবি এবং তাঁর মর্যাদার প্রশংসায় প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে উপস্থিত হয়ে “ইরানের মিস্টার শহীদ”-এর সঙ্গে শেষ বিদায় জানান।

তাশিয়ার পথে যাওয়ার মেট্রো স্টেশনগুলো শোকাহত জনতার ঢল নেমেছে। তারা বিপ্লবী স্লোগান দিতে দিতে অনুষ্ঠানস্থলে যাচ্ছেন।
ফারদৌসি স্কয়ারে শোকাহতরা মানবশৃঙ্খল গঠন করে হাত উঁচু করে ধরে জাতীয় ঐক্য, জাতীয় সংহতি ও অটল অবস্থানের প্রতীক তুলে ধরেন।
রাস্তা বিপ্লব (খিয়াবান ইনকেলাব) এ অসংখ্য শহীদের ছবি স্থাপন করা হয়েছে, যাঁরা সাম্প্রতিক দুটি যুদ্ধে শাহাদাতবরণ করেছেন।

বিপ্লব স্কয়ারের আশপাশে বিপুল জনতা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে “মুষ্টিবদ্ধ হাত” এর বিশাল ভলিউমেট্রিক অ্যালামান স্থাপন করা হয়েছে, যাতে মিনাব ও লামের্দের শহীদদের নাম খোদাই করা আছে।
শোকাহতরা এই অনুষ্ঠানকে শুধু বিদায় ও শোক নয়, বরং নতুন এক হামাসা শুরু এবং শহীদ নেতার হত্যাকারীদের কঠিন প্রতিশোধের সূচনা বলে ঘোষণা করেছেন। লাল প্রতিশোধের পতাকা ও “লা ইসারাত আল-হুসাইন” স্লোগান এই দাবির প্রতিফলন।

গত দু’দিনে হাজার হাজার মানুষ মুসাল্লায় এসে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন। আজও ভোর থেকে তেহরান শোকাহত জনতায় সয়লাব। অনেকেই এই উপস্থিতিকে নেতার সেবা, জিহাদ ও নেতৃত্বের প্রতি ঋণ শোধ এবং তাঁর আরমানের সঙ্গে পুনরায় অঙ্গীকার বলে ব্যক্ত করেছেন।

আরব, বেলুচ, তুর্ক, তুর্কমেনসহ ইরানের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী দেশের দূর-দূরান্ত থেকে এসেছেন। স্থানীয় পোশাক ও অশ্রুসিক্ত চেহারা এই বৈচিত্র্যময় উপস্থিতির ছবি তুলে ধরেছে।
পুরো পথ জুড়ে জনতার ঢেউ এবং স্লোগান কখনো থামেনি। উপস্থিতরা “লাব্বাইক ইয়া সাইয়্যেদ মুজতবা” স্লোগান দিয়ে নতুন নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং ইসলামী বিপ্লবের পথ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
অনেকেই শহীদ নেতার রক্তের প্রতিশোধ চেয়ে প্ল্যাকার্ড ও হাতে লেখা বার্তা প্রদর্শন করেছেন।
সকাল থেকেই বিপুল জনসমাগম সহমর্মিতা ও ঐক্যের দৃশ্য তৈরি করেছে। অনেকে গরম ও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসেছেন। তাঁরা “বায়াদ বারখাস্ত” (উঠে দাঁড়াতে হবে) স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।
স্টেজ কমান্ডার সর্দার হাসান হাসানজাদে জানিয়েছেন, অনুষ্ঠান ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা স্থায়ী হবে। পবিত্র পার্থিব দেহবাহী গাড়ি যাদগার ইমাম মোড় থেকে আজাদি স্কয়ারের দিকে যাচ্ছে।
জনতার ভিড়ের কারণে গাড়ি খুব ধীরে চলছে এবং আশপাশে লোকজন সিনা-জানি ও “লাব্বাইক ইয়া হুসাইন” স্লোগান দিচ্ছেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, পবিত্র পার্থিব দেহবাহী গাড়ি শেষ বিন্দুতে পৌঁছালে হেলিকপ্টারযোগে আবার পথের উপর দিয়ে উড়িয়ে দেখানো হবে।
বিপ্লব স্কয়ারের দিকে যাওয়ার পথে “লাল হাতে, আমরা শহীদ নেতার রক্তের প্রতিশোধকারী” শীর্ষক পোশিশ চলছে। অংশগ্রহণকারীরা হাত লাল রঙে রাঙিয়ে সাদা কাফনে হাতের ছাপ ফেলছেন — এটি শহীদ নেতার আরমানের সঙ্গে পুনরায় অঙ্গীকার ও রক্তের প্রতিশোধের প্রতীক।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যে রয়েছেন: মাসউদ পেজেশকিয়ান (রাষ্ট্রপতি), গোলামহুসাইন মুহসিনি এজেই (বিচার বিভাগের প্রধান), আয়াতুল্লাহ আহমাদ জান্নাতি, আয়াতুল্লাহ সাদেক আমেলি লারিজানি, মুহাম্মাদ রেজা আরেফ, মুহাম্মাদ মুখবির, সর্দার ইসমাইল কা’আনি, সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।
জনতার ভিড় এতটাই বেশি যে, ময়দানে আজাদিতে গাড়ি থেমে গেছে। পরে প্রায় ছয় ঘণ্টা পর গাড়ি আজাদি স্কয়ারে পৌঁছায় এবং জনতা গোলাপ বৃষ্টি করেন।
এরপর গাড়ি আজাদি স্কয়ার থেকে শহীদ লাশগারি হাইওয়ের দিকে যাবে এবং বিকেল ৫টার দিকে তেহরানের শেষ বিন্দুতে পৌঁছে মাগরিবের আজানের সময় কুমে পৌঁছাবে।
পরবর্তী কর্মসূচি: