মানুষের মতো সীমাবদ্ধ সত্তার কাছে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া মূলত তাদেরকে উৎসাহিত করা এবং পরীক্ষা নেওয়ার জন্য। এই পরীক্ষায় সফল হলে তারা বিশেষ প্রতিদান লাভ করে। উদাহরণস্বরূপ, যুদ্ধক্ষেত্রে অংশগ্রহণের আহ্বানে বলা হয়েছে: «قَاتِلُوهُمْ يُعَذِّبْهُمُ اللَّهُ بِأَيْدِيكُمْ» “তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর, আল্লাহ তোমাদের হাত দ্বারা তাদের শাস্তি দেবেন” (সূরা তাওবা: ১৪)।
কিন্তু যখন যোদ্ধারা বাস্তবে যুদ্ধক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়ে আল্লাহর সাহায্যের নিদর্শন প্রত্যক্ষ করে, তখন তারা আরও উচ্চতর জ্ঞান লাভ করে। এ পর্যায়ে কুরআনের ভাষাও আরও গভীর হয়: «فَلَمْ تَقْتُلُوهُمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ قَتَلَهُمْ» “তোমরা তাদের হত্যা করোনি, বরং আল্লাহই তাদের হত্যা করেছেন” (সূরা আনফাল: ১৭)। অর্থাৎ, যুদ্ধের বাস্তব নিয়ন্ত্রণ আল্লাহর হাতেই ছিল এবং তিনিই ফলাফল নির্ধারণ করেছেন।
সুতরাং, প্রথমে মুজাহিদদের উৎসাহিত করতে বলা হয়—সংগ্রাম করো, আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করবেন। কিন্তু তারা যখন এই আহ্বানে সাড়া দেয়, তখন তাদের এই সৎকর্মের প্রতিদান হিসেবে দেওয়া হয় ‘তাওহীদে আফ‘আলী’—অর্থাৎ সব কার্যক্রমে আল্লাহর একত্বের গভীর উপলব্ধি।
এই তাওহীদে আফ‘আলী হলো সেই মহান জ্ঞান, যা দৃঢ়সংকল্প যোদ্ধাদের জন্য আল্লাহর সর্বোচ্চ পুরস্কার। এতে তারা উপলব্ধি করে যে, আল্লাহই তাদের প্রকৃত অভিভাবক এবং সবকিছুর নিয়ন্ত্রক। এমনকি তীর নিক্ষেপের ঘটনাতেও বলা হয়েছে: «وَمَا رَمَيْتَ إِذْ رَمَيْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ رَمَى» “তুমি যখন নিক্ষেপ করেছিলে, তখন তুমি নিক্ষেপ করোনি; বরং আল্লাহই নিক্ষেপ করেছিলেন” (সূরা আনফাল: ১৭)।