আল জাজিরার বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান দাবি করেছে যে তারা বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান, কাতার ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানায়, তারা ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকা মোকাবিলা করছে।
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন সক্রিয় করার ঘোষণা দেয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দাবি করেছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশসীমায় ইরানের হামলা প্রতিহত করেছে।
এদিকে কয়েকটি সূত্র বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির আশপাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার খবর দিয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবিলায় সক্রিয় রয়েছে।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও নিশ্চিত করেছে যে, দেশের বিভিন্ন স্থানে শোনা যাওয়া বিস্ফোরণের শব্দ মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যক্রমের ফল। পরে তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বিষয়টিও নিশ্চিত করে।
কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় জনগণকে ঘরে বা নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার আহ্বান জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রা বর্তমানে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
অন্যদিকে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দেশটির ভূখণ্ডে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এর আগে বিভিন্ন সংবাদসূত্র কুয়েতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়া এবং জর্ডানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার খবর প্রকাশ করেছিল।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কাতারে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি তাদের পাল্টা অভিযানের দ্বিতীয় ধাপে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তাদের দাবি অনুযায়ী, ঘাঁটির যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র এবং কমান্ড সেন্টার ধ্বংস করা হয়েছে।
এই হামলাগুলো এমন সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র চলতি সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে তৃতীয় দফা হামলা চালানোর ঘোষণা দেয় এবং হরমুজ প্রণালিতে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি কনটেইনার জাহাজে হামলার জন্য তেহরানকে দায়ী করে।
এদিকে ইরানের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বন্দর আব্বাস, সিরিক, চাবাহার, বন্দর দেইর, জাস্ক ও আসালুয়েহসহ কয়েকটি উপকূলীয় শহরে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে এবং অনুমোদনহীন পথ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা একটি জাহাজের দিকে সতর্কতামূলক গুলিও ছোড়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও উদ্বেগজনক করে তুলেছে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেতে পারে। 4363515