IQNA

ইসলামী গবেষকের প্রতিক্রিয়া;

জাপানের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য সমুদ্রে ফেলার বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ায় হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ

18:08 - June 30, 2023
সংবাদ: 3473975
জাপান (ইকনা): জাপান কর্তৃক পারমাণবিক দূষণে দূষিত পানি প্রশান্ত মহাসাগরে ছাড়ার বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে সম্প্রতি (২৫-৬-২০২৩ ) হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে।

উল্লেখ্য যে দূষিত এ পানি ছাড়া হলে পৃথিবীর প্রকৃতি পরিবেশ এবং সাগর - মহাসাগর মারাত্মক দূষিত হয়ে যাবে এবং সমগ্র বিশ্ব জুড়ে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় হবে এমনকি বহু পরিবেশ বিজ্ঞানী বলেছেন: জাপান এ সব পারণবিক পদার্থে দূষিত পানি প্রশান্ত মহাসাগরে ছাড়লে মানব জাতি সহ গোটা জীবজগতই বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে চিরতরে এ পৃথিবী থেকে ! 
জাপানের প্রতিবেশী দেশসমূহ এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ সমূহের অধিবাসীরা এ ব্যাপারে জাপানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও আপত্তি জানিয়েছে।
পারমাণবিক প্রযুক্তি এক অন্যতম সর্বাধুনিক প্রযুক্তি বলেই গণ্য । অথচ এই হচ্ছে এ পারমাণবিক প্রযুক্তির চূড়ান্ত অমোঘ (আল্টিমেট) পরিণতি। একা জাপানই মানব জাতি সহ গোটা জীবজগতকে বিলুপ্ত করার জন্য যথেষ্ট । পাশ্চাত্যের কথা তো বাদই দিলাম। আর এখান থেকে বোঝা যায় যে গত কয়েক বছর আগে কেন প্রয়াত ব্রিটিশ বিজ্ঞানী স্টিভেন হকিং ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেছিলেন : আগামী ১০০০ বছরের মধ্যে পৃথিবী থেকে  মানব জাতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে !! 
তার মতে পৃথিবী থেকে মানুষ হারিয়ে যাবে মূলত : গণবিলুপ্তির কারণে। এর আগে হকিং সতর্ক করে বলেছিলেন : পারমাণবিক যুদ্ধ , কৃত্রিমভাবে তৈরি জেনিটিক্যাল ভাইরাস এবং বৈশ্বিক উষ্ণতার জন্য মানুষের অস্তিত্ব হুমকির মুখে রয়েছে।
হকিং এ সমস্যার এক অদ্ভুত সমাধান পেশ করে বলেছিলেন : ভবিষ্যত মানবতার স্বার্থে মানুষকে মহাশূন্যে যাওয়া অব্যাহত রাখতে হবে । আমি মনে করি না যে ভঙ্গুর এ পৃথিবী থেকে পালাতে না পারলে আমরা আরও ১০০০ বছর টিকে থাকতে পারব । ( যুগান্তর , ১৭-১১- ২০১৬ )
তাহলে কী দাঁড়ালো পাশ্চাত্য প্রবর্তিত জ্ঞান - বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপকারী ( نَافِعٌ ) না অপকারী ( ضَارٌّ ) ? যে জ্ঞান - বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মানব জাতিকে ও জীবজগতকে মহাবিলুপ্তির দিকে নিয়ে যায় তা তো আসলেই অপকারী জ্ঞান - বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি ! আর এই রাক্ষুসে ধ্বংসাত্মক জ্ঞান - বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যা পাশ্চাত্য প্রবর্তন করেছে এবং প্রাচ্য ( চীন , জাপান কোরিয়া ইত্যাদি ) পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে ও প্রসার লাভ করেছে তা নিয়ে পাশ্চাত্য ধরাকে সরা জ্ঞান করছে এবং দেমাগে ( গর্বে ) মাটিতে পা ফেলতেই চাচ্ছে না !!!
"মহাবিলুপ্তি থেকে বাঁচতে হলে মহাশূন্যে যাওয়া অব্যাহত রাখতে হবে ।" - হকিংএর এ মত ও চিন্তা কি বাস্তবে ফলেছ ? মানুষ মহাশূন্যে যাচ্ছে বটে তাও আবার ভূপৃষ্ঠের খুব কাছাকাছি না দূরে। কিন্তু আজ পর্যন্ত সে মঙ্গল গ্রহে গিয়েছে কি ? পৃথিবী থেকে পালানোর উদ্দেশ্য কী ? উদ্দেশ্য : চাঁদ বা  মঙ্গলগ্রহ আবাদ ও সেখানে মানব বসতি স্থাপন !! অথচ তা কি আদৌ বাস্তবায়িত হয়েছে ?  পৃথিবী থেকে গিয়ে মানুষ চাঁদ বা মঙ্গল গ্রহ আবাদ ও তার নিজের জন্য বসবাসযোগ‌্য করতে পেরেছে বা পারবে ? ভবিষ্যতে মানুষ যে প্রযুক্তি দিয়ে চাঁদ বা মঙ্গল গ্রহ আবাদ ও বসবাসযোগ্য করতে পারবে সেই একই প্রযুক্তি ব্যবহার করেই তো মানুষ কেন পৃথিবীর পরিবেশ ঠিক করতে পারবে না ? অবশ্যই ঠিক করা যাবে । বসবাসের অযোগ্য চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহ বসবাসযোগ্য করা গেলে ঐ একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পৃথিবীকেও আবার বসবাসযোগ্য করা যাবে । অথচ হকিংএর কথা হচ্ছে যে ভঙ্গুর এ পৃথিবী থেকে পালিয়ে মহাশূন্যে যেতে না পারলে মানব জাতিই বিলুপ্ত হয়ে যাবে !!! পৃথিবী থেকে পালানোর অর্থ কী ? নানাবিধ দূষণে প্রকৃতি পরিবেশ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর পৃথিবী আর কোনো কালেও বসবাসযোগ্য হবে না তাই পৃথিবী ত্যাগ করে মহাশূন্যে কোনো গ্রহে চলে যেতে হবে মানব জাতিকে !! আর এ গুলো হচ্ছে সব উদ্ভট আজব পরিকল্পনা ও কর্মসূচি।
মহান আল্লাহ বিশ্ববাসীকে উপকারী জ্ঞান - বিদ্যা , বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দিন ।

ইসলামী চিন্তাবিদ এবং গবেষক হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলেমিন মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান

 
 

 

captcha