
পবিত্র কুরআনের ১০৭তম সূরার নাম “মাঊন”। ৭টি আয়াত বিশিষ্ট এই সূরাটি পবিত্র কুরআনের শেষ পারায় অবস্থিত। এই সূরাটি মক্কী সূরা এবং নাযিলের ক্রমানুসারে এই সূরাটি ১৭তম সূরা যা প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)এর উপর নাযিল হয়েছে।
"মাউন" কে সম্পত্তি, সম্পদ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বা "যাকাত" হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এই শব্দটি এই সূরার শেষ আয়াতে এসেছে এবং এই কারণেই এই সূরাটির নাম "মাউন" রাখা হয়েছে।
এই সূরাটি তাদের জন্য হুমকিস্বরূপ যারা নিজেদেরকে মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন কিন্তু মুনাফিক ও কপট আচরণ করেছেন; যেমন নামায না পড়া, কাজে ভন্ডামি করা, যাকাত না দেওয়া, এগুলোর কোনটিই কিয়ামতের প্রতি ঈমান রাখার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এই সূরায় কিয়ামতের দিবসকে অস্বীকারকারীদের বৈশিষ্ট্য ও আচরণ পাঁচটি পর্যায়ে বর্ণিত হয়েছে; কর্মফলকে মিথ্যা প্রতিপাদন করা, এতিম ও দুর্বলদের সাহায্য না করা, নামাজে মনোযোগী না হওয়া, কাজের ক্ষেত্রে মুনাফিক হওয়া এবং অভাবীদের সাহায্য না করা।
এই সূরার প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে: أَ رَءَیْتَ الَّذِى یُکَذِّبُ بِالدِّینِ তুমি কি তাকে প্রত্যক্ষ করেছ? যে কর্মফলকে মিথ্যা প্রতিপাদন করে?
এ আয়াতে «دین» “দ্বীন” শব্দের অর্থ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ একে কেয়ামতের দিন মনে করে আবার কেউ একে কাজের পুরস্কার বা শাস্তি হিসেবে মনে করে। তাই যারা কিয়ামতের দিন বা খোদায়ী পুরস্কার ও শাস্তিতে বিশ্বাস করে না এবং অন্যায় কাজ করে তাদের কাজের সমালোচনা করা হয়েছে। এই সূরায় কেয়ামতের দিনকে অস্বীকারকারীদের অন্যায় কাজের কথা আরও উল্লেখ করা হয়েছে। মনে হয় যারা কেয়ামতের দিনে বিশ্বাস করে না তাদের সঠিক আচরণ এবং নৈতিকতা নেই কারণ তারা এই পৃথিবীতে জীবন দেখে এবং অন্য জগতে সুখ অর্জনের চেষ্টা করার দরকার নেই, এ কারণে তারা এমন কাজ করে যা নৈতিক ও ধর্মীয়ভাবে ভুল।
بِسمِ اللَّهِ الرَّحمـٰنِ الرَّحيمِ
أَرَأَيْتَ الَّذِي يُكَذِّبُ بِالدِّينِ
فَذَٰلِكَ الَّذِي يَدُعُّ الْيَتِيمَ
وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ الْمِسْكِينِ
فَوَيْلٌ لِلْمُصَلِّينَ
الَّذِينَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ
الَّذِينَ هُمْ يُرَاءُونَ
وَيَمْنَعُونَ الْمَاعُونَ
সূরা মাঊন
অসীম দয়াময় ও অনন্ত করুণাময় আল্লাহর নামে
(১) তুমি কি তাকে প্রত্যক্ষ করেছ? যে কর্মফলকে মিথ্যা প্রতিপাদন করে? (২) সে তো সে-ই যে পিতৃহীনকে রূঢ়ভাবে তাড়িয়ে দেয়, (৩) এবং সে অভাবগ্রস্তকে অন্নদানে উৎসাহ দেয় না। (৪) সুতরাং দুর্ভোগ সে সমস্ত নামায আদায়কারীর (৫) যারা তাদের নামায সম্বন্ধে উদাসীন, (৬) যারা লোক দেখানোর জন্য কর্ম করে (৭) এবং (গৃহস্থালীর প্রয়োজনীয়) ছোট-খাট জিনিস দিতে নিষেধ করে।