ইকনা’র প্রতিবেদন: কানাডার গণমাধ্যম কেবেক প্রদেশে মসজিদ ও মুসলিম সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে ভাঙচুর এবং ইসলামবিদ্বেষী ভাষার বৃদ্ধির খবর দিচ্ছে। এতে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও সতর্কতা বেড়েছে।
সিবিসির বরাত দিয়ে জানা যায়, কেবেক ইসলামিক কালচারাল সেন্টারের মুখপাত্র ও প্রতিষ্ঠাতাদের একজন বুফলজা বেন-আবদুল্লাহ বলেছেন, গত দেড় বছরে মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে ভাঙচুর ও ইসলামবিদ্বেষী হুমকির ঘটনা বেড়েছে।
জুন মাসে ত্রোয়া-রিভিয়ের শহরের মরিসি ইসলামিক সেন্টারের জানালা ভেঙে ফেলা হয়। এর আগে মুসলিমদের বিরুদ্ধে অনলাইন হুমকি ও হয়রানি বেড়েছিল। এক মাস পর মন্ট্রিয়ল পুলিশ ভার্দুন ইসলামিক সেন্টারের সামনে সম্ভাব্য ঘৃণামূলক ঘটনার তদন্ত করে, যেখানে প্রবেশদ্বারের সামনে একটি কৃত্রিম কাটা হাত ও রক্তাক্ত বস্তু রাখা হয়েছিল।
জুলাই মাসে দোনাকোনা শহরের ‘আর-রাহমা পোর্টনফ’ ইসলামিক কালচারাল সেন্টারে ভাঙচুরের ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর কেন্দ্রটি নিরাপত্তা ক্যামেরা স্থাপন করে।
বেন-আবদুল্লাহ বলেন, কেবেক শহরের মুসলিমদের মধ্যে “এক ধরনের উদ্বেগ” অনুভূত হচ্ছে। তাঁর স্মৃতিতে প্রথমবারের মতো মসজিদ প্রকাশ্যে নামাজিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলতে বলেছে — যেমন প্রবেশদ্বার পুরোপুরি বন্ধ রাখা এবং সন্দেহজনক আচরণ রিপোর্ট করা।
তিনি ২০১৭ সালের কেবেক মসজিদ হামলার কথা স্মরণ করে বলেন, যেখানে ৬ জন নিহত এবং ১৯ জন আহত হয়েছিলেন: “আমরা চাই না আবার এমন ঘটনা ঘটে।”
কানাডা অ্যান্টি-হেট নেটওয়ার্কের নির্বাহী পরিচালক ইভান বালগর্ড বলেছেন, গত এক দশকে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক প্রচার বেড়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকারি পরিসংখ্যান প্রকৃত ঘটনার খুব ছোট অংশই দেখায়, কারণ অনেক ঘটনা পুলিশের কাছে রিপোর্ট করা হয় না।
মুসলিম কর্মীরা বলছেন, উদ্বেগ শুধু ভাঙচুরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় — অনলাইন হয়রানি ও হুমকিও বেড়েছে। বেন-আবদুল্লাহ বলেন, অনলাইন অপমান ও হুমকির তীব্রতা এত বেড়েছে যে তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলেছেন।
তবে কেবেকের ইসলামী কেন্দ্রগুলোর দায়িত্বশীলরা জোর দিয়ে বলেছেন, তাঁরা ভয় সৃষ্টি করতে চান না। তাঁদের লক্ষ্য নামাজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোকে উপাসনা, প্রশান্তি ও পরিবারের মিলনমেলার স্থান হিসেবে অব্যাহত রাখা। 4370815#