IQNA

  নায়েনী: “যোগ্যতা ও দক্ষতাই” মিসরের রেডিওতে কারী নির্বাচনের মানদণ্ড

12:39 - July 14, 2026
সংবাদ: 3479463
 

নায়েনী: “যোগ্যতা ও দক্ষতাই” মিসরের রেডিওতে কারী নির্বাচনের মানদণ্ড
মিসরের বিখ্যাত কারী ও চিকিৎসক শায়খ আহমাদ নায়েনী রেডিও মিসরে কারী নির্বাচনের মানদণ্ড ব্যাখ্যা করে বলেছেন, নির্বাচন কমিটিতে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব নেই। একমাত্র মানদণ্ড হলো যোগ্যতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা।

ইকনা: মিসরী আল-ইয়াওমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মিসরের শীর্ষ কারী শায়খ আহমাদ নায়েনী রেডিও মিসরে কারী নির্বাচনের প্রক্রিয়া বর্ণনা করে বলেন, নির্বাচন কমিটিতে কোনো ধরনের পার্টিবাজি বা বৈষম্য হয় না। শুধুমাত্র যোগ্যতা ও দক্ষতাই বিবেচনা করা হয়, যাতে মিসরের ঐতিহাসিক অগ্রগামিতা ও কুরআন তিলাওয়াতের মর্যাদা অটুট থাকে।

নায়েনী শামসস্যাটেলাইট চ্যানেলের অনুষ্ঠান নাগরিক ও দায়িত্বশীল’-এর উপস্থাপক নাফি আত-তারাসের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেন, কোনো কুরআনী প্রতিভার সঠিক পথ শুরু হয় পুরো কুরআন মুখস্থ করা ও তাজবীদের নিয়মে পূর্ণ দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে। এরপর তাকে রেডিও কুরআনের অত্যন্ত কঠোর মানদণ্ডের পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়।

তিনি বলেন, পরীক্ষা কমিটি শুধু সুন্দর কণ্ঠ খুঁজে বেড়ায় না, বরং এমন কারী খুঁজে যিনি পূর্ণাঙ্গ কুরআনী ব্যক্তিত্বের অধিকারী। যিনি তিলাওয়াতে ভারসাম্য, দীর্ঘ শ্বাস-প্রশ্বাস এবং স্থিরতা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারেন।

নায়েনী বলেন, “আমরা একজন শক্তিশালী ও অদ্বিতীয় কারী খুঁজি যিনি তিলাওয়াতের ময়দানে একটি বুলডোজারের মতো, শুধু সুন্দর কণ্ঠের অধিকারী নয়।

তিনি আরও জানান, পরীক্ষা শুরু হয় কণ্ঠের মান যাচাই দিয়ে। এরপর ৩০টি প্রশ্নের মাধ্যমে পুরো কুরআনের হিফজ যাচাই করা হয় (প্রতি পারায় একটি করে)। সবশেষে রেডিও সম্প্রচারের উপযোগিতা যাচাইয়ের জন্য রেকর্ডিং পরীক্ষা নেওয়া হয়।

মিসরীয় কারী চিকিৎসক বলেন, এই পরীক্ষাগুলো খুবই কঠোর, কারণ কমিটি মিসরের ঐতিহ্যবাহী তিলাওয়াত মাদরাসার মানদণ্ড অনুসরণ করে। এই মাদরাসা থেকেই শায়খ মুহাম্মাদ রিফাত, মুস্তাফা ইসমাইল, আব্দুল বাসিত আব্দুস সামাদের মতো বড় বড় কারী বিশ্বকে উপহার দিয়েছে।

তিনি জানান, গত কয়েক বছরে কোনো নতুন কারীকে অনুমোদন দেওয়া হয়নি, কারণ আবেদনকারীরা নির্ধারিত মান অর্জন করতে পারেননি।

নায়েনী বলেন, আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া সারা বছরই চালু আছে এবং কোনো নির্দিষ্ট কোটা নেই। একমাত্র নির্ধারক হলো প্রকৃত যোগ্যতা, যা একজন কারীকে কুরআনের দায়িত্ব বহনের যোগ্য করে।

তিনি শৈশবের স্মৃতিচারণ করে বলেন, তাঁর দাদা তাঁকে তিন বছর বয়সে মক্তবে পাঠিয়েছিলেন, যেখানে তিনি প্রাথমিক শিক্ষার আগেই পড়া-লেখা শিখেছিলেন।

একবার তিনি শৈশবের সরলতায় আফওয়াজানশব্দটি ভুল করে আখওয়াজানউচ্চারণ করেছিলেন। শিক্ষক এটিকে অবজ্ঞা মনে করে তাঁকে শাস্তি দিয়েছিলেন।

নায়েনী বলেন, মক্তবের এমন কঠোর শৃঙ্খলা ও দৃঢ়তাই উন্নত প্রজন্ম গড়ে তুলতে সহায়ক ছিল। 4363769#

 

captcha