
কুরআন ইতিহাসকে কেবল অতীতের কাহিনি হিসেবে নয়, বরং বর্তমানের জন্য শিক্ষার আয়না হিসেবে উপস্থাপন করে। ২৪৬ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, হযরত মূসা (আ.)-এর পর বনী ইসরাঈল চরম দুরবস্থা ও নির্বাসনের মধ্যে তাদের নবীর কাছে যুদ্ধের জন্য একজন নেতা নির্ধারণের আবেদন জানায়। কিন্তু নেতৃত্ব নির্ধারণের পর তারা একাধিক পরীক্ষার মুখোমুখি হয়।
নবী যখন তালুতকে নেতা হিসেবে মনোনীত করেন, তখন অনেকে আপত্তি তোলে—কারণ তার খ্যাতি ও সম্পদ ছিল না। জবাবে বলা হয়, «فَإِنَّهُ مِنِّي» আল্লাহই তাকে নির্বাচন করেছেন এবং তিনি জ্ঞান ও শারীরিক সক্ষমতায় যোগ্য (বাকারা: ২৪৭)। এরপর আরেকটি পরীক্ষায় সৈন্যদলকে একটি নদীর পানি পান না করার নির্দেশ দেওয়া হয়; শুধু অল্প পরিমাণ হাতে তুলে পান করার অনুমতি ছিল। এ পরীক্ষায় অনেকেই ব্যর্থ হয়।
পরবর্তী ধাপে তালুতের বাহিনী শক্তিশালী জালুত ও তার সজ্জিত সেনাবাহিনীর মুখোমুখি হলে, কিছু লোক ভীত হয়ে পড়ে এবং যুদ্ধ করার সাহস হারায়। তবে একদল দৃঢ়বিশ্বাসী মুমিন আল্লাহর উপর ভরসা রেখে ঘোষণা করে: «كَمْ مِنْ فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةً كَثِيرَةً بِإِذْنِ اللَّهِ وَ اللَّهُ مَعَ الصَّابِرِينَ» “কত ছোট দল আল্লাহর অনুমতিতে বড় দলকে পরাজিত করেছে; আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন” (বাকারা: ২৪৯)।
এই বর্ণনা থেকে স্পষ্ট হয়, একটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া যথেষ্ট নয়। বরং নেতৃত্ব মেনে নেওয়া, দুনিয়ার লোভ পরিহার করা এবং শত্রুর সামনে অবিচল থাকা—এই তিনটি স্তর পেরিয়েই চূড়ান্ত বিজয় সম্ভব। যারা আল্লাহর প্রতিনিধি নেতৃত্বকে গ্রহণ করে, সম্পদের প্রলোভন থেকে নিজেকে রক্ষা করে এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও স্থির থাকে, তারাই শেষ পর্যন্ত বিজয়ের সুসংবাদ লাভ করতে পারে।
https://iqna.ir/en/news/3496777