ইকনা’র প্রতিবেদন: ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক কেন্দ্রে অবস্থিত আয়াসোফিয়া ও সুলতান আহমেদ মসজিদ উসমানীয় যুগ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া অন্যতম উল্লেখযোগ্য ধ্বনিগত ঐতিহ্য — দ্বৈত আজান (পারস্পরিক আজান) সংরক্ষণ করে চলেছে।
তুর্ক প্রেসের বরাত দিয়ে জানা যায়, এই ঐতিহাসিক প্রথায় দুই মসজিদের মুয়াজ্জিনরা পালাক্রমে আজানের বিভিন্ন অংশ পাঠ করেন। এতে ধর্মীয় মাত্রা শহরের ঐতিহাসিক স্মৃতির সাথে মিশে যায়।
এই প্রথায় এক মসজিদের মুয়াজ্জিন আজানের একটি অংশ শুরু করেন, এরপর অন্য মসজিদের মুয়াজ্জিন একই অংশ দিয়ে সাড়া দেন। এভাবে আজান শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকে। এতে সুরেলা সমন্বয় তৈরি হয় এবং পাশপাশি মিনারগুলোর অনিয়ন্ত্রিত শব্দের সংঘাত এড়ানো যায়।
তুরস্কের ধর্মীয় সূত্রগুলো একে ‘দ্বৈত আজান’ বলে অভিহিত করে। এটি মূলত দুই মুয়াজ্জিনের মধ্যে পারস্পরিক পাঠের উপর ভিত্তি করে। এই ঐতিহ্য এখনো প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে আয়াসোফিয়া ও সুলতান আহমেদ মসজিদের মধ্যে চালু আছে এবং মুয়াজ্জিনদের কণ্ঠস্বর ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক উপদ্বীপজুড়ে প্রতিধ্বনিত হয়।
তুর্কি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, প্রথম মুয়াজ্জিন আজানের একটি অংশ পাঠ করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে বিপরীত মসজিদের মুয়াজ্জিন একই বাক্য পুনরাবৃত্তি করেন — এটি উসমানীয় যুগ থেকে চলে আসা রীতি।
ঐতিহাসিকভাবে, এই পারস্পরিক আজানের ধরন উসমানীয় রাজকীয় মসজিদগুলোর ঐতিহ্যের সাথে যুক্ত, বিশেষ করে যেগুলোর একাধিক মিনার রয়েছে। আয়াসোফিয়া ও সুলতান আহমেদ মসজিদের মধ্যে এই মিথস্ক্রিয়া ইস্তাম্বুলের অন্যতম বিখ্যাত প্রকাশ হয়ে উঠেছে।
এই ঐতিহ্য দুই মসজিদেই টিকে আছে এবং শতাব্দী ধরে রাজকীয় মসজিদগুলোর সাথে যুক্ত ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ করেছে। সপ্তদশ শতাব্দীতে আয়াসোফিয়ার সামনে সুলতান আহমেদ মসজিদ নির্মাণের পর এটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য লাভ করে।
দুই ভবনের মাঝের চত্বর তখন থেকে ইস্তাম্বুলের দৃশ্যমান ও ধর্মীয় পরিচয়ের সাথে গভীরভাবে জড়িত হয়ে পড়েছে। আজানের সময় দুই কণ্ঠস্বর প্রতিযোগিতা করে না — বরং একে অপরের পরিপূরক হয়।
এই এলাকায় অতীতে দ্বৈত আজান বিভিন্ন ধর্মীয় সুরে (যেমন হুসাইনি মাকাম) পাঠের নজিরও রয়েছে, যার মাধ্যমে উসমানীয় আজান পাঠের ঐতিহ্য সংরক্ষিত হয়েছে। 4370622#