"দেশে আমদানি করা এলএনজি রূপান্তর করে সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি টার্মিনাল পরিচালনা করে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি, আরেকটি বেসরকারি কোম্পানি সামিট। এর মধ্যে ২১ জুলাই আগুন লেগে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এরপর দেশে গ্যাসের সংকট বেড়ে যায়।"
Bdtoday-এর পরিবেশিত এ খবর নিয়ে কিছু কথা:
গোলযোগ পূর্ণ মিয়ানমারের কাছে
চট্টগ্রামের কক্সবাজারের মহেশখালীতে মার্কিন কোম্পানির (এক্সিলারেট এনার্জি ) পরিচালিত এলএনজি টার্মিনালে গত ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বিস্ফোরণ ও আগুন লাগার ঘটনা রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে।অথচ ঐ একই স্থানে দেশীয় কোম্পানি পরিচালিত টার্মিনাল ঠিক ও অক্ষত আছে।
এই দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশে বর্তমানে গ্যাস ঘাটতি ও সংকট চলছে যা অগাস্ট মাসে উক্ত ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনাল মেরামতের প্রক্রিয়া সমাপ্ত হলে ইনশাআল্লাহ সমাধান হবে।
উক্ত এলএমজি টার্মিনালে গায়েবী তীরের আঘাতে এমন ঘটনা ঘটেনি তো?!!!
যদি মার্কিন কোম্পানি পরিচালিত উক্ত টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড নাশকতামূলক হয় তাহলে বিশ্বের কোথাও মার্কিন স্বার্থ ও প্রতিষ্ঠান নিরাপদ নয়।আর যদি তা যান্ত্রিক ত্রুটি ও কারিগরী কারণে ঘটে থাকে যা ঐ একই জায়গায় কাজ করতে থাকা ও সক্রিয় দেশীয় কোম্পানির ক্ষেত্রে ঘটেনি তাহলে এ ঘটনা থেকে মার্কিন কোম্পানির কারিগরী ও প্রযুক্তি গত দক্ষতার চেয়ে দেশীয় কোম্পানির কারিগরী ও প্রাযুক্তিক শ্রেষ্ঠত্ব ও দক্ষতার সাক্ষর, প্রমাণ ও পরিচয় মেলে।এর মানে বিদেশি কোম্পানি বিশেষ করে পশ্চিমা ও মার্কিন কোম্পানির হাতে দেশের এমন অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা ও দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া মোটেও সমীচীন নয়।তাই উক্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলএমজি টার্মিনালের পরিচালনা,দেখভাল ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সামিটের মতো দেশীয় কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করা বাঞ্ছনীয় এবং বুদ্ধিমানের কাজ ও দেশাত্মবোধের পরিচায়ক হবে যেখানে দেশীয় প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির অধিক দক্ষ হওয়ার বিষয়টি বিদেশী মার্কিন কোম্পানির চেয়ে স্পষ্ট হয়ে গেছে।আর অতীতেও পশ্চিমা বিশেষ করে কানাডীয় কোম্পানির (নাইকো) দায়িত্ব ও কর্তব্যে ত্রুটি ও অবহেলা প্রদর্শনের কারণে সিলেটের একটি গ্যাস ফিল্ডে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে দেশের জাতীয় সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছিল!!!এখন এ ধরনের বিষয়াদির ব্যাপারে নতুন করে চিন্তাভাবনা করা ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসে গেছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে যদি দেশীয় কোনো কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটত তাহলে সবাই দেশীয় কোম্পানির চোদ্দ গুষ্ঠি উদ্ধার করত ও তীব্র সমালোচনা করে দেশের এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পরিচালনা,ব্যবস্থাপনা ও দায়িত্ব ভার বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির কাছে হস্তান্তরের জোরালো দাবি জানানো হত। কিন্তু এখন কেউ এ ধরনের ভয়ানক দুর্ঘটনায় বিদেশী এই মার্কিন কোম্পানির বিরুদ্ধে সামান্যতম উচ্চবাচ্য ও সমালোচনা করছে না এবং দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে বিদেশি এ কোম্পানির অবহেলা প্রদর্শন বা এর অদক্ষতা ও অক্ষমতা নিয়েও কেউ সমালোচনা ও টুশব্দটি পর্যন্ত করছে না।এটা একদম অনাকাঙ্ক্ষিত ও দু:খজনক ব্যাপার।অবশ্যই এ ব্যাপারে বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা করা উচিত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিক মহলের।
মুহাম্মদ আবদুর রহমান