ইকনা’র বরাত দিয়ে জানানো হয়, এসব গণমাধ্যম ঘোষণা করেছে যে, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তিতে ট্রাম্পই হেরেছেন।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম আরও বলেছে, স্টিভ উইটকাফ ও জারেদ কুশনার — দু’জনই ইহুদি — কাতারের বিপুল অর্থের বিনিময়ে কেনা হয়েছে এবং তারা তাদের ইসরায়েলি ভাইদের বিক্রি করে দিয়েছে।
এই গণমাধ্যমগুলো আরও জানায়, যেসব আরব দেশ নিজেদের ছায়াকেও ভয় পায়, তারা যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার জন্য উৎসাহ দিয়েছে এবং অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে ইরানকে কয়েকশ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব করেছে।
ইসরায়েলি টেলিভিশনের সাংবাদিক সুলায়মান মাসুদা এক বার্তায় লিখেছেন: “পারমাণবিক ইস্যু সমাধান হয়নি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়ও সমাধান হয়নি, আর ইরানিরা তেহরান প্রণালীতে (হরমুজ) নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। আপনাদের মতামত কী?”
ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেল ১৪ জানিয়েছে, ট্রাম্প আমাদের সঙ্গে যা করেছেন তা এতটাই খারাপ যে, তার ব্যাখ্যা দেওয়াও কঠিন।
এই ইসরায়েলি গণমাধ্যম আরও বলেছে, ইরানিদের জন্য বড় অর্জন হলো — অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে এবং এই চুক্তি অনুসারে ইসরায়েলকে অবিলম্বে লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে হবে।
ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেল ২৪ জানিয়েছে, ট্রাম্প ইরানিদেরকে অনেক বড় ছাড় দিচ্ছেন এবং বিনিময়ে কিছুই পাচ্ছেন না।
এই গণমাধ্যম ইসরায়েলি কনেসেট (পার্লামেন্ট) সদস্যদের বরাত দিয়ে বলেছে, ইরান ইস্যুকে লেবানন থেকে আলাদা করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
ইসরায়েলি চ্যানেল কান জানিয়েছে, নেতানিয়াহু ট্রাম্পের ইরানের সঙ্গে চুক্তির দ্রুতগতি রোধ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে লিখেছেন: “ইরান ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে চুক্তি এখন চূড়ান্ত হয়েছে এবং এজন্য সবাইকে অভিনন্দন জানাই।” ট্রাম্প তাঁর বার্তায় স্পষ্ট করে বলেছেন: “আমি এতদ্বারা হরমুজ প্রণালী অবাধে ও বিনা শুল্কে খুলে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছি এবং একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সমুদ্র অবরোধ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।”
তিনি হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে লিখেছেন: “বিশ্বের জাহাজগুলো, তোমাদের ইঞ্জিন চালু করো। তেলকে প্রবাহিত হতে দাও!”
এ প্রসঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, “আমরা আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে, নিবিড় আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি হয়েছে।”
আল-জাজিরার বরাত দিয়ে জানানো হয়, শেহবাজ শরিফ বলেন, “উভয় পক্ষ সব রণাঙ্গনে, লেবাননসহ, অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।”
এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আগামী শুক্রবার ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও বলেন, চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর মধ্যস্থতাকারীরা এই সপ্তাহে বিভিন্ন বৈঠক সহজ করার জন্য কাজ করবেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরব ও তুরস্কের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “এই চুক্তি অর্জনে তাদের অনন্য ও উল্লেখযোগ্য ভূমিকার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, কাতারও এই চুক্তি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। 4358296#