
আরব ৪৮-এর বরাতে ইকনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুপ্রবেশ ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদেরও এ নিয়োগ প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হচ্ছে।
আল-আকসা মসজিদ এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইউনিটের উপ-কমান্ডার ড্যানিয়েল লের্শ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন। এসব গ্রুপের মধ্যে উগ্র ডানপন্থী কর্মী ও ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের গ্রুপও রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় লের্শ বলেন, “আমরা টেম্পল মাউন্টে (আল-আকসা মসজিদ এলাকা) ধর্মীয় পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগের একটি প্রকল্প শুরু করেছি। যারা রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার কাজে অংশ নিতে চান, তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।”
এদিকে, Haaretz পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুপ্রবেশকে সমর্থনকারী একাধিক উগ্রপন্থী কর্মী জানিয়েছেন যে, বিভিন্ন রাব্বি তাদের শিক্ষার্থীদের পুলিশ বাহিনীতে যোগদানের জন্য উৎসাহিত করছেন, যাতে সেখানে কর্মরত সদস্যদের মধ্যে “ইহুদি উপস্থিতি” আরও দৃশ্যমান হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত এক বছরে আল-আকসা মসজিদে নিয়মিত অনুপ্রবেশকারী বেশ কয়েকজন উগ্র ইহুদি পুলিশ বাহিনীতে যোগ দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, অধিকৃত জেরুজালেমের পুরাতন শহরের পবিত্র স্থানগুলোতে কর্মরত কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এবং তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষ কর্ম-সুবিধার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে সপ্তাহে মাত্র চার দিন অথবা মাসে দশ দিন কাজের সুযোগ, তুলনামূলক ভালো বেতন, সুবিধাজনক কর্মঘণ্টা এবং উগ্র জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির ব্যক্তিদের জন্য তথাকথিত “জাতীয় মিশনে” অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
পত্রিকাটি এক পুলিশ সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, টেম্পল মাউন্টপন্থী কর্মীরা বুঝতে পেরেছেন যে পুরাতন শহরের পবিত্র স্থানগুলোতে কাজ করার জন্য পুলিশ সদস্য নিয়োগ করা কঠিন। তাই তারা নিজেদের মতাদর্শের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ব্যক্তিদের সেখানে নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন।
ওই সূত্র আরও দাবি করে, “যতক্ষণ পর্যন্ত এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকে, ততক্ষণ তাদের নিয়োগে পুলিশের কোনো আপত্তি নেই।”
বিশ্লেষকদের মতে, আল-আকসা মসজিদ-সংক্রান্ত পুলিশ ইউনিটে উগ্রপন্থীদের নিয়োগ দখলদার কর্তৃপক্ষের নীতিগত পরিবর্তনের অংশ। সাম্প্রতিক সময়ে উগ্র ইহুদিদের অনুপ্রবেশ বৃদ্ধি পাওয়ার পর পুলিশ তাদের জন্য নির্ধারিত প্রবেশের সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়েছে এবং মসজিদ প্রাঙ্গণের ভেতরে তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের অনুমতিও দিতে শুরু করেছে।
সমালোচকদের মতে, ইতামার বেন-গভির-এর উদ্যোগে গৃহীত এসব পদক্ষেপ আল-আকসা মসজিদের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও প্রচলিত ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বেন-গভির আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণের ভেতরে ইসরায়েলি পতাকা উত্তোলনকে উৎসাহিত করেছেন। অথচ অতীতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হতো।
অন্যদিকে ধর্মীয় জায়নবাদী ধারার অন্যতম নেতা শমুয়েল এলিয়াহু চলতি সপ্তাহে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণের ভেতরে একটি উপাসনালয় (সিনাগগ) নির্মাণের আহ্বান জানিয়েছেন।4356300