তিনি বলেন, হাজার বছর ধরে সংস্কৃতি ও সভ্যতা মানবসমাজকে পরিচয়, মূল্যবোধ ও অর্থবহ জীবনের পথে পরিচালিত করে আসছে। সংস্কৃতি একটি জাতির বিশ্বাস, ঐতিহ্য, শিল্প, জ্ঞান ও জীবনদর্শনের প্রতিচ্ছবি। অন্যদিকে সভ্যতা সেই সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ, যা সময়ের প্রবাহে জ্ঞান, শিল্প ও মানবিক মূল্যবোধকে বিকশিত করে।
মোমেনি-শরীফের মতে, ইরানের প্রাচীন ও সমৃদ্ধ সভ্যতা মানব ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। প্রাচীন যুগ থেকে শুরু করে ইসলামী স্বর্ণযুগ এবং আধুনিক সময় পর্যন্ত ইরান জ্ঞান, আধ্যাত্মিকতা, শিল্প ও সংস্কৃতির ধারক হিসেবে বিশ্বসভ্যতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, ফারসি ভাষা ইরানি সভ্যতার অন্যতম মূল্যবান ঐতিহ্য। এক সময় এটি ছিল জ্ঞান ও বিজ্ঞানের আন্তর্জাতিক ভাষা, আর আজও এটি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে।
মোমেনি-শরীফের ভাষায়, বিশ্বের নেতাদের মধ্যে শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী (রহ.)-এর মতো সংস্কৃতি ও পরিচয় নির্মাণে সাংস্কৃতিক উপাদানের গুরুত্ব খুব কম নেতা উপলব্ধি করেছেন। তিনি কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন; বরং একজন সাহিত্যপ্রেমী, কবি ও সংস্কৃতিচিন্তক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, “আমিন” ছদ্মনামে কবিতা রচনা করা শহীদ নেতা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে জাতীয় পরিচয় ও সভ্যতার প্রাণশক্তি হিসেবে বিবেচনা করতেন। কবি-সাহিত্যিকদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়, সাহিত্যকর্মের ওপর মূল্যায়নমূলক মন্তব্য এবং ফারসি ভাষা সংরক্ষণের ওপর তাঁর বিশেষ জোর—সবই তাঁর সুদূরপ্রসারী সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ।
মোমেনি-শরীফ বলেন, পবিত্র প্রতিরক্ষা (ইরান-ইরাক যুদ্ধ) বিষয়ক সাহিত্যকে শহীদ নেতার বিশেষ সমর্থনের পেছনেও ছিল তাঁর এই সভ্যতামুখী ও ভবিষ্যৎমুখী চিন্তা। তিনি বিশ্বাস করতেন, সাহিত্য শুধু শিল্প নয়; বরং একটি জাতির স্মৃতি, পরিচয় ও আদর্শকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম কার্যকর মাধ্যম।
তিনি উপসংহারে বলেন, শহীদ নেতার দৃষ্টিতে সংস্কৃতি কোনো পার্শ্বিক বিষয় ছিল না; বরং একটি জাতির সভ্যতা, স্বাধীনতা ও স্থায়ী অগ্রগতির মূল ভিত্তি ছিল সংস্কৃতি, ভাষা ও সাহিত্য। 4363012#