IQNA

রোহিঙ্গা শরণার্থী ফিরিয়ে নিতে সম্মত মিয়ানমার

5:45 - September 01, 2014
সংবাদ: 1445157
আন্তর্জাতিক বিভাগ : নয় বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার।

mzamin এর উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা ইকনার রিপোর্ট : আগামী ২ মাসের মধ্যে তালিকাভুক্ত ২৪১৫ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে দেশটির সরকার। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ঢাকা-নেপিড’ পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক ফরেন অফিস কনসালটেশন বা এফওসিতে ওই সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছেন বৈঠকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেয়া পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক। অষ্টমবারের মতো অনুষ্ঠিত ওই বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমের বিভিন্ন  প্রশ্নের জবাব দেন পররাষ্ট্র সচিব। বৈঠকে মিয়ানমারের ৭ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউ থান্ট কিয়াওর। শহীদুল হক সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেও মিয়ানমারের তরফে কেউ গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, কক্সবাজারের দু’টি ক্যাম্পে ৩২ হাজারের মতো নিবন্ধিত রোহিঙ্গা রয়েছেন। তাদের থেকে প্রাথমিকভাবে ২৪১৫ জনকে ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া আগামী ২ মাসের মধ্যে শুরু করতে সম্মত হয়েছে দেশটির সরকার। বাংলাদেশের দীর্ঘ দিনের দাবির প্রেক্ষিতে মিয়ানমার সরকারের এ সাড়াতে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমে ফেরানোর প্রক্রিয়ার ‘শুভ সূচনা’ বলে আখ্যায়িত করেন তিনি। সচিব জানান, ২০০৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। এরপর থেকে এটি বন্ধ ছিল। জাতিগত ও রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে প্রায় দুই দশক আগে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে ঢুকতে শুরু করে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের (আরআরআরসি) তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের কুতুপালং ও নয়াপাড়া শরণার্থী শিবিরে নিবন্ধিত ৩২ হাজার রোহিঙ্গা রয়েছেন। এর বাইরে আরও প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে রোহিঙ্গারা বিদেশে যাচ্ছে, সেখানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে তারা দেশের দুর্নামও বাড়াচ্ছে। সচিব জানান, কেবল রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোই নয়, দুই দেশের কারাগারে থাকা বন্দিদের বিনিময়ের বিষয়েও নীতিগত সম্মত হয়েছে দু’পক্ষ। বাংলাদেশে ১১০ জন মিয়ানমারের নাগরিক এবং মিয়ানমারে বাংলাদেশের ১৯০ জন নাগরিক বিভিন্ন অপরাধে বন্দি রয়েছে। তাদের দ্রুত মুক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের রাষ্ট্রদূতকে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সচিব জানান, সীমান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকের একটি প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে আরও বিস্তৃত আলোচনা হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ কমিশনের প্রথম বৈঠক আগামী বছরের শুরুর দিকে ঢাকায় অনুষ্ঠানের প্রস্তাব করা হয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ওই বৈঠকে অংশ নিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করবেন। আর সফরের ধারাহিকতায় দেশটির প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের সম্ভাব্য ঢাকা সফর সফল পরিসমাপ্তি ঘটবে বলে আশা করেন পররাষ্ট্র সচিব। তিনি জানান, বৈঠকে মাদক পাচার রোধের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানি ও সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়েও আলোচনা হয়। তবে মিয়ানমার জানিয়েছে, তাদেরও দিনে দিনে গ্যাসের চাহিদা বেড়ে চলেছে। অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে গতকালের বৈঠকটি ‘ফলপ্রসু’ হয়েছে উল্লেখ করে সচিব বলেন, দু’দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয়ই আলোচনার টেবিলে ছিল। ইস্যুগুলোকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসতে একটি ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্টের প্রস্তাব করা হয়েছে জানিয়ে সচিব বলেন, আশা করি এর মধ্য দিয়ে আস্থার সঙ্কট কাটবে এবং দু’দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে। মিয়ানমারের সঙ্গে বিভিন্নমুখী যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে সচিব বলেন, দু’দেশের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করার নানা পন্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জনগণের পর্যায়ে সম্পর্ক বৃদ্ধির বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।#

captcha